পাতা:ফিরিঙ্গি-বণিক্.djvu/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SS ফিরিঙ্গি-বণিক থাকে, তাহার কারণ ছিল । তাহা কালধৰ্ম্ম । ফিরিঙ্গি-বণিক এসিয়াতে আসিয়া যেরূপ অসহায় অবস্থায় পতিত হইয়াছিল, তাহাতে তাহদের নিষ্ঠুর ব্যবহারই তাহাদের আত্মরক্ষার উপায় বলিয়া স্বীকৃত হইবার যোগ্য। তাহাদেৱ সংখ্যা এত অল্প, তাহদের অবস্থা এত বিপদসঙ্কুল,- তাহারা নিষ্ঠুর ব্যবহার না করিলে, আত্মরক্ষা করিতে পারিত না।” এ সকল কথা একালের ইতিহাসলেখকদিগের নিজের কথা,-তাহাদের কল্পনাপ্রস্তুত উপাখ্যানমাত্র । সেকালের ইতিহাসলেখকগণ এরূপ কৈফিয়তের অবতারণা করেন নাই । যাহারা অলঙ্কারলুণ্ঠনের লোভে অসহায় মহিলাবর্গের নাসা কৰ্ণচ্ছেদন করিতে কুষ্ঠিত হইত না, তাহাদের নিষ্ঠুর ব্যবহারের পক্ষসমর্থন করা অসম্ভব । তাহা বৰ্ব্বরতামাত্র। সেকালের ইউরোপ এরূপ বর্বরতা পরিত্যাগ করিয়া উঠিতে পারে নাই ;- যেখানে গিয়াছে, সেইখানেই ফিরিঙ্গির বর্বরতায় মানবসমাজ ব্যতিব্যস্ত হইয়া উঠিয়াছে। এই স্বভাবসুলভ বর্বরতার সহিত ধৰ্ম্মান্ধত মিলিত হইয়াছিল ; স্বাৰ্থচিন্তায় তাহা উত্তরোত্তর বীভৎস মূৰ্ত্তি ধারণ করিয়াছিল। সেনাপতিগণ যুদ্ধজয়ের সংবাদ লিপিবদ্ধ করিবার সময়ে অমানবদনে লিখিয়া পাঠাইতেন,-“কুকুরগুলাকে কাটিয়া ফেলা হইয়াছে, তাহারা আর কি প্ৰত্যাশা করিতে পারে ?” কেহ বা লিখিয়া পাঠাইতেন,- “একজনকেও ছাড়া হয় নাই,-কি স্ত্রীলোক, কি বালক, সকলকেই নিহত করা হইয়াছে।” একজন সুবিখ্যাত আধুনিক ইতিহাসলেখক লিখিয়া গিয়াছেন,-“পর্তুগালের লোকে তাহাদের ক্ষমতার অতীত দিগ্বিজয়কাৰ্য্যে লিপ্ত হইয়াছিল বলিয়াই, এই সকল গৰ্হিত উপায় অবলম্বন করিতে বাধ্য হইয়াছিল । * এই সকল “গৰ্হিত উপায়ের” a Terrorism had to take the place of strength. It was a device to which the Portuguese were compelled by plans of conquest beyond their national resources.-Sir W. Hunter's History of British India, vol. I. I.4. I