পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ձՀ আমিয়ট বলিলেন, “মরিব । আমরা আজি এখানে মরিলে ভারতবর্ষে যে আগুন জ্বলিবে, তাহাতে মুসলমানরাজ্য ধ্বংস হইবে। আমাদের রক্তে ভূমি ভিজিলে তৃতীয় জর্জের রাজপতাকা তাহাতে সহজে রোপিত হইবে।” “তবে মর!” এই বলিয়। পাঠান তরবারির আঘাতে আমিয়টের মুণ্ড চিরিয়া দেলিল। দেখিয়া ক্ষিপ্ৰহস্তে গল্‌ষ্টন সেই পাঠানের মুণ্ড স্কন্ধচুতি করিলেন । তখন দশ বারো জন যবনে গলষ্টনকে ঘেরিয়৷ প্রহার করিতে লাগিল এবং অচিরাং বহু লোকের প্রহারে আহত হইয়া গলুণ্ঠন ও জনসন উভয়েই প্রাণ ত্যাগ করিয়া নৌকার উপর শুইলেন । তৎপূৰ্ব্বেই ফষ্টর নৌকা খুলিয়া দিয়াছিল। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ আবার সেষ্ট যখন রামচরণের গুলী খাইয়া লরেন্স ফষ্টর গঙ্গর জলে নিক্ষিপ্ত হইয়াছিল, তখন প্রভাপ বজরা খুলিয়। গেলে পর, হাতিয়ারের নৌকার মাঝির জলে ঝাপ দিয়া পড়িয়া ফক্টরের দেহের সন্ধান করিয়! উঠাইয়|ছিল ; এই নৌকার পাশ দিয়াই ফক্টরের দেহ ভাসির! যাইতেছিল। তাহার। ফষ্টরকে উঠাইল্লা নৌকায় রাখিয়া অামিয়টকে সংবাদ দিয়াছিল । আমিয়ট সেই নৌকার উপর আসিলেন । দেখিলেন, ফষ্টর অচেতন, কিন্তু প্রণ নির্গত হয় নাই । মস্তিষ্ক ক্ষত হইয়াছিল বলিয়। চেতন বিনষ্ট হুইয়।ছিল । ফষ্টরের মরিবারই অধিক সম্ভাবন। কিন্তু বাচিলেও বঁচিতে পারেন । অমিয়ট চিকিৎস। জানিতেন, রীতিমত র্তাহার চিকিৎসা আরম্ভ করিলেন । বকাউল্লার প্রদত্ত সন্ধানমতে ফষ্টরের নৌক খুজিয়৷ ঘাটে আনিলেন । যখন আমিয়ট মুঙ্গের হইতে যাত্র। করেন, তখন মুতবৎ ফষ্টরকে সেই নৌকায় তুলিয়া আনিলেন । ফষ্টরের পরমায়ু ছিল –সে চিকিৎসায় বঁচিল, আবার পরমায়ু ছিল, মুরশিদাবাদে মুসলমানহস্তে রাচিল, কিন্তু এখন সে রুগ্ন, বলহীন—তেজোহীন— আর সে সাহস,—সে দম্ভ নাই। এক্ষণে সে প্রাণভয়ে ভীত, প্রাণভয়ে পলাইতেছিল। মস্তিষ্কের আঘাত জন্য বুদ্ধিও কিঞ্চিৎ বিকৃত হইয়াছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী ফষ্টর দ্রুত নৌক৷ চালাইতেছিল--তথাপি ভয়, পাছে মুসলমান পশ্চাদ্ধাবিত হয়। প্রথমে সে কাশিমবাজারের রেসিডেন্সিতে আশ্রয় লইবে মনে করিয়ছিল,—তাহাতে ভয় হইল, পাছে মুসলমান গিয়া রেসিডেন্সি আক্রমণ করে ; সুতরাং সে অভিপ্রায় ত্যাগ করিল। এ স্থলে ফষ্টর যথার্থ অনুমান করিয়াছিল । মুসলমানেরা অচিরাং কাশিমবাজারে গিয়া রেসিডেন্সি আক্রমণ করিয় তাহা লুঠ করিল। ফষ্টর দ্রুতবেগে কাশিমবাজার, ফরাসডাঙ্গ, সৈদাবাদ, রাঙ্গামাটা ছাড়াইয়। গেল । তথাপি ভয় যায় ন| মে কোন নৌকা পশ্চাতে আইসে, মনে করে, যবনের নৌকা আসিতেছে। দেখিল, একখানি ক্ষুদ্র নৌক কোনমতেই সঙ্গ ছাড়িল না। ফষ্টর তখন রক্ষার উপায় চিস্ত করিতে লাগিল । ভ্রাস্তবুদ্ধিতে নানা কথা মনে আমিতে লাগিল । একবার মনে করিল যে, নৌকা ছাড়িয়া তীরে উঠিয়া পলাই ! আবার ভাবিল, পলাইতে পারিব না – আমার সে বল নাই । আবার ভাবিল, জলে ডুবি আবার ভাবিল, চলে ডুবিলে বাঢ়িলাম কই ? তাবার ভবিল সে, এই দুষ্টট স্ত্রীলোককে গুলে ফেলিয়া নৌক হাল্কা করি নৌকা আরও শীঘ্র যাইবে । - অকস্মাং ত{হার এক কুবুদ্ধি উপস্থিত হইলএই স্ত্রীলোকদিগের জল্প যবনের। তাঁহীর পশ্চাদ্ধা বি ত হইয়াছে, উহ। তাছার দৃঢ় বিশ্বাস হুইল । দলণী যে সব বের বেগম, তাহা সে শুনিয়| ছিল—সনে ভবিল, বেগমের জঙ্গষ্ট মুসলমানেরা ইংরেজের নেীক আক্রমণ করিয়াছে। অতএব বেগমকে ছাড়িয় দিলে তার কোন গোল থাকিবে ন। । সে স্থির করিল মে, দলনাকে নামাইয়। দিবে। দলনকে বলিল, “ঐ একখানি ক্ষুদ্র নৌক৷ আমাদের পছু পাছু আসিতেছে দেখিতেছ?” দলনী বুলিল, “দেখিতেছি ।" স । উহা তোমাদের লোকের নৌকা—তোমাকে কাড়িসু! লইবার জন্য আসিতেছে। এরূপ মনে করিবার কোন কারণ ছিল ? কিছুই ন, কেবল ফক্টরের বিকৃত বুদ্ধিই ইহার কারণ—সে রজ্জতে সৰ্প দেখিল । দলনী যদি বিবেচনা করিয়া দেখিত, তাহা হইলে এ কথায় সন্দেহ করিত । কিন্তু যে যাহার অঙ্গ ব্যাকুল হয়, সে তাহার নামেই মুগ্ধ হয়, আশায় অন্ধ হইয়া বিচারে পরায়ুখ হয়। দলনী আশায় মুগ্ধ হইয়া সে কথায় বিশ্বাস করিল—বলিল,