পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আনন্দমঠ ভব। এই দশসহস্ৰ সেনা সেই পুলের উপর দিয়া পার করিতে গেলে এত ভিড় হইবে যে, বোধ হয়, একটা তোপেই অবলীলাক্রমে সমুদয় সন্তানসেন ধ্বংস করিতে পারিবে । জীব। এক কৰ্ম্ম কর, অল্পসংখ্যক সেন তুমি সঙ্গে রাখ, এই যুদ্ধে তুমি যে সাহস ও চাতুৰ্য্য দেখাইলে —তোমার অসাধ্য কাজ নাই । তুমি সেই অল্পসংখ্যক সন্তান লইয়া সম্মুখ রক্ষ কর । আমি তোমার সেনার অন্তরালে অবশিষ্ট সন্তানগণকে পুল পার করিয়া লষ্টয়া যাই । তোমার সঙ্গে যাহার। রহিল, তাহার। নিশ্চিত বিনষ্ট হইবে, তামার সঙ্গে যাহারা রহিল, তাহার। বঁচিলে বাটিতে পরিবে । ভব । আচ্ছ, আমি তাহ করিতেছি । তখন ভবানন্দ দুষ্ট সহস্ৰ সন্তান লইয়া পুনৰ্ব্বার “বন্দে মাতরম" শব্দ উথিত করিয়া, ঘোর উৎসাহ-সহকারে ইংরেজের গোলন্দাজসৈঙ্গ আক্রমণ করিলেন । সেইখানে ঘোরতর যুদ্ধ হইতে লাগিল, কিন্তু তোপের মুখে সেই ক্ষুদ সন্তান সেন কতক্ষণ টিকে । ধানকাটার মত তাহাদিগকে গোলন্দাজের ভূমিশায়ী করিতে লাগিল । এই অবসরে জীবানন্দ অবশিষ্ট সস্তানসেনার মুখ ঈষৎ ফিরাইয়। বামভাগে কানন বেড়িয়। ধীরে ধীরে চলিলেন । কাপ্তেম টমাসের এক জন সহযোগ লেপ্টে নান্ট ওয়াটসন দূর হইতে দেখিলেন সে, এক সম্প্রদায় সন্তান ধীরে ধীরে পলাইতেছে তখন তিনি এক দল ফৌজদারী সিপাহী, এক দল পরগণ সিপাহী লইয়৷ জীবানন্দের অগ্রবর্তী হইলেন । ইহা কাপ্তেন টমাস দেখিতে পাইলেন । সস্তানসম্প্রদায়ের মধ্যে প্রপান ভাগ পলাইতেছে দেখিয়। তিনি কাপ্তেন হে-নাম এক জন সহযোগীকে বলিলেন যে, “আমি দুই চারি শত সিপাহী লইয়া এই উপস্থিত ভগ্ন বিদ্রোহীদিগকে নিহত করিতেছি, তুমি তোপগুলি ও অবশিষ্ট সৈন্য লইয়া উহাদের প্রতি ধাবমান হও, বামদিক দিয়া লেপ্টেনাণ্ট ওয়াটসন যাইতেছে, দক্ষিণদিক্ দিয়া তুমি যাও। আর দেখ, আগে গিয়া পুলের মুখ বন্ধ করিতে হইবে, তাহা হইলে তিন দিক্ হইতে তাহাদিগকে বেষ্টিত করিয়া জালের পাখীর মত মারিতে পারিব। উহার দ্রুতপদ দেশী ফোঁজ, সৰ্ব্বাপেক্ষা পলায়নেই সুদক্ষ ; অতএব তুমি উহাদিগকে সহজে ধরিতে পরিবে না, তুমি আশ্বারোহীদিগকে একটু ঘুরপথে আড়াল দিয়া গিয়া পুলের মুখে দাড়াইতে বল, তাহা হইলে কৰ্ম্ম সিদ্ধ হইবে।” কাপ্তেন হে তাছাই করিল। (tó “অতি দৰ্পে হত। লঙ্কা ।” কাপ্তেন টমাস সস্তানদিগকে অতিশয় ঘৃণা করিয়া, দুই শত মাত্র পদাতিক ভবানন্দের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য রাখিয়া আর সকল হের সঙ্গ পাঠাইলেন । চতুর ভবানন্দ যখন দেখিলেন, ইংরেজের তোপ সকলই গেল, সৈন্য সব : গেল, যাহা অল্পই রহিল, তাহ সহজেই বধ্য, তখন তিনি নিজ হতাবশিষ্ট দলকে ডাকিয়া বলিলেন ষে, “এই কয়েক জনকে নিহত করিয়া জীবানন্দের সাহায্যে আমাকে যাইতে হইবে । আর একবার তোমরা জয় জগদীশ হরে বল ।” তখন সেই অল্পসংখ্যক সস্তানসেন। “জয় জগদীশ হরে” বলিয়া ব্যান্ত্রের দ্যায় কাপ্তেন টমাসের উপর লাফাইয়া পড়িল । সে আক্রমণের উগ্ৰত অল্পসংখ্যক সিপাহীর তৈলঙ্গীর দল সহ করিতে পারিল না, তাহারা বিনষ্ট হইল। ভবানন্দ তখন নিজে গিয়া কাপ্তেন টমাসের চুল ধরিলেন । কাপ্তেন শেষ পর্যন্ত সৃদ্ধ করিতেছিল। ভবানন্দ বলিলেন, “কাপ্তেন সাহেব ! তোমায় মারিব না, ইংরেজ আমাদিগের শত্র নহে । কেন তুমি মুসলমানের । সহায় হইয়া আসিয়াছ ? আইস,--তোমার প্রাণদান । দিলাম, আপাততঃ তুমি বন্দী। ইংরেজের জয় হউক, আমরা তোমাদের সুহৃদ ।” .* কাপ্তেন টমাস তখন ভবানন্দকে বধ করিবার জন্য সঙ্গীনসহিত বন্দুক উঠাইবার চেষ্টা করিল, কিন্তু ভবানন্দ তাহাকে বাঘের মত ধরিয়াছিলেন, কাপ্তেন , টমাস নড়িতে পারিল না । তখন ভবানন্দ অনুচরবর্গকে বলিলেন, “ইহাকে বাধ ” দুই তিন জন সন্তান আসিয়া কাপ্তেন টমাসকে বাধিল । ভবানন্দ বলিলেন, “ইহাকে একটা ঘোড়ার উপর তুলিয়া লও, চল, উহাকে লইয়া আমর। জীবানন্দ গোস্বামীর আনুকূল্যে যাই ।” তখন সেই অল্পসংখ্যক সেনাগণ কাপ্তেন টমাসকে ঘোড়ায় বাধিয়া লইয়া “বন্দে মাতরম্ গায়িতে গায়িতে ওয়াটসনকে লক্ষ্য করিয়া ছুটিল । জীবাননের ভগ্নোদ্যম সন্তান-সেনা, তাহারা পলায়নে উদ্যত । জীবানন্দ ও ধীরানন্দ তাহাদিগকে বুঝাইয়া সংযত রাখিলেন, কিন্তু সকলকে পারিলেন না, কতকগুলি পলাইয়া আনকাননে আশ্রয় লইল । অবশিষ্ট সেনা জীবাননা ও ধারানন্দ পুলের মুখে । লইয়া গেলেন। কিন্তু সেইখানে হে ও ওয়াটসন స్టో দুই দিক্ হইতে ঘিরিল । আর রক্ষা নাহ । >