পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/২০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবী চৌধুরাণী সী । না, তা নয় । তোমাকে বলি, কারও সাক্ষাতে বলে না। (সাগর বড় চুপি চুপি কথা কহিতে লাগিল ) আমার বাপের ঢের টাকা আছে। অামি বাপের এক সস্তান । তাই সেই টাকার 西吸一 প্র । বুঝেছি, আর বলিতে হবে না। তা তুমি সুন্দরী ! যে কুৎসিত, সে ঘরণী গৃহিণী হলো কিসে? সা । আমি বাপের একটি সন্তান, আমাকে পাঠায় না ; আর আমার বাপের সঙ্গে আমার শ্বশুরের সঙ্গে বড় বনে না। তাই আমি এখানে কখন থাকি না। কাজে কৰ্ম্মে কখনও আনে। এই দুই চারি দিন এসেছি, আবার শীঘ্ৰ যাব । প্রফুল্ল দেখিল যে, সাগর দিব্য মেয়ে—সতীন বলিয়৷ ইহার উপর রাগ হয় না। প্রফুল্ল বলিল, “আমায় ডাকূলে কেন ?" স। তুমি কিছু খাবে ? প্রফুল্ল হাসিল, বলিল, “কেন, এখন খাব কেন ?” স। তোমার মুখ শুক্নে, তুমি অনেক পথ এসেছ, তোমার তৃষ্ণা পেয়েছে। কেউ তোমায় কিছু খেতে বল্লেন না। তাই তোমাকে ডেকেছি। প্রফুল্ল তখনও পর্য্যন্ত কিছু খায় নাই। পিপাসায় প্রাণ ওষ্ঠাগত । কিন্তু উত্তর করিল, “শাশুড়ী গেছেন শ্বশুরের কাছে মন বুঝতে ; আমার অদৃষ্ট কি হয়, তা না জেনে আমি এখানে কিছু খাব না । ঝ tট খেতে হয় ত তাই খাব, আর কিছু খাব না।” সা। না না, এদের কিছু তোমার খেয়ে কাজ নাই । আমার বাপের বাড়ীর সন্দেশ আছে--বেশ সন্দেশ । এই বলিয়া সাগর কতকগুলা সনেশ আনিয়া প্রফুল্লের মুখে গুজিয়া দিতে লাগিল। অগত্যা প্রফুল্ল কিছু খাইল । সাগর শীতল জল দিল, পান করিয়া প্রফুল্ল শরীর স্নিগ্ধ করিল । তখন প্রফুল্ল বলিল, “আমি শীতল হইলাম, কিন্তু আমার মা না খাইয়া মরিয়া যাইবে ।” স৷ তোমার মা কোথায় গেলেন ? প্র । কি জানি ? বোধ হয়, পথে দাড়াইয়। আছেন । স। এক কাজ করব ? প্র । কি ? স। ব্ৰহ্ম ঠামূদিদিকে র্তার কাছে পাঠিয়ে দেব ? প্র । তিনি কে ? স। ঠাকুরের সম্পর্কে পিসী—এই সংসারে থাকেন । প্র । তিনি কি করবেন ? সা । তোমার মাকে খাওয়াবেন দাওয়াবেন । প্র । মা এ বাড়ীতে কিছু খালেন না । স। দুর, তাই কি বলুছি ? কোন বামুনবাড়ীতে । প্র । যা হয় কর, মা’র কষ্ট আর সহ হয় না। সাগর চকিতের মত ব্ৰহ্মঠাকুরাণীর কাছে যাইয়। সব বুঝাইয়া বলিল । ব্রহ্মঠাকুরাণী বলিল, “ম, তাই ত । গৃহস্থ-বাড়ী উপবাসী থাকিবেন ! অকল্যাণ হবে যে " ব্ৰহ্ম প্রফুল্লের মা'র সন্ধানে বাহির হইল । সাগর ফিরিয়া আসিয়া প্রফুল্লকে সংবাদ দিল । প্রফুল্ল বলিল, “এখন ভাই, সে গল্প করিতেছিলে, সেই গল্প কর " সা। গল্প আর কি ! আমি ত এখানে থাকি না—থাকৃতে পাবও না। আমার অদৃষ্ট মটর অঁাবের মত—তাকে তোলা থাকৃব, দেবতার ভোগে কখন লাগিব না । তা, তুমি এয়েচ, যেমন ক’রে পার থাক । আমরা কেউ সেই কালপেচাটাকে দেখিতে পারি না প্র । থাকৃব বলেই ত এসেছি । থাকৃতে পেলে ত হয় । সী । তা দেখ, শ্বশুরের যদি মত না হয়, তবে এখনই চলে যেও না । প্র । না গিয়া কি করিব ? আর কি জন্য থাকিব ? থাকি, যদি— সা । যদি কি ? প্র । যদি তুমি আমার জন্ম সার্থক করাইতে পার । সা । সে কিসে হবে ভাই ? প্রফুল্ল ঈষৎ হাসিল । তখনই হাসি নিবিয়া গেল, চক্ষে জল পড়িল । বলিল, “বুঝ নাই ভাই ?” সাগর তখন বুঝিল । একটু ভাবিয়া, একট। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিল—“তুমি সন্ধ্যার পর এই ঘরে আসিয়া বসিয়া থাকিও, "দিনের বেলা ত আর দেখা হবে না ।" পাঠক স্মরণ রাখিবেন, আমরা এখনকার লজ্জাহীন নব্যাদিগের কথা লিখিতেছি না । আমাদের গল্পের তারিখ এক শত বৎসর পূৰ্ব্বে । চল্লিশ বৎসর পূৰ্ব্বেও যুবতীরা কখন দিনমানে স্বামিদর্শন পাইতেন না । প্রফুল্ল বলিল, “কপালে ‘কি হয়, তাহ আগে জানিয়া আসি । তার পর তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিব । কপালে যাই থাকে, একবার স্বামীর সঙ্গে