কম্পাউণ্ডার বলিলেন, যাহার নাম সকলের উপরি লেখা আছে সেই সকলের প্রিয়।
আমি হাসিয়া উঠিলাম; এবং অগ্রাহ্যভাবে সেই কাগজখানি কম্পাউণ্ডার বাবুকে ফেরৎ দিলাম, তিনিও আশ্বস্ত হইলেন এবং তখনই গ্রহণ করিয়া ছিঁড়িয়া ফেলিলেন। আমি যে পূর্ব্বেই উক্ত কাগজে লিখিত সকলের নাম ও নাম কণ্ঠস্থ করিয়া রাখিয়াছিলাম, তাহা তিনি বুঝিতে পারিলেন না।
কিছুক্ষণ পরে আমি হাসিতে হাসিতে জিজ্ঞাসা করিলাম, “রামের দুই স্ত্রীর মধ্যে আপনি কাহাকে সুন্দরী বলেন?”
ক। আমার মতে বড়ই সুন্দরী, তবে তাঁহার বয়স কিছু বেশী।
আমি শশব্যস্তে সে কথায় সায় দিলাম। বলিলাম, “আপন ঠিক কথাই বলিয়াছেন। উভয়ের মধ্যে আমিও কালীকেই সুন্দরী বলিয়া জানি। নিজে দেখি নাই বটে কিন্তু পাড়ার লোকেরা কালীর বিষয়ে যাহা বলিতেছিল তাহাই শুনিয়াছি।”
বাধা দিয়া কম্পাউণ্ডার বাবু বলিয়া উঠিলেন, “কি করিব বলুন, সে জন্য আর এখন আপশোষ করি কেন? চেষ্টা করিয়াছিলাম, কৃতকার্য্য হই নাই। এখন যাহাকে পাইয়াছি, তাহাকে লইয়াই সন্তুষ্ট থাকি।”
এই বলিয়া তিনি হাসিতে লাগিলেন। সেই সময় আমার কোচমান ফিরিয়া আসিল। মেরামতের কথা জিজ্ঞাসা করিলে সে বলিল, কার্য্য সিদ্ধ হইয়াছে এবং আমাকে তখনই গাত্রোত্থান করিতে অনুরোধ করিল।
আমি গাত্রোত্থান করিলাম দেখিয়া কম্পাউণ্ডার বাবু বাহ্যিক দুঃখিত হইলেন। তিনি আমাকে আরও কিছুক্ষণ সেখানে