জানালা খোলা ছিল আমি সেই জানালার নিকট দাঁড়াইয়া উঁকি মারিয়া ভিতরে দেখিলাম। যাহা আমার দৃষ্টিগোচর হইল, তাহাতে মাল্কাই যে মহম্মদকে খুন করিয়াছে তাহা স্পষ্টই বুঝিতে পারিলাম; এবং আর সেখানে অপেক্ষা না করিয়া হোসেনআলিকে তথায় রাখিয়া আমি একাই ভিতর প্রবেশ করিলাম।
ভিতরে চাহিয়া দেখিলাম, মাল্কা একজন অপর পুরুষের সহিত কথা কহিতেছে। মালকা যদিও অনেকবার আমাকে দেখিয়াছিল, তত্রাপি ছদ্মবেশে ছিলাম বলিয়া সে তখন আমাকে চিনিতে পারিল না, কিন্তু আমি ও আত্ম পরিচয় না দিয়া থাকিতে পারিলাম না। অতি কর্কশস্বরে জিজ্ঞাসা করিলাম, মাল্কা? তুমি এই রাত্রে এখানে কেন?
আমার চীৎকার ধ্বনি শুনিয়া হোসেনআলি বেগে সেই গৃহের মধ্যে প্রবেশ করিলেন এবং সত্যই সত্যই মালকাকে দেখিয়া বলিয়া উঠিলেন, কি সর্ব্বনাশ! এই রাত্রে এতদূরে আসিয়া কি কার্য্য করিতেছ? কাল তোমার স্বামীর সহসা মৃত্যু হইল, আর আজ কি না এই রাত্রিকালে স্বচ্ছন্দে এতদূরে আসিয়া একজন পরপুরুষের সহিত হাস্য পরিহাস করিতেছ? এই জন্যেই বুঝি তুমি আমাকে বিবাহ করিতে চাহিয়াছিলে? এখন তোমাদের সমস্ত ব্যাপার বুঝতে পারিয়াছি।”
মাল্কা কোন উত্তর করিল না। স্থানে দাঁড়াইয়া রহিল। সে অবনতমস্তকে সেই তখন আমি সেই যুবককে জিজ্ঞাস! করিলাম, “তোমার নাম কি বাপু? এই কুটীরখানি কাহার?”
যুবককে বলবান বলিয়া বোধ হইল। কিন্তু আমার কর্কশ কথায় সে কোন উচ্চবাচ্য করিল না। অতি ধীরে ধীরে বলিল,