পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/২১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


స్చీది ব্রা। হাট এক বেলার পথ । তুমি এক যাইতে পারিবে না । চোর-ডাকাইভের বড় ভয় । তোমার আর কে আছে ? প্র । আর কেহ নাই । ব্রাহ্মণ অনেকক্ষণ ধরিয়া প্রফুল্লের মুখপানে চাহিয়া দেখিল । মনে মনে বলিল, “এ বালিকা সকল সুলক্ষণযুক্ত। ভাল দেখা যাউক, ব্যাপারটা কি ?” প্রকাশ্বে বলিল, “তুমি একা হাটে যাইও না ; বিপদে পড়িবে । এইখানে আমার একখানা দোকান আছে । যদি ইচ্ছা হয়, তবে সেখান হইতে চাল-ডাল কিনিতে পার । প্রফুল্ল বলিল, “সেই হ’লে ভাল হয়। কিন্তু আপনাকে ত ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের মত দেখিতেছি । ব্রা । ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত অনেক রকমের আছে । বাছা! তুমি আমার সঙ্গে এস। এই বলিয়া ব্রাহ্মণ প্রফুল্লকে সঙ্গে করিয়া আরও নিবিড়তর জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করিল । প্রফুল্লের একটু একটু ভয় করিতে লাগিল, কিন্তু এ বনে কোথায় বা ভয় নাই ? দেখিল, সেখানে একখানি কুটার আছে—তালা-চাবি বন্ধ, কেহ নাই। ব্রাহ্মণ তালাচাবি খুলিল, প্রফুল্ল দেখিল, -দোকান নয়, তবে হাড়ি, কলসী, চাল, ডাল, কুণ, তেল যথেষ্ট আছে । ব্রাহ্মণ বলিল, “তুমি স্বাহ৷ এক বহিয়া লইয়। যাইতে পার, লইয়া ষাও ” প্রফুল্ল ষাহা পারিল, তাক লইল । করিল, “দাম কত দিতে হইবে ?” এi { এক আনি । می. för Gižił প্র । আমার নিকট পয়সা নাই । ব্র । টাকা আছে ? দাও, ভাঙ্গাইয়া দিতেছি ! প্র । আমার কাছে টাকা ও নাই । ব্রা ; তবে কি নিয়া হাটে যাইতেছিলে ? প্র । একটি মোহর আছে। ত্ৰা । দেখি । প্রফুল্ল মোহর দেখাইল । ব্রাহ্মণ তাহ দেখিয়৷ ফিরাইয়া দিল । বলিল, “মোহর ভাঙ্গাইয়া দিই, এত টাকা অামার কাছে নাই । চল, তোমার সঙ্গে তোমার ঘরে যাই, তুমি সেইখানে আমাকে পয়সা দিও " প্র । ঘরেও আমার পয়সা নাই । ব্রা। সবই মোহর | তা হোক, চল, তোমার ঘর চিনিয়া আসি ! যখন তোমার হাতে, পয়সা হইবে, তখন আমায় দিও। আমি গিয়া নিয়া আসিব । এখন “সবই মোহর” কথাটা প্রফুল্লের কানে ভাল লাগিল না। প্রফুল্ল বুঝিল যে, এ চতুর ব্রাহ্মণ বুঝিয়াছে বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী যে, প্রফুল্লের অনেক মোহর অাছে। অার সেই লোভেই তাহার বাড়ী দেখিতে যাইতে চাহিতেছে । প্রফুল্ল জিনিসপত্র যাহা লইয়াছিল, তাহা রাখিল ; বলিল, “আমাকে হাটেই যাইতে হইবে । আমার কাপড় চোপড়ের বরাৎ আছে ।” ব্ৰাহ্মণ হাসিল । বলিল, “ম ! মনে করিতেছ, আমি তোমার বাড়ী টিনিয়া আসিলে, তামার মোহরগুলি চুরি করিয়া লইব । তা তুমি কি মনে করিয়াছ, হাটে গেলেই আমাকে এড়াইতে পারিবে ? আমি তোমার সঙ্গ না ছাড়িলে তুমি ছাড়িবে কি প্রকারে ?” সৰ্ব্বনাশ ! প্রফুল্লের গা কঁাপিতে লাগিল । ব্রাহ্মণ বলিল, “তোমার সঙ্গে আমি প্রতারণা করিব না । আমাকে ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত মনে কর, আর যাই মনে কর, আমি ডাকাইতের সর্দার । আমার নাম ভবানী পাঠক " প্রফুল্ল স্পন্দহীন । ভবানী পাঠকের নাম সে দুর্গাপুরেও শুনিয়াছিল। ভবানী পাঠক বিখ্যাত দক্ষ্য । তাহার ভরে বরেন্দ্রভূমি কম্পমান। প্রফুল্লের বাক্য"ন্তি হইল না। ভবানী বলিল, “বিশ্বাস ন হয়, প্রত্যক্ষ দেখ " এই বলিয়া ভবানী ঘরের ভিতর হইতে একট। নগর। ব| দামামা বাহির করিয়া, তাহতে গোট। কতক ঘ দিল । মুহূৰ্ত্তমপ্যে জন পঞ্চাশ ষাট কালাস্তক যমের মত জোরান লাঠি সড়ক হাতে লইয়া উপস্থিত হষ্টল । তাহার। ভবানীকে জিজ্ঞাসা করিল, “কি অজ্ঞা হয় ?” ভবানী বলিল, “এই বালিকাকে তোমরা চিনিয়া রখ । ইহাকে আমি ম বলিয়াছি । ইহাকে তোমরাও মা বলিপে এবং মা'র মত দেখিবে । তোমরা ইহার কোন অনিষ্ট করিবে না, আর কাহাকেও করিতে দিবে না। এখন তোমরা বিদায় হও ” এই বলিবামাত্র সেক্ট দস্থ্যদল মুহূৰ্ত্তমধ্যে অস্তহিত হইল । প্রফুল্ল বড় বিস্মিত হইল । প্রফুল্ল স্থিরবুদ্ধি, একেবারেই বুঝিল যে, ইহার শরণাগত হওয়া ভিন্ন আর উপায় নাই । বলিল, “চলুন, আপনাকে আমার বাড়ী দেখাইতেছি ।" । প্রফুল্ল দ্রব্যসামগ্ৰী যাহা রাখিয়াছিল, তুহি আবার লইল । সে আগে আগে চলিল, ভবানী পাঠক পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিল। তাহারা সেই ভাঙ্গা বাড়ীতে উপস্থিত হইল । বোঝা নামাইয়া ভবানী ঠাকুরকে বসিতে প্রফুল্ল একখান ছেড়া কুশাসন দিল । বৈরাগীর একখানি ছেড়া কুশাসন ছিল ।