পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭8 ভবানন্দ বলিলেন, “তীর্থযাত্রা করিয়া এ সকল সংগ্ৰহ করিবেন কি প্রকারে ? গোলাগুলী, বন্দুক, কামান কিনিয়া পাঠাইতে বড় গোলমাল হইবে । আর এত পাইবেন বা কোথা, বেচিবে বা কে, আনিবে বা কে *" সত্য ৷ কিনিয়া আনিয়া আমরা কৰ্ম্ম নিৰ্ব্বাহ করিতে পারিব না। আমি কারিগর পঠাইয়। দিব, এইখানে প্রস্তুত করিতে হুইবে । জীব । সে কি ? এই আনন্দমঠে ? সত্য । তাও কি হয় ? ইহার উপায় আমি বহুদিন হইতে চিস্তা করিতেছি । ঈশ্বর অদ্য তাহার সুযোগ করিয়া দিয়াছেন । তোমরা বলিতেছিলে, ভগবান প্রতিকুল, আমি দেখিতেছি, তিনি অনুকুল । ভব। কোথায় কারখান। হইবে ? সত্য। পদচিহ্নে । জীব। সে কি ? সেখানে কি প্রকারে হুইবে ? সত্য । নহিলে কি জন্য আমি মহেন্দ্র সিংহকে এ ব্রত গ্রহণ করিবার জন্য এত আকিঞ্চন করিয়াছি ? ভব। মহেন্দ্র কি ব্রত গ্রহণ করিয়াছেন ? সত্য । ব্রত গ্রহণ করে নাই, করিবে । রাত্রে তাহাকে দীক্ষিত করিব । জীব । কই, মহেন্দ্র সিংহকে ব্রত গ্রহণ করাইবার জন্য কি অকিঞ্চন হুইয়াছে, তাহা আমরা দেখি নাই । তাহার স্ত্রী-কন্যার কি অবস্থা হইয়াছে, কোথায় তাহ+ দিগকে রাখিল ? আমি আজ একটি কন্যা নদীতীরে পাইয়। আমার ভগিনীর নিকট রাখিয়া আসিয়াছি । সেই কন্যার নিকট একটি সুন্দর স্ত্রীলোক মরিয়! পড়িয়াছিল । সে ত মহেন্দ্রের স্ত্রী কন্যা নয় ? আমার ভাই বোধ হইয়াছিল । সত্য । সেই মহেন্দ্রের স্ত্রী-কন্যা । ভবানন্দ চমকিয়া উঠিলেন । তখন তিনি বুঝিলেনষে, ষে স্ত্রীলোককে তিনি ঔষধবলে পুনৰ্জ্জীবিত করিয়াছিলেন, সেই মহেদের স্ত্রী কল্যাণী, কিন্তু এক্ষণে কোন কথা প্রকাশ কর। আধখ্যক বিবেচনা করিলেন 각 জীবানন্দ বলিলেন, “মহেন্দ্রের স্ত্রী মরিল কিসে ?” সত্য । বিষপান করিয় ! জীব । কেন বিষ খাইল ? আঞ্জ সত্য। ভগবান তাহাকে প্রাণত্যাগ করিতে স্বপ্না . দেশ করিয়াছিলেন ; . ভব। সে স্বপ্নাদেশ কি সস্তানের কার্যোদ্ধারের জন্যই হইয়াছিল ? বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী সত্য ৷ মহেন্দ্রের কাছে সেইরূপ গুনিলাম । এক্ষণে সায়াহ্নকাল উপস্থিত, আমি স্বায়ংকৃত্যাদি সমা পনে চলিলাম। তৎপরে নূতন সন্তানদিগকে দীক্ষিত করিতে প্রবৃত্ত হইব । ভব । সন্তানদিগকে ? কেন, মহেন্দ্র ব্যতীত আর কেহ আপনার নিজ শিষ্য হইবার স্পৰ্দ্ধ রাখে কি ? সত্য । হা, আর একটি নুতন লোক। পূৰ্ব্বে আমি তাহাকে কখন দেখি নাই। আজি নুতন আমার কাছে আসিয়াছে। সে অতি তরুণবয়স্ক যুবা পুরুষ। আমি তাহার আকারেঙ্গিতে ও কথাবাৰ্ত্তায় অভিশয় প্রীত হইয়াছি, গাটি সোন। বলিয়া তাহাকে বোধ হইয়াছে। তাহাকে সস্তানের কার্য্য শিক্ষা করাইবার ভার জীবানন্দের প্রতি রহিল । কেন না, জীবানন্দ লোকের চিত্তাকর্ষণে বড় সুদক্ষ । আমি চলিলাম, তোমাদের প্রতি আমার একটি উপদেশ বাকি আছে । অতিশয় মনঃসংযোগপূর্বক তাহ শ্রবণ কর । তখন উভয়ে যুক্তকর হুইয়া নিবেদন করিলেন, “আজ্ঞ করুন |" সতানন্দ বললেন, “তোমরা দুই জনে যদি কোন অপরাধ করিয়৷ থাক, অথবা আমি ফিরিয়। আসিবার পূৰ্ব্বে কর, তবে তাহার প্রায়শ্চিন্তু আমি না আসিলে করিও না । আমি আসিলে প্রায়শ্চিন্তু অবগুকৰ্ত্তব্য হইবে ।" এই বলিয়া সত্যানন্দ স্বস্থানে প্রস্থান করিলেন । ভবানন্দ এবং জীবানন্দ উভয়ে পরস্পরে মুখ চাওয়াচান্ত্রি করিলেন । ভবানন্দ বলিলেন, “তোমার উপর না কি ?” জীব । বোধ হয় । ভগিনীর বাড়ীতে মহেঞ্জের কন্য। রাখিতে গিয়াছিলাম । ভব । তাতে দোষ কি ? সেটা ত নিষিদ্ধ নহে । ব্রাহ্মণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়া আসিয়াছ কি ? জীব । বোধ হয়, গুরুদেব তাই মনে করেন । চতুর্থ পরিচ্ছেদ সাম্রাহকৃত্য-সমাপনাস্তে মহেক্সকে ডাকিয়া সত্যনন্দ আদেশ করিলেন, “তোমার কন্যা জীবিত আছে ” মহে । কোথায় মহারাজ ? সত্য । তুমি আমাকে মহারাজ ৰলিতেছ কেন ?