r বংশ পরিচয় । লাগাইলেন। উদ্ধাব তাড়াতাড়ি ঘাটে গিয়া পিতার সঙ্গে সঙ্গে নৌকা', হইতে জিনিসপত্র আনিয়া ঘরে যথা স্থানে রাখিলেন। উদ্ধবের পিতা হস্ত পদাদি ধৌত করিয়া সন্ধ্যা বন্দনাদি কাৰ্য্য শেষ করিয়া । আহারে বসিলেন । আহার করিতে করিতে বলিলেন, “‘বাবা উদ্ধব, আজ সন্ন্যাসী ঠাকুরের নিকট গিয়াছিলে কি ? আজি হাটে যাওয়ার সময় সন্ন্যাসীকে মানসা করিয়া গিয়াছিলাম, তঁহার কৃপায় আজ হাটে যথেষ্ট লাভ হইয়াছে। তাই তাহাকে দিবার জন্য তরমুজ, ফুটী, সবরী কলা প্ৰভৃতি ফল আসিয়াছি। কাল কিছু দুগ্ধ লইয়া গিয়া ফলাদি সন্ন্যাসী ঠাকুরকে দিয়া আসিতে হইবে।” উদ্ধব বলিলেন “বাবা । আপনি হাটে যাওয়ার পর আমি একবার সন্ন্যাসী ঠাকুরের নিকট গিযাছিলাম। তখন অন্য লোক কেহ ছিল না । সন্ন্যাসী ঠাকুরকে প্ৰণাম করিলে, সন্ন্যাসী ঠাকুর কৃপা করিয়া আশীৰ্বাদী নিৰ্ম্মাল্য ও খাবার কিছু ফল দিয়া বলিলেন “এই নিৰ্ম্মল্যাটী কবচে ভরিয়া দক্ষিণ হস্তে ধারণ করিও, ইহার প্রভাবে তোমার সর্ববিষয়ে মঙ্গল হইরে ” বাসায় আসিয়া সেই ফলগুলি আপনার জন্য কিছু ব্লাখিয়া আমি খাইয়াছি আর সেই বস্তুটী এখনও আমি সাবধানে ব্ৰাখিয়াছি।” উদ্ধবের কথা শুনিয়া তাহার পিতা ববিলেন, “বেশ তো বাবা । এই সন্ন্যাসী ঠাকুর সহজ লোক নহেন, তঁহার কৃপায় সবই হইতে পারে । আচ্ছা, আমি তোমাকে সোণার কবচ প্ৰস্তুত করাইয়া দিব । সে জন্য তুমি কোন চিন্তা করিও না । এইরূপ কথা বলিতে বলিতে আহারাদি শেষ করিয়া আচমনান্তে পান তামাক খাইয়া পিতাপুত্ৰে শয়ন করিয়া নিদ্রাভিভূত হইলেন। পরদিন প্ৰাতে উঠিয়া প্ৰাতঃকৃত্য সমাপন করিয়া উদ্ধবের পিতা তাগাদায় বাহির হইয়া গেলেন এবং যথাসময় কিছু দুধ ও একটী পাকা কঁঠাল সহ ঘরে ফিরিলেন, তৎপর পিতাপুত্ৰে স্নান করিয়া একত্রে
পাতা:বংশ-পরিচয় (ষষ্ঠ খণ্ড) - জ্ঞানেন্দ্রনাথ কুমার.pdf/৮৪
অবয়ব