অন্যায় প্রস্তাব করেন। কালী সম্মত হয় নাই। তখন আপনি এই রুমালখানি তাহার মুখে চাপা দেন। রুমালখানিতে ক্লোরফরম মাখান ছিল। কাজেই কালী অজ্ঞান হইয়া পড়ে, তখন আপনি স্বহস্তে তাহাকে হত্যা করেন এবং সেই দড়ীতে ঝুলাইয়া রাখেন।” এই বলিয়া রুমালখানি বাহির করিলাম। কম্পাউণ্ডারবাবু তখনও কোন কথা কহিলেন না দেখিয়া আমি তাঁহাকে লইয়া থানায় ফিরিয়া আসিলাম।
উপসংহার।
থানায় আসিয়া মনমোহন সম্পূর্ণ বশীভূত হইলেন। ভাবিয়াছিলাম, তিনি কোন কথাই স্বীকার করিবেন না। হয়ত সঞ্চল কথা প্রমাণ করিবার জন্য আবার আমায় বিলক্ষণ কষ্ট পাইতে হইবে। কিন্তু সেরূপ কিছুই করিতে হইল না।
তিনি সকল কথাই স্বীকার করিলেন। তিনি বলিলেন, “কালীর উপর আমার বহুদিন হইতেই আক্রোশ ছিল। সে আমার কথায় রাজী হইত না। এমন কি, মধ্যে মধ্যে আমাকে নানাপ্রকার ভয় দেখাইত। তাহার উপর রাগ হইবার আরও একটা কারণ ছিল। সে দুঃখীকে বড় কষ্ট দিত। দুঃখী আমার বড় বাধ্য, আমি তাহাকে যেরূপ বলিতাম, সেও তাহাই করিত। আমাদের ভিতর গুপ্ত প্রণয় ছিল। আমি দুঃখীকে আন্তরিক ভালবাসিতাম এবং কালী যাহাতে তাহাকে উৎপীড়ন করিতে না পারে, তজ্জন্য বিশেষ চেষ্টা করিতাম। কিন্তু যতদিন রাম নিকটে ছিল, ততদিন আমি কিছুই করিতে