বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ফুলের মালা.djvu/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

*58 ফুলের মালা । এইরূপ মনে ভাবিতাম । কিন্তু এখন দেখিতেছি তাহ বামনের দুরাশা মাত্র। দরিদ্রকন্যা শক্তিময়ী রাজরাণী হইবে কিরূপে ?” মু । মৎস্তগন্ধা রাজরাণী, রাজমাত হইল কেমন করিয়া ? আমি দিব্যচক্ষে দেখিতেছি এই সুবিস্তীর্ণ বঙ্গদেশের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত তোমারি ক্ষমতা প্রভাবে চালিত হইতেছে --- শক্তিময়ি—রাজরাজেশ্বস্ত্রী বঙ্গেশ্বরী ! শক্তি স্তম্ভিত হইল, মুসলমানের স্বরে সত্য প্রতিভাত। মুহূর্তের জন্য সে তাহার অপমানবেদন নৈরাশুকষ্ট ভুলিয়া কৌতুহলোদীপ্ত হৃদয়ে কছিল, “আমি ধঙ্গের ভাগ্য পরিচালনা করিব ! আমি বঙ্গেশ্বরী । ফকিরজি, অত ত্যাশা আমার নাই, কখন ছিল ও না। যাহা ছিল তাহ অত উচ্চ নহে,কিন্তু তাহ ও আজ ভাঙ্গিয়াছে !” মুসলমান কহিল—“তোমার অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন তাই ভাঙ্গিয়াছে। সামান্ত প্রেমের দাসত্ব করা তোমার জীবনের উদ্দেশ্য নহে,— সুলতানপুত্র তোমার প্রেমে উন্মাদ–তিনি তোমাকে বিবাহ করিতে চাহেন,—আমি তাহার দূতস্বরূপ তোমার নিকট আসিয়াছি।” শক্তি এতক্ষণ মুসলমানের কথা ঠিক ধরিতে পারে নাই— তাহার মনের দেবতাকেই এতক্ষণ সে মুসলমানের কথার লক্ষ্য বলিয়া কল্পনা করিতেছিল,—সে মনে করিতেছিল,—মুসলমান বলিতেছে, এখনও তাহার আশা নিভে নাই, সে এখনও গণেশদেবের পত্নী হইবে,তাই তfহার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করিতে তাহার ভরসা কুলাইয়া উঠে নাই। কিন্তু যখন বুঝিল মুসলমান অন্ত কথা বলিতেছে—সুলতানপুত্র তাহার হস্তপ্রার্থী-তখন আর সে কথায় শক্তি বিস্থিত হইল না, অবিশ্বাস করিল না।