পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/১৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কপালকুণ্ডল শু । তা ত হবে না—কিন্তু তোমাকে কেহ কিছু মন্দ বলিলে আমাদিগের অন্তঃকরণে ক্লেশ হবে। ক । এমন অন্যায় ক্লেশ হইতে দিও না । শু| তাও আমি পারিব । কিন্তু দাদাকে কেন অমুখী করিবে ? কপালকুণ্ডলা শুামামুন্দরীর প্রতি নিজ স্কিন্ধোজ্জল কটাক্ষ নিক্ষেপ করিলেন । কহিলেন, “ইহাতে তিনি অসুখী হয়েন, আমি কি করিব ? যদি জানিতাম যে, স্ত্রীলোকের বিবাহ দাসীত্ব, তবে কদাপি বিবাহ করিতাম না ।” ইহার পর আর কথা শু্যামাসুন্দরী ভাল বুঝিলেন না, আত্মকৰ্ম্মে উঠিয়া গেলেন । কপালকুণ্ডলা প্রয়োজনীয় গৃহকার্য্যে ব্যাপৃত হইলেন । গৃহকাৰ্য্য সমাধা করিয়া ঔষধির অনুসন্ধানে গৃহ হইতে বহির্গত হইলেন। তখন রাত্রি প্রহরাতীত হইয়াছিল । নিশা সজ্যোৎস্ন। নবকুমার বহিঃকক্ষায় বসিয়াছিলেন। কপালকুণ্ডলা যে বাহির হইয়। যাইতেছেন, তাহা গবাক্ষপথে দেখিতে পাইলেন । তিনিও গৃহত্যাগ করিয়া আসিয়া মুন্ময়ীর হাত ধরিলেন । কপালকুণ্ডল কহিলেন, “কি ?” নবকুমার কহিলেন, “কোথ। যাইতেছ?” নবকুমারের স্বরে তিরস্কারের স্বচনামাত্র ছিল না। কপালকুণ্ডল কহিলেন, “খামাসুন্দর স্বামীকে বশ করিবার জন্য ঔষধ চাহে, আমি ঔষধের সন্ধানে যাইতেছি ।” ሓw নবকুমার পূর্ববং কোমল স্বল্প কুহিলেন, “ভাল, কালি ত একবার গিয়াছিলে শ-অাজি আবার কেন ?” * ক । কালি খুজিয়া পাই নাই ; আজি আবার খুজিব । নবকুমার অতি মৃত্নভাবে কহিলেন, “ভাল, দিনে খুজিলেও ত হয় ?” নবকুমারের স্বর স্নেহপরিপূর্ণ। কপালকুণ্ডলা কহিলেন, “দিবসে ঔষধ ফলে ন৷ ” নব । কাজই কি তোমার ঔষধ তল্লাসে ? আমাকে গাছের নাম বলিয়া দাও । আমি ঔষধি তুলিয়া আনিয়া দিব । ক । আমি গাছ দেখিলে চিনিতে পারি, কিন্তু নাম জানি না। আর তুমি তুলিলে ফলিবে না। স্ত্রীলোকে এলোচুলে তুলিতে হয় । তুমি পরের উপকারের বিশ্ন করিও না । কপালকুণ্ডল এই কথা অপ্রসন্নতার সহিত লেন। নবকুমার আর আপত্তি করিলেন বলিলেন, “চল, আমি তোমার সঙ্গে যাইব ।” বলিনা । εξ কপালকুণ্ডলা গৰ্ব্বিতবচনে কছিলেন, “আইস, আমি | অবিশ্বাসিনী কি না, স্বচক্ষে দেখিয়া যাও ।” * নবকুমার আর কিছু বলিতে পারিলেন না . নিশ্বাস সহকারে কপালকুণ্ডলার হাত ছাড়িয়া দিয়া গুছে প্রত্যাগমন করিলেন। কপালকুণ্ডল একাকিনী বন । মধ্যে প্রবেশ করিলেন। : حساکت است. দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ কাননতলে & Tender is the night. And haply the Queen moon is on her throne. Clustored arround by all her starry says ; But here there is on Light.” —Keats, সপ্তগ্রামের এই ভাগ ষে বনময়, তাহ পূৰ্ব্বেই কতক কতক উল্লিখিত হইয়াছে । গ্রামের কিছু দূরে নিবিড় বন ৷ কপালকুণ্ডলা একাকিনী এক সঙ্কীর্ণ বন্য পথে ঔষধির সন্ধানে চলিলেন। যামিনী মধুর, একান্ত শব্দমাত্রবিহীন । মাধবী যামিনার আকাশে স্নিগ্ধরশ্মিময় চন্দ্র নীরবে শ্বেত মেঘখণ্ড সকল উত্তীর্ণ হইতেছে ; পুথিবীতলে, বন্য বৃক্ষ লতা সকল তদ্রুপ নীরবে শীতল চন্দ্ৰকরে বিশ্রাম করিতেছে,নীরবে বৃক্ষপত্র সকল সে কিরণের প্রতিঘাত করিতেছে, নীরবে লতাগুল্মমধ্যে শ্বেত কুসুমদল বিকসিত হইয়। রহিয়াছে। পশু-পক্ষী নীরব । কেবল কোথাও কদাচিৎমাত্র ভগ্নবিশ্রাম কোন পক্ষীর পক্ষম্পন্দমশব্দ, কোথাও কচিৎ শুষ্কপত্রপাতশব্দ, কোথাও তলস্থ শুষ্কপত্রমধ্যে উরগজাতীয় জীবের কচিৎ গতিজনিতশব্দ, কচিৎ অতি দূরস্থ কুকুররব । এমন নহে যে, একেবারে বায়ু বহিতেছিল ন, মধুমাসের দেহস্নিগ্ধকর বায়ু অতিমন ; একাত্ত নিঃশব্দ বায়ুমাত্র ; তাহাতে কেবলমাত্র বৃক্ষের সৰ্ব্বাপ্রভাগরূঢ় পত্রগুলি হেলিতেছিল ; কেবলমাত্র আভুমিপ্রণত শুামাল তা ছলিতেছিল ; কেবলমাত্র নীলাম্বরসঞ্চারী ক্ষুদ্র শ্বেতাম্বুদখণ্ডগুলি ধীরে ধীরে চলিতে ছিল। কেবলমাত্র তদ্রুপ বায়ুসংসর্গে সভুক্ত পূৰ্ব সুখের অস্পষ্ট স্মৃতি হৃদয়ে অল্প জাগরিত হইতেছিল কপালকুণ্ডলার সেইরূপ পূৰ্ব্বস্তৃতি জাগরিত হইতেছিল। বালিয়াড়ির শিখরে যে সাগরবারিবিন্দুসংস্পৃষ্ট মলয়ানিল তাহার লম্বালকমণ্ডলমধ্যে ক্রীড়া করিত, তাহা মনে পড়িল, অমল নীলানন্ত গগনপ্রতি চাহিয়া