বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রেমের খেলা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৮
দারোগার দপ্তর, ১৯৭ সংখ্যা।

 পূর্ব্বেই বলিয়াছি, মনমোহন বাবুর শরীরে অসুরের বল ছিল। চারি পাঁচজন কনষ্টেবল অতি কষ্টে তাঁহাকে গ্রেপ্তার করিল। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, “আমাকে চিনিতে পারিয়াছেন কি মনমোহনবাবু? আমি সেই ডাক্তার।”

 আমার কথার পর কম্পাউণ্ডার বাবু যে ভাবে আমার দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন, তাহাতে বোধ হইল যে, তাঁহার হস্তদ্বয় আবদ্ধ না হইলে তিনি আমাকে খুন করিতেন।

 কম্পাউণ্ডার বাবু কোন কথা কহিলেন না। তিনি কেবল আমার মুখের দিকে হাঁ করিয়া চাহিয়া রহিলেন দেথিয়া, আমি আবার বলিলাম, “যখন আমি রামের বাড়ীতে তদারক করিতে আসিয়াছিলাম, তখন আপনাকে দুঃখীর সহিত যেভাবে কথা কহিতে শুনিয়াছিলাম, তাহাতে আমার স্পষ্টই বিশ্বাস হইয়াছিল যে, আপনাদের মধ্যে অবৈধ প্রণয় আছে। কালীর সহিত দুঃখীর প্রায়ই বিবাদ হইত। সুতরাং দুঃখীর আন্তরিক ইচ্ছা, কালী সেখান হইতে দূর হয়, আপনি দুঃখীর দুঃখে দুঃখিত হইয়া কালীকে খুন করিয়াছেন। কালীর ঘরে যে পদচিহ্ন দেখিয়াছি, তাহার সহিত আপনার পদচিহ্নের কোন প্রভেদ নাই। আপনার পদচিহ্ন ভাল করিয়া দেখিবার জন্যই আমি এখানে আসিয়াছিলাম—আমার গাড়ীখানি ইচ্ছা করিয়াই ভাঙ্গা হইয়াছিল। কালী দুঃখীর চেয়েও সুন্দরী। আপনি দুঃখীকে পাইয়াও কালীর চেষ্টায় ফিরিতেন। কিন্তু কালী তেমন ছিল না। সে সতী লক্ষ্মী, স্বর্গে গিয়াছে। সে আপনার কথায় রাজী হয় নাই। সেই জন্য তাহার উপর আপনার ভয়ানক আক্রোশ ছিল। এই সকল কারণে আপনি সে রাত্রে সুবিধা পাইয়া কালীর ঘরে প্রবেশ করেন এবং সম্ভবতঃ