বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রেম-পাগলিনী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬
দারোগার দপ্তর, ১৯৮ সংখ্যা।

 প্রায় দশ মিনিট আন্দাজ একটা জানালার পার্শ্বে লুকাইয়া যখন পূর্ব্বোক্ত কথাগুলি শুনিলাম, তখন ভাবিলাম, এতক্ষণে বোধ হয় প্রকৃত সূত্র পাইবার আশা হইল।

 সুযোগ বুঝিয়া আমি বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিলাম এবং সেই বৈঠকখানার দ্বার সমীপে দাঁড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, মহাশয়, হোসেন আলি কাহার নাম? শুনিলাম, তিনি এই বাড়ীতেই বাস করেন।”

 হোসেন আলি স্বয়ং দাঁড়াইয়া আমার অভ্যর্থনা করিলেন এবং অতি যত্নের সহিত নিকটে বসিতে বলিলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি আমার দিকে চাহিয়া অতি বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহাশয়! আপনার কোন্ কার্য্য করিব বলুন?”

 আমি হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, মলঙ্গায় মহম্মদ নামে আপনার না কি এক মাতুল বাস করেন। গত কল্য তাহার সহসা মৃত্যু হইয়াছে শুনিয়াছেন বোধ হয়?”

 হোসেন আলি সায় দিয়া বলিলেন, “আজ্ঞে হাঁ, শুনিয়াছি বটে, মহম্মদ নামে আমাদের এক মুসলমান সহসা মারা পড়িয়াছেন। কিন্তু তিনি আমার মাতুল নহেন।”

 আ। তবে মহম্মদের প্রতিবেশীগণ সে কথা বলে কেন? আপনি নিশ্চয়ই মাতুল সম্বোধন করিতেন।

 হোসেন আলি হাসিতে হাসিতে উত্তর করিলেন, “আজ্ঞে হাঁ, করিতাম বটে।”

 আ। তবে আপনার সহিত সে বাড়ীর ঘনিষ্ট সম্বন্ধ আছে!

 হো। সে কি?