আ। কি বলুন দেখি?
ক। প্রায় আট দিন হইল একদিন সকালে দুঃখী কালীকে বলিতেছিল যে, সে আর একসঙ্গে থাকিবে না, স্বতন্ত্র রসুই করিয়া খাইবে। কালী অনেক বুঝাইল কিন্তু দুঃখী কিছুতেই তাহার কথা শুনিল না। সে কালীর নিকট হইতে চাউল চাহিল। অগত্যা কালী তাহাকে অর্দ্ধসের চাউল মাপিয়া দিল। কিন্তু তাহা দুঃখীর মনোমত হইল না। সে অনেক কথা শুনাইয়া দিল। কালীও ছাড়িবার পাত্র নহে। শেষে উভয়ের মধ্যে ঘোরতর বিবাদ হইল। এইরূপেই কলহ হইত।
আমি হাসিয়া উঠিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, “দোষ কাহার? বেশী দোষী কে?”
ক। কালী।
আ। কেন?
ক। কালী দুঃখীকে খাইতে দিত না।
আ। কেমন করিয়া জানিলেন?
ক। দুঃখীর মুখে শুনিয়াছি। দুঃখী আমাকে দাদা বলিয়া ডাকে। আমিও তাহাকে দিদি সম্বোধন করিয়া থাকি।
আমি হাসিয়া বলিলাম, “এ বড় মন্দ নয়। এ সুবাদ কেন? দুঃখীর সহিত আপনার আলাপ আছে না কি?”
আমার কথায় কম্পাউণ্ডার বাবু স্তম্ভিত হইলেন। তাঁহার মুখ সহসা মলিন হইয়া গেল, ললাটে বিন্দু বিন্দু ধর্ম্ম দেখা দিল, ঘন ঘন দীর্ঘনিশ্বাস পড়িতে লাগিল। তিনি সহসা কোন কথা করিতে পারিলেন না।
কিছুক্ষণ পরে কম্পাউণ্ডার বাবু আমার মুখের দিকে চাহিয়া