বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রেম-পাগলিনী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রেম-পাগলিনী।

 শয্যার উপর এক বৃদ্ধের মৃতদেহ। সর্ব্বাঙ্গে একখানি মোটা চাদর দিয়া আবৃত। বৃদ্ধের মুখে তখনও ফেণা; চক্ষু রক্তবর্ণ এবং উন্মীলিত মুখভঙ্গী অতি বিকট। তাহাকে দেখিয়া বোধ হয়, তাহার বয়স প্রায় ষাইট বৎসর। দেখিতে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, শীর্ণ কিন্তু জরাগ্রস্ত বলিয়া বোধ হইল না।

 গৃহ মধ্যে আরও দুইজন লোক ছিল, উভয়েই রমণী। একজনকে যুবতী বলিয়া বোধ হইল, তাহার সর্ব্বাঙ্গ বস্ত্রাবৃত, মুখে ঘোম্‌টা। অপরা প্রৌঢ়া, বয়স প্রায় পঞ্চাশ বৎসর।


 যে পুলিস-কর্ম্মচারী বাড়ীর ভিতরে ছিল, তাহার মুখে শুনিলাম, যে বৃদ্ধের মৃত্যু হইয়াছে, তাহার নাম মহম্মদ,—সেই বাড়ীর মালিক। সে আতসবাজী বিক্রয় করিয়া জীবিকা নির্ব্বাহ করিত। মেছুয়াবাজারে তাহার একখানি বাজীর দোকান আছে এবং কাঁকুড়গাছিতে একখানি বাগানও জমা আছে। সরকার বাহাদুরের আদেশ মত সেই বাগানেই মহম্মদ আতসবাজী প্রস্তুত করিত। সে নিতান্ত দরিদ্র নহে, আপনার ও পরিবারের ভরণ-পোষণ সংগ্রহ করিতে তাহাকে পরের দ্বারে দ্বারে ঘুরিতে হইত না। . বরং সে অপরকে মধ্যে মধ্যে দুই চারি টাকা কর্জ্জ দিয়া উপস্কার করিত। সেইদিন বেলা দশটার সময় মহম্মদ ভগ্নীর বাড়ীতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে গিয়াছিল। যখন বাড়ী ফিরিয়া আসিল, তখন বেলা প্রায় চারিটা। বাড়ীতে আসিয়াই স্ত্রীর সহিত দুই একটা কথাবার্ত্তার পর সে শয়ন করিয়াছিল। প্রায় এক ঘণ্টার পর হঠাৎ সে গোঁ গোঁ শব্দ করিতে আরম্ভ করে। তাহার স্ত্রী সেই শব্দ শুনিয়া দৌড়িয়া ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়া যাহা দেখিল, তাহাতে তাহার বড়ই ভয় হইল। সে দেখিল, তাহার স্বামী গোঁ গোঁ শব্দ করিতেছে, তাহার মুখ দিয়া