পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


喙 ৩৬ খানসামা জিজ্ঞাসা করিল, “কাদিতেছ কেন ?” শৈবলিনী পাগলের হাসি হাসিল । খানসামা সাহেবদিগকে বলিল, “পাগল ।” সাহেবের বলিলেন, “উহাকে জিজ্ঞাসা কর, কি চায় ?” খানসাম| জিজ্ঞাসা করিল ! “ক্ষিদে পেয়েছে ।” খানসাম! সাহেবদিগকে পুঝাইয়। দিল । সুট বলিলেন, “উহাকে কিছু খাইতে দাও।” খানসাম অতি হৃষ্টচিত্তে শৈবলিনাকে বাবুচি' খানার নৌকায় লইয়া গেল। হৃষ্টচিত্তে, কেন না, শৈবলিনী পরম সুন্দরী। শৈবলিনা কিছুই খাইল না । খানসাম! বলিল, “খাও ম৷ ” শৈবলিনী বলিল, "ব্রাহ্মণের মেয়ে ; তোমাদের ছোয়। খাব কেন ?” খানসামা গিয়া সাহেবদিগকে এ কথা বলিল । আমিয়ট সাহেল বলিলেন, “কোন নৌকার কোন ব্রাহ্মণ নাই ?” খানসাম বলিল, “এক জল সিপাহা ব্রাহ্মণ আছে। আর কয়েদী এক জন ব্রাহ্মণ আছে ।" সাহেব বলিলেন, “যদি কাহারও ভাত থাকে, দিতে ৰল ।” খানসামা শৈবলিনীকে লইয়। প্রথমে সিপাহীদের কাছে গেল। সিপাহীদের নিকট কিছুই ছিল না। তখন খানসাম যে নৌকায় সেই ব্রাহ্মণ কয়েদী ছিল, শৈবলিনীকে সেই নৌকায় লইয়। গেল । ব্রাহ্মণ কয়েদা প্রতাপ রায় ! একখানি ক্ষু দৃ পানূসাতে এক প্রতাপ । বাহিরে, আগে, পিছে শাস্ত্রীর পাহার । নৌকার মপে অন্ধকার : খানসামা বলিল, “ও গো ঠাকুর !" প্রতাপ বলিল, “কেন ?” শৈবলিনী বলিল, আমি খ। ] তোমার গুঁড়িতে ভাত আছে ? প্র । কেন ? খা। একটি ব্রাহ্মণের মেয়ে উপবাসী আছে, ছুটি দিতে পার ? প্রতাপেরও ভাত ছিল ন! । কিন্তু প্রতাপ তাহ। স্বীকার করিলেন না, বলিলেন, “পারি। আমার হাতের হাতকড়ি খুলিয়া দিতে বল ।” খানসাম শাস্ত্রীকে প্রতাপের হাতকড়ি খুলিয়া দিতে বলিল । শাস্ত্রী বলিল, “হুকুম দেওয়াও ” খানসামা হুকুম করাইতে গেল। পরের জন্য এত জল-বেড়াবেড়ি কে করে ? বিশেষ পীরপুক্স সাহেবের খানসাম, কখনও ইচ্ছাপূৰ্ব্বক পরের বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী উপকার করে না। পৃথিবীতে যত প্রকার ময়ূন্য আছে, ইংরেজদিগের মুসলমান খানসাম৷ সৰ্ব্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ; কিন্তু এখানে পীরবক্সের একটু স্বার্থ ছিল। সে মনে করিয়াছিল, এ স্ত্রীলোকসার খাওয়াদাওয়৷ হুইলে ইহাকে একবার খানসামামহলে লইয়া গিয়া বসাইব । পীরবক্স শৈবলিনীকে আহার করাইয়া বাপ্য করিবার জন্য ব্যস্ত হইল। প্রতাপের নৌকায় শৈবলিনা বাহিরে দাড়াইয়। রহিল—খানসাম হুকুম করাইতে অমিয়ট সাহেবের নিকট গেল । শৈবলিমী অবগুণ্ঠনাবৃত হইয়া দাড়াইয়া রহিল । সুন্দর মুখের জয় সৰ্ব্বত্র । বিশেষ সুন্দর মুখের অধিকারা যদি সুব তা স্ত্রী হয়, ভবে সে মুখ অমোঘ অস্ত্র। আমিয়ট দখিয়াছিলেন যে, এষ্ট “জেণ্ট, স্ত্রীলোকটি নিরুপম রূপবর্তা–তাহাতে আবার পাগল শুনিয়া একটু দয়াও হইয়াছিল । আমিয়ট জমাদার দ্বারা প্রতাপের হাতকড়ি গুলিধু! দিবার এবং শৈবলিনীকে প্রভাপের নৌকার ভিতর প্রবেশ করিতে দিবার অনুমতি পাঠাইলেম । খান সাম! আলে। অনিষ্ঠু দিল । শল্পী ও তাপের হাতকf খুলিয়া দিল । খানসামাকে সেই নৌকার উপর আসিতে নিষেধ করিয়ু প্রতাপ তালে। লঙ্গয় মিছামিছি ভাত পাড়িতে বসিলেন । অভিপ্রায় - পলায়ন । শৈবলিনা নেীপ র ভিতরে প্রবেশ করিল। শম্বীর দাড়াষ্টয় পাহার দিতেছিল, নৌকার ভিতর দেখিতে প *ন্তে ছিল না । শৈবলিনা ভিতরে প্রবেশ করিম। প্র পেপ সম্মুখে গিয়। তাৰ গুণ্ঠন মোঢ়ন করিমু। বদিলেন । প্রতঃপের বিস্ময় তাপমাত ভইলে দেখিলেন, শৈবলিন অপর দংশন করতেছে মুখ ঈষৎ হর্ষ-প্রফুল, মুখমণ্ডল স্থিরপ্রতিজ্ঞাব চিহ্নসন্ত ! প্রতাপ মানিল, এ বাঘেপ সোগা বাঘিনী ধটে ! *#, শৈবলিনা অতি লঘুস্বরে, কানে কানে বলিল, “হত লোও -আমি কি ভাতের কাঙ্গাল ?" প্রতাপ হাত ধুইল। সেই সময়ে শৈবলিনী কানে কানে বলিল, “এখন পলাও । বাক ফিরিয়া যে ছিপ আছে, সে তোমার জন্য ।” s প্রতাপ সেইরূপ স্বরে বলিল, “আগে তুমি যাও । নচেৎ তুমি বিপদে পড়িবে।" শৈ । এই বেলা পলাও ৷ হাতকড়ি দিলে আর পলাইতে পরিবে না । এই বেলা জলে ঝাপ দাও । বিলম্ব করিও না । একদিন আমার বুদ্ধিতে