পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/২৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(kbo পঞ্চম পরিচ্ছেদ

  • عي

ro' 袭 পিপীলিকাশ্রেণীবৎ বরকন্দাজের দল ত্রিস্রোতার তীর-বন সকল হইতে বাহির হইতে লাগিল। মাথায় লাল পাগড়ী, মালকোচা মারা, খালি পা-জলে লড়াই করিতে হইবে বলিয়া কেহ জুতা আনে নাই। সবার হাতে ঢালসড়কি-কাহারও কাহারও বন্দুক আছে—কিন্তু বন্দুকের ভাগ অল্প। সকলেরই পিঠে লাঠি বাধী—এই বাঙ্গালার জাতীয় হাতিয়ার। বাঙ্গালী ইহার প্রকৃত ব্যবহার জানিত; লাঠি ছাড়িয়াই বাঙ্গালী নিৰ্জ্জীব হুইয়াছে । বরকন্দাজের। দেখিল, ছিপগুলি প্রায় আসিয়া পড়িয়াছে—বজরা ঘেরিবে । বরকন্দাজ দৌড়াইল— “রাণীজিকি জয়” বলিয়া তাহারাও বজরা ঘেরিতে চলিল । তাহারা আসিয়া আগে বজরা ঘেরিল— ছিপ তাহাদের ঘেরিল । আর যে সময়ে শাক বাজিল, ঠিক সেই সময়ে জন কত বরকন্দাজ আসিয়া বজরার উপর উঠিল । তাহারা বজরার মাঝি-মাল্ল। —নৌকার কাজ করে, আবণ্ঠকমত লাঠি-সড়কিও চালায় । তাহারা আপাততঃ লড়াইয়ে প্রবৃত্ত হইবার কোন ইচ্ছা দেখাইল না । দাড়ে, হালে, পালের রশি ধরিয়া, লগি ধরিয়া, যাহার যে স্থান, সেইখানে বসিল। আরও অনেক বরকন্দাজ বজরায় উঠিল । তিন চারি শত বরকন্দাজ তীরে রহিল—সেইখান হইতে ভীরের উপর সড়কি চালাইতে লাগিল। কতক সিপাহী ছিপ হইতে নামিয়া বন্দুকে সঙ্গীন চড়াইয় তাহাদের আক্রমণ করিল। যে বরকন্যাজের বজরা ঘেরিয়া দাড়াইয়াছিল, অবশিষ্ট সিপাহীরা তাহদের উপর পড়িল । সৰ্ব্বত্র হাতাহাতি লড়াই হইতে লাগিল । তখন মারামারি, কাটাকাটি, চেচার্চেচি, বন্দুকের হুড়মুড়, লাঠির ঠক্ঠকি, ভারি হুলস্থল পড়িয়া গেল ; কেহ কাহারও কথা শুনিতে পায় না—কেহু কোন স্থানে স্থির হইতে পারে न! । দুর হইতে লড়াই হইলে সিপাহীর কাছে লাঠি য়ালের অধিকক্ষণ টিকিত না—কেন না, দুরে লাঠি চলে না । কিন্তু ছিপের উপর থাকিতে হওয়ায় সিপাহীদিগের বড় অসুবিধা হইল । যাহার তীরে উঠিয়া যুদ্ধ করিতেছিল, সে সিপাহীরা লাঠিয়ালদিগকে সঙ্গীনের মুখে হটাইতে লাগিল ; কিন্তু যাহারা জলে লড়াই করিতেছিল, তাহার। বরকনাজদিগের লাঠিসড়কিতে হাত, পা বা মাথ৷ ভাঙ্গিয় কাবু হইতে লাগিল । - বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী প্রফুল্ল নীচে’ আসিবার অল্পমাত্র পরেই এই Y ব্যাপার আরম্ভ হইল। প্রফুল্ল মনে করিল, হয় ভবানী ঠাকুরের কাছে আমার কথা পৌছে নাই— নয় তিনি আমার কথা রাখিলেন না ; মনে করিয়াছেন, আমি মরিতে পারিব না। ভাল, আমার কাজটাই তিনি দেখুন। দেবীর রাণীগিরিতে গুটিকত চমৎকার গুণ জন্মিয়াছিল। তার একটি এই যে , যে সামগ্রীর কোন প্রকার প্রয়োজন হইতে পারে, তাহ আগে গুছাইয়া হাতের কাছে রাখিতেন। এ গুণের পরিচয় অনেক পাওয়া গিয়াছে। দেবী এখন হাতের কাছেই পাইলেন—একটি শাদ৷ নিশান ; শাদ নিশানটি। বাহিরে লইয়া গিয়া স্বহস্তে উচু করিয়া ধরিলেন । , সেই নিশান দেখিবামাত্র লড়াই একেবারে বন্ধ হইল । যে যেখানে ছিল, সে সেইখানেই হাতিয়ার ধরিয়া চুপ করিয়া দাড়াইয়া রহিল। ঝড় তুফান যেন হঠাৎ থামিয়া গেল, প্রমত্ত সাগর যেন অকস্মাৎ প্রশান্ত হ্রদে পরিণত হইল ।

দেবী দেখিল, পাশে ব্রজেশ্বর। এই যুদ্ধের সময়ে । দেবীকে বাহিরে আসিতে দেখিয়া, ব্ৰজেশ্বরও সঙ্গে সঙ্গে আসিয়াছিল । দেবী তাহাকে বলিল, “তুমি এই নিশান এইরূপ ধরিয়া থাক । আমি ভিতরে গিয়া নিশি ও দিবীর সঙ্গে একট পরামর্শ অঁাটিব । রঙ্গরাজ যদি এখানে আসে, তাহাকে বলিও, সে দরওয়াজ হইতে আমার হুকুম লয় ।” এই বলিয়। দেবী ব্ৰজেশ্বরের হাতে শাদা নিশান দিয়া চলিয়া গেল । ব্রঙ্গেশ্বর নিশান তুলিয়া ধরিয়া দাড়াইয়া রহিল। ইতিমধ্যে সেখানে রঙ্গরাজ আসিয়া উপস্থিত হইল। নিশান দেখিয়া চোখ ঘুরাইয়া বলিল, “তুমি কার হুকুমে শাদা নিশান দেখাইলে ?” ব্রজ । রাণীজির হুকুম । রঙ্গ। রাণীজির হুকুম ? তুমি কে ? ব্র । চিনিতে পার না ? “চিনিয়াছি। তুমি ব্রজেশ্বর বাবু ? এখানে কি মনে ক’রে ? বাধ ।” রঙ্গরাজের ধারণা হইল যে, হরবল্লভের ন্যায় দেবীকে ধরাইয়া দিবার জন্য ব্ৰজেশ্বর কোন ছলে বজরায় প্রবেশ করিয়াছে। তাহার আজ্ঞা পাইয়৷ দুই জন ব্ৰজেশ্বরকে বাধিতে আসিল । ব্ৰজেশ্বর কোন আপত্তি করিলেন না। বলিলেন, “আমায় বাধ, রঙ্গরাজ ত্রজেশ্বরের হাতে শাদ। . রঙ্গরাজ একটু নিরীক্ষণ করিয়া বলিল, . বাপ-বেটায় এক কাজে না-কি ? কেহ একে "