নিজের কথা
রোজই কত স্বপ্ন দেখছি, কত কি ভাবছি, কত কিছুই যে ঘটে যাচ্ছে, তার কি কোনো হিসেব থাকে। হয়তো একটি ঝোঁপের ওপর নাম-না-জানা কয়টি ফুল ফুটেছে; একটি রঙিন প্রজাপতি এসে উড়োউড়ি করে এসে বসলো একটি ছোট্ট মেয়ে প্রজাপতিকে ধরার জন্য পা টিপে টিপে কাছে যেতেই ঝোপের আড়াল থেকে একটি বুলবুল 'ফুড়ুৎ' করে উড়ে গেল । আনন্দ আর বিস্ময়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো মেয়েটি ! কিম্বা হাচির চোটে দাদুর নকল দাঁত আলগা হয়ে হুঁকোর নল নাকে সেধেলি ! অথবা বগলে ছাতা রেখে পাঠশালার পণ্ডিতমশাই সার৷ ৰাড়ী ছাতার খোঁজে তন্ন তন্ন করছেন ! নয়ত ঘর সাফ করতে গিয়ে রাখাদি একেবারে ঝুল-কালি মেখে কিম্ভুত কিমাকার হয়ে বেরিয়েছেন! কৌতূক ছেলেমেয়ে ফিক্ ফিক্ করে চাপা হাসিতে নেচে উঠলো । এই আনন্দ-বিস্ময়-হাসি-কৌতুক আর অদ্ভুত সব স্বপ্ন, আলগুৰি ভাবনা-কল্পনা নিয়েই ছড়ার জগৎ । বলা যায় রস জগৎ। আমি এই রস জগৎকে ভালোবাসি তাই ছড়া লিখি। ছড়া শুধু ছোটদের ? ছোট মাছ দলে ভেসে বেড়ায় আনন্দে ঠিকই, কিন্তু গভীর জলের বড়ো মাছও মেঘের ডাকে ভেসে ওঠে, বুক ভরে স্বাল নেয়, হালকা হয় । বড়োরা প্রায়ই প্রয়োজনীয় সিরিয়াস কাজ নিয়ে থাকেন। ছড়ার জগতে এলে তারাও মুহূর্তের জন্যে হাল্কা হন, আনন্দ পান; হয়তো একটু ভাবেনও কিন্তু এ ভাবনা মাথা ধরায় না— মন ভরায় ।
শ্রদ্ধেয় শ্রীতপোজ্যোতি ভট্টাচার্য, শ্রীপ্রশান্তসাধন চৌধুরী ও বন্ধুৰর শ্রীঅমিত দাস আমার ছড়া পড়ে শুনে উৎসাহ দিয়েছেন অনেক। প্রকাশের জন্ম বন্ধুবর শ্রীতুষারকান্তি নাথের ভুমিকা সবার আগে। বইয়ের আকারে আর এই ছোট্ট ছড়া সংকলন 'ফুড়ুৎ'-এর ভুমিকা লিখে দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় কবি অগ্রগণ্য ঐ শক্তিপদ ব্রহ্মচারী। ওঁদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ ।
‘ফুড়ুৎ'-এর ছড়া পড়ে হাসি-আনন্দ পেলে তবেই এর সার্থকতা — আর আমার ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা।
হাফলং ২৪ আশ্বিন, ১৩৯৬