পাতা:ফিরিঙ্গি-বণিক্.djvu/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাহুবল . ভিমুখে অগ্রসর হইয়া, কালিকটের ছত্রভঙ্গ সেনাদলের সহিত মিলিভ হইতে পারিলে, ফিরিঙ্গি-বণিকেরা সৰ্ব্বনাশ হইত। আমীর হোসেন কালিকটের নিকটবৰ্ত্তী হইবার পূৰ্ব্বেই, ফিরিঙ্গির নৌবাহিনী কর্তৃক মধ্যপথে আক্রান্ত হইলেন। আলুমিড়ার দ্বাবিংশবর্ষ-বয়স্ক যুবা পুত্ৰ লোরেঞ্জো এই জলযুদ্ধে ফিরিঙ্গি-বণিকের আধিপত্য-রক্ষার্থ প্রাপবিসজ্জন করিলেন। যুদ্ধের প্রথম উপক্ৰমেই গোলার আঘাতে তঁাহার পদদ্বয় ভগ্ন হইয়া গেল । তিনি আহত কলেবরে মাস্তুলের নিকটে বসিয়া সেনাচিালনা করিতে করিতে প্ৰাণত্যাগ করিলেন। হিন্দু-মুসলমানের নৌবাহিনী জয়লাভ করিয়াও, এই অসাধারণ আত্মত্যাগ দর্শনে শত্রুপক্ষের জয়ধ্বনি কািরয়া উঠিল ; সমুচিত সমাদরে বীণুপুরুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সুসম্পন্ন করিয়া, বীরপুত্রের অলৌকিক বীরত্বের জন্য আলুমিডাকে অভিনন্দন কাব্লিতে লাগিল । এই যুদ্ধে জয়লাভ করিয়াও, হিন্দু-মুসলমান স্থায়ী ফললাভ করিতে পারল না। পর বৎসরে তাহারা আবার পরাভূত হইয়া গেল। এই যুদ্ধ ভিউ নগরের সম্মুখে সংঘটিত হইয়াছিল । ইহা ভারতযুদ্ধের মধ্যে চিরস্মরণীয় হইয়া রহিয়াছে। এই যুদ্ধে সমগ্ৰ এসিয়া খণ্ডের ভাগ্যবিপৰ্য্যয় সম্পন্ন হইয়া গেল ; এই যুদ্ধে সমস্ত ইউরোপের অভু্যদয়লাভের পথ প্রশস্ত হইয়া পড়িল ; এই যুদ্ধে এসিয়া আঁধার, ইউরোপ সৌভাগ্যের আলোকে উচ্চািমল হুইয়া উঠিল । ১৫০৯ খৃষ্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারী তারিখে এই মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয় । পর্তুগাল-প্লাজ ভারতসাগরে ফিরিঙ্গি-বণিকের আধিপত্য চিরসংস্থাপিত করিবার আশায় নৌসেনাবাল বদ্ধিত করিয়াছিলেন। সৰ্ব্বাপেক্ষা সুবৃহৎ অর্ণবপো'ত সকল ভারতসাগরেই প্রেরিত হইয়াছিল ; সৰ্ব্বাপেক্ষা সুদক্ষ পোতাধ্যক্ষগণ তাহায় পরিচালন-কাৰ্য্যে নিযুক্ত হইয়াছিল ; সৰ্ব্বাপেক্ষা সাহসী নৌসেনাদল তাহাতে আরোহণ করিয়া, ভারতবর্ষে উপ