নিঃসরণ হইল না। কিন্তু পরক্ষণেই আত্মসংবরণ করিয়া বলিলেন, আজ বেলা আটটার সময় রামচন্দ্র বাড়ীতে ফিরিয়া যখন ভয়ানক চীৎকার করিতেছিল, তখন আমি জানিতে পারিলাম যে, রামের বাড়ীর দরজা খোলা হয় নাই। এ বাড়ীর সদর দরজা অতি ভোরেই খোলা হয়। কিন্তু আজ তাহা হয় নাই দেখিয়া আমার সন্দেহ হইল। আমি রামকে দরজা ভাঙ্গিয়া ভিতরে প্রবেশ করিতে পরামর্শ দিলাম। রাম আমার কথা মত কার্য্য করিল এবং ভিতরে গিয়া এই ব্যাপার অবলোকন করিল। আমরা তথনই উহাকে পুলিসে সংবাদ দিতে পাঠাইয়া দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে এই জমাদার ও এই সকল কনষ্টেবল এখানে আসিয়া উপস্থিত হইল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
কম্পাউণ্ডার বাবুর কথা শেষ হইতে না হইতে ডাক্তার বাবু তথায় উপস্থিত হইলেন। তিনি প্রথমেই লাস পরীক্ষা করিয়া বলিলেন, “শ্বাসরোধ হইয়া ইহার মৃত্যু হইয়াছে। ইহার চক্ষু ও মুখের অবস্থা দেখিলে স্পষ্টই জানিতে পারা যায় যে, যদিও শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার ইহার মৃত্যু হইয়াছে, তত্রাপি ইহা আত্মহত্যা নহে। যদি গলায় দড়ি দিয়াই এই স্ত্রীলোক মারা পড়িত, তাহা হইলে ইহার গলদেশের দড়ির গাঁইট যে স্থানে আছে ঐ স্থানে থাকিত না, জিহ্বা বাহির হইয়া পড়িত, হস্তশ্বরের বৃদ্ধ অঙ্গুলি ঈষৎ বক্রভাব ধারণ করিত, যখন তাহা হয় নাই, তখন ইহা কখনও আত্মহত্যা হইতে