প্রৌঢ়া আমার মুখের দিকে হাঁ করিয়া চাহিয়া রহিল। কিন্তু খুবতী ঘোম্টার ভিতর হইতে অতি মৃদুস্বরে উত্তর দিল, “হাঁ—মার পেটের বোন।”
যদিও কথাগুলি মৃদুস্বরে উচ্চারিত হইয়াছিল, তথাপি আমি শুনিতে পাইলাম। প্রৌঢ়াও তখন তাহার কথায় সায় দিয়া বলিল, “হাঁ হাঁ, রমজানী মহম্মদের মার পেটের বোন।
আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলাম, “সেখানে কি উপলক্ষে এই নিমন্ত্রণ?”
প্রৌঢ় এবার আমার কথা বুঝিতে পারিল। সে তথনই উত্তর করিল, “ভগ্নীর বিবাহ।”
আ। কবে? হইয়া গিয়াছে?
প্রৌ। না,—এখন ও হয় নাই; কার্ত্তিক মাসের আজ চার তারিখ, মাসের দশ দিনে বিবাহ। আজ হইতে আমোদ আহ্লাদ খাওয়া ইত্যাদি আরম্ভ। কিন্তু হায়, মহম্মদের অদৃষ্টে নাই; বেচারার কেন যে এমন হইল, কে বলিতে পারে?”
আ। আজ কখন মহম্মদ সেখানে গিয়াছিল?
প্রৌ। ইনি বলিতেছেন, বেলা প্রায় দশটার সময়।
আ। তুমি কে? তুমি কি এ বাড়ীর লোক নও?
প্রৌ। আজ্ঞে না—অমি এই পাড়াতেই বাস করি বটে কিন্তু এ বাড়ীর লোক নহি।
আ। তবে তুমি এখানে কেন?
প্রৌ! যখন মহম্মদের মুখ দিয়া ফেণা বাহির হইতেছিল এবং সে গোঁ গোঁ শব্দ করিতেছিল, তখনই মালকা ভয়ে আমাকে ডাকিয়া আনিল, আমি সেই সময় হইতেই এখানে আছি।