বলিয়া বোধ হইল। তাহার বাড়ীখানি পাকা—নিতান্ত ক্ষুদ্র নহে এবং দ্বিতল। সম্ভবতঃ সেই বিবাহ উপলক্ষে বাড়ীখানি ভাল করিয়া সংস্কার করা হইয়াছিল। দূর হইতে বাড়ীখানিকে দেখিলে একখানি ছবি বলিয়া বোধ হয়।
বাড়ীর সদর দরজায় দুইজন দরোয়ান উত্তম বেশ-ভূষায় সজ্জিত হইয়া অপেক্ষা করিতেছিল, আমাকে দেখিয়া দুইজনেই সেলাম করিল। প্রতি-নমস্কার করিয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “মুনসী আবদুল সাদেক কোথায় আছেন?”
আবদুল সাদেকের নামটী উচ্চারিত হইবামাত্র একজন দরোরান শশব্যস্তে আমাকে লইয়া উপরের বৈঠকখানায় প্রবেশ করিল এবং একজন সম্ভ্রান্ত তদ্রলোককে প্রদর্শন করিয়া আমাকে সেই স্থানে উপবেশন করিতে অনুরোধ করতঃ তথা হইতে প্রস্থান করিল।
আমি দেখিলাম, ঘরটী ক্ষুদ্র হইলেও বাদসাহীধরণে সজ্জিত। ঘরের মধ্যে ঢালা বিছানা। বিছানার চারিপার্শ্বে আটটী মোটাসোটা তাকিয়া। চারিটী দেওয়ালে কতকগুলি দেয়ালগিরি, উপরে তিনটী বড় বেলোয়ারী ঝাড়। ঘরের একপার্শ্বে একখানা বড় আয়না—আয়নার উপরে একটা প্রকাণ্ড ঘড়ী। অপর পার্শ্বে একটা দেরাজ, একটা আলমারি ও গোটাকতক সেল্ফ ছিল।
আমি যখন বৈঠকখানার ভিতর প্রবেশ করিলাম, তখন দুইজন লোক গোপনে কি কথাবার্ত্তা কহিতেছিলেন। কিছুক্ষণ পরে যখন তাহাদের মধ্যে একজন অপরের নিকট বিদায় লইয়া প্রস্থান করিলেন, তখন অপর ব্যক্তি আমার দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহাশয়, এখানে কাহার অন্বেষণে আসিয়াছেন?”