আব। কে বিষ দিল?
আ। কেমন করিয়া জানিব? তাহারই সন্ধান করিতেছি। আপনার বাড়ীতে কল্য কত লোক আহার করিয়াছিল?
আব। প্রায় চারিশত।
আ। সকলেই কি একই প্রকার খাদ্যদ্রব্য ভোজন করিয়াছিলেন?
আব। আজ্ঞে হাঁ।
আ। আপনার পরিচিত আর কোন লোকের কোন প্রকার অসুখের কথা শুনিয়াছেন?
আব। আজ্ঞে না। ইচ্ছা করেন আপনি স্বয়ং তাঁহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিতে পারেন। নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণের মধ্যে প্রায় সিকি লোক আমাদের পল্লীতেই বাস করেন।
আবদুল সাদেকের কথা শুনিয়া আমি কোন উত্তর করিবার পূর্ব্বেই উপস্থিত কয়েকজন লোক হাসিয়া উঠিলেন। তাহাদের মধ্যে একজন বলিলেন, “বলেন কি মহাশয়! আবদুল ধনবান নহে বটে কিন্তু গতকল্য যে সকল খাদ্য প্রস্তুত হইয়াছিল, তাহা অনেক রাজা মহারাজার বাড়ীতেও হয় কি না সন্দেহ।”
আর একজন বলিলেন, “এই ত ঘৃত আজ-কাল অত্যন্ত মহার্ঘ্য, কিন্তু তাহা হইলেও ইনি যে ঘত ব্যবহার করিয়াছেন, তাহার মূল্য প্রতি মন ষাইট টাকা। যিনিই বলুন, আজ-কালের বাজারে দেড় টাকা সেরের ঘৃত দিয়া দ্রব্যাদি প্রস্তুত করিতে পারেন না।”
আর একজন বলিলেন, “আরে রেখে দাও বড়লোক। ধৃতের গন্ধে বাড়ীতে প্রবেশ করা দায়। এ সে জায়গা নয়।”
শেষোক্ত তিন ব্যক্তি যেরূপ ব্যগ্রতা সহকারে ঐ কথাগুলি