পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


त्रांनन्लअर्क এক চড় মারিলেন । সুতরাং সিপাহী ভবাননকেও পাধিয়া গাড়ীর উপর তুলিয়া মহেঞ্জের নিকট ফেলিল । ভবানন্দ চিনিলেন যে, মহেন্দ্র সিংহ । সিপাহীরা পুনরায় অষ্ট্যমনস্কে কোলাহল করিতে করিতে চলিল, গোরুর গাড়ীর চাকার কচ-কচ শব্দ হইতে লাগিল ; তখন ভবানন্দ ধীরে ধীরে কেবল মহেন্দ্রমাত্র শুনিতে পায়, এরূপ স্বরে বলিলেন, “মহেন্দ্র সিংহ, আমি তোমায় চিনি, তোমার সাহাষ্যের জন্যই আমি এখানে আসিয়াছি । কে আমি, তাহা এখন তোমার শুনিবার প্রয়োজন নাই । আমি যাহ। বলি, সাবধানে তাহ কর । তোমার হাতের বাধনট গাড়ীর চাকার উপর রাখ ।" মহেন্দ্র বিস্মিত হইলেন। কিন্তু বিনা বাক্যব্যয়ে ভবানন্দের কথামত কাজ করিলেন । অন্ধকারে গাড়ীর চাকার নিকট একটুখানি সরিয়া গিয়৷ হস্তবন্ধনরজ্জ্ব চাকার স্পর্শ করাইয়। রাখিলেন । চাকার ঘর্ষণে ক্রমে দড়ীট। কাটয় গেল । তাহার পর পায়ের দড়ি ঐক্কপ করিয়! কাটিলেন । এষ্টরূপে বন্ধন হইতে মুক্ত হইয়া ভবানন্দের পরামর্শে নিশ্চেষ্ট গুইরা গাড়ীর উপরে পড়িয়া রহিলেন । ভবানন্দ ও সেইরূপ করিয়া বন্ধন ছিন্ন করিলেন । উভয়ে নিস্তব্ধ । যেখানে সেই জঙ্গলের কাছে রাজপথে দাড়াইয়া বহ্মচারী চারিদিক নিরীক্ষণ করিয়াছিলেন, সেই পথে ইহাদিগের যাইবার পথ । সেই পাহাড়ের নিকট সিপাহীর পৌছিলে দেখিল যে, পাহাড়ের নীচে একটা টিপির উপর একটি মাম্য দাড়াইয়া আছে। চন্দ্রদীপ্ত নীল আকাশে তাহার কালে শরীর চিত্রিত হইয়াছে দেখিয়া হাওলদার বলিল, “আরও এক শাল ঐ ! উহাকে ধরিয়া আন । মোট বহিবে ।" তখন এক জন সিপাহী ধরিতে যাইতেছে, সে ব্যক্তি স্থির দাড়াইয়া আছে—নড়ে ন! । সিপাহী তাহাকে বরিল । সে কিছু বলিল না। ধরিয়া তাহাকে হাওলদারের নিকট আনিল, তখনও কিছু বলিল না । হাওলদার বলিল, “উহার মাথায় মোট দিও।” সিপাহী তাহার মাথায় মোট দিল, সে মাথায় মোট লইল । তখন হাওলদার পিছন ফিরিয়া গাড়ীর সঙ্গে চলিল। এই সময় হঠাৎ একটি পিস্তলের শব্দ হইল। . হাওলদার মস্তকে বিদ্ধ হইয়া ভূতলে পড়িয়া প্রাণত্যাগ করিল। “এই শালা হাওলদারকে মারা” বলিয়া এক জন সিপাহী মুটিয়ার হাত ধরিল। মুটয়ার হাতে তখনও পিস্তল । মুটিয়া মাথার মোট ফেলিয়া দিয়া পিস্তল উলুটাইয়া ধরিয়া সেই সিপাহীর মাথায় মারিল ; সিপাহীর মাথা ভাঙ্গিয়া গেল, সে తి নিরস্ত হইল। সেই সময়ে হরি ! হরি ! হরি! শব্দ করিয়া দুই শত শস্ত্রধারী লোক আসিয়া সিপাহী-, দিগকে ঘিরিল । সিপাহীর তখন সাহেবের আগমন প্রতীক্ষা করিতেছিল । সাহেবও ডাকাত পড়িয়াছে বিবেচনা করিয়া সম্বর গাড়ীর কাছে আসিয়া চতুষ্কোণ করিবার আজ্ঞা দিলেন । ইংরেজের নেশা বিপদের সময় থাকে না । তখনই সিপাহীর চারিদিকে সম্মুখ ফিরিয়া চতুষ্কোণ করিয়া দাড়াইল । অধ্যক্ষের পুনবর্বর আজ্ঞ পাইয়া তাহার বন্দুক তুলিয়া ধরিল। এমন সময় হঠাৎ সাহেবের কোমর হইতে র্তাহার অসি কে কাড়িয়া লইল । লইয়াই একাঘাতে ষ্ঠাহীর মস্তকচ্ছেদন করিল । সাহেব ছিন্নশির হইয়া অশ্ব হইতে পড়িয়া গেলে আর র্তাহার ফায়ারের হুকুম দেওয়া হইল না । সকলে দেখিল যে, এক ব্যক্তি গাড়ীর উপরে দাড়াইয়া তরবারি-হস্তে 'হরি হরি’ শব্দ করিতেছে এবং “সিপাহী মার, সিপাহী মার" বলিতেছে । সে ভবানন্দ । সহসা অধ্যক্ষকে ছিন্নশির দেখিয়া এবং রক্ষার জঙ্গ কাহারও নিকটে আজ্ঞা না পাইয়া সিপাহীরা কিয়ৎ ক্ষণ ভীত ও নিশ্চেষ্ট হইল । এই অবসরে তেজস্বী . দমুরা তাহাদিগের অনেককে হত ও আহত করিয়া গাড়ীর নিকটে আসিয়া টাকার বাক্স সকল হস্তগত করিল। সিপাহীরা ভগ্নোৎসাহ ও পরাভূত হইয়া পলাঁ- “ য়ন করিল। - তখন যে ব্যক্তি ঢিপির উপর দাড়াইয়াছিল, এবং শেষে যুদ্ধের প্রধান নেতৃত্ব গ্রহণ করিয়াছিল, সে ভবানন্দের নিকট আসিল । উভয়ে তখন আলিঙ্গন করিলে ভবানন্দ বলিলেন, “ভাই জীবাননা, সার্থক ব্ৰত গ্রহণ করিয়াছিলে ।” জীবানন বলিলেন, “ভবানন্দ ! তোমার নাম সার্থক হউক " অপহৃত ধন যথাস্থানে লইয়া ষাই- . বার ব্যবস্থাকরণে জীবানন্দ নিযুক্ত হইলেন, র্তাহার অনুচরবর্গের সহিত শীঘ্রই তিনি স্থানাস্তরে গেলেন । ভবানন্দ এক দাড়াইয়া রহিলেন । নবম পরিচ্ছেদ মহেন্দ্র শকট হইতে নামিয়া এক জন সিপাহীর প্রহরণ কাড়িয়া লইয়া যুদ্ধে যোগ দিবার উদ্যোগী হইয়াছিলেন কিন্তু এমন সময়ে তাহার স্পষ্টই বোধ হইল যে, ইহারা দস্থা ; ধনাপহরণ জন্যই সিপাহীদিগকে আক্রমণ করিয়াছে । এইরূপ বিবেচনা করিয়া তিনি