মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া কোন স্থানে কোনরূপ আঘাতের চিহ্ন দেখিতে পাইলাম না। গলদেশ কোনরূপ স্ফীত বলিয়া বোধ হইল না। চক্ষুদ্বয় ঘোর রক্তবর্ণ ও দৃষ্টি ঊর্দ্ধ হইলেও চক্ষু কোটর হইতে বহির্গত হয় নাই। মুখে তখনও সামান্য ফেণা লাগিয়া ছিল। মুখের ভঙ্গী অতি ভয়ানক। অল্পবয়স্ক বালক বালিকাগণ সে মুখ দেখিয়া আতঙ্কে চীৎকার করিয়া পলায়ন করিবে।
পরীক্ষা দ্বারা যতদূর বুঝিতে পারিলাম, তাহাতে বিষপানে মৃত্যু বলিয়াই বোধ হইল। এখন কোন্ বিষে তাহার মৃত্যু তাহাই দেখিতে হইবে। উহা আমার অসাধ্য; লাস সরকারি ডাক্তারের নিকট পাঠাইতে হইবে। কিন্তু তাহার পূর্ব্বেই আমাকে কতকগুলি বিষয় জানিতে হইয়াছিল।
পুলিস-কর্ম্মচারীর মুখে শুনিয়াছিলাম, যুবতী সেই বৃদ্ধের স্ত্রী। আমার কেমন সন্দেহ হইল;— বৃদ্ধের বয়স ষাইট বৎসর, যুবতীর বয়স পনর বৎসরের অধিক নহে, বৃদ্ধের বয়সের সিকি অর্থাৎ তাহার পৌত্রীর বয়সের সমান; বড়ই বিসদৃশ বলিয়া বোধ হইল। জিজ্ঞাসা করিলাম, বৃদ্ধের কয় বিবাহ? উত্তরে প্রৌঢ়ার মুখে শুনিলাম, শত্রুর মুখে ছাই দিয়া বৃদ্ধ উপর্যুপরি চারিটী বিবাহ করিয়াছে। বর্ত্তমান যুবতী তাহার চতুর্থ স্ত্রী। সৌভাগ্য বশতই বলুন, আর দুর্ভাগ্য বশতই বলুন, মহম্মদের একটাও সন্তান জন্মে নাই।
এই সকল কথা অবগত হইয়া আমি প্রৌঢ়ার দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, যাঁহার বাড়ীতে মহম্মদ আজ নিমন্ত্রণে গিয়াছিল, তিনি মহম্মদের কে?
প্রৌ। ভগ্নী।
আ। কেমন ভগ্নী? সহোদরা?