পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আনন্দমঠ দিন জীবানন্দ প্রায়শ্চিত্ত করিয়৷ দেহ বিসর্জন করে । কিন্তু আমার এক ভরসা আছে, কোন নিগূঢ় কারণে সে এক্ষণে মরিতে পরিবে না । তুমি এক প্রতিজ্ঞ রক্ষা করিয়াছ। এক্ষণে সস্তানের কার্য্যোদ্ধার হইল ; প্রতিজ্ঞা ছিল ষে, যত দিন না সস্তানের কার্য্যোদ্ধার হয়, তত দিন তুমি স্ত্রী-কন্যার মুখদর্শন করিবে না । এক্ষণে কার্য্যোদ্ধার হইয়াছে, এখন আবার সংসারী হইতে পার ।" মহেন্দ্রের চক্ষে দরদরিত ধার! বহিল । মহেন্দু বলিলেন, “ঠাকুর, সংসারী হুইব কাহাকে লষ্টয় ? স্ত্রী ত আত্মঘাতিনী হইয়াছেন, তার কন্ঠ কোথায় যে, তা তো জানি না, কোথায় বা সন্ধান পাইব ? আপনি বলিয়াছেন, জীবিত আছে, ইঙ্কষ্ট জানি, তার কিছু জানি ন৷ ” সত্যানন্দ তখন নবীনাননকে ডাকিয়। মহেন্দ্রকে বলিলেন, “ইনি নবীনানন্দ গোস্বামী –অতি পধিত্র চেত। আমার প্রিশ্নশিষ্য । ইনি তোমার কন্যার সন্ধান বলিয়। দিবেন ।” এই বলিয়। সত্যানন্দ শান্তিকে কিছু ইঙ্গিত করিলেন । শাস্তি তাহু বুঝিয়। প্রণাম بيسايرته ¢ጭ করিয়া বিদায় হয়, তখন মহেন্দ্র বলিলেন, “কোথায় তোমার সহিত সাক্ষাৎ হইবে ?” শাস্তি বলিল, “আমার আশ্রমে আসুন ।” এই বলিয়া শান্তি আগে আগে চলিল । তখন মহেন্দ ব্রহ্মচারীর পাদবনানা করিয়া বিদায় হইলেন এবং শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে তাহার আশ্রমে উপস্থিত হইলেন । তখন অনেক রাত্রি হইয়াছে তথাপি শাস্তি বিশ্রাম না করিয়া নগরাভিমুখে যাত্র করিল। সকলে চলিয়া গেলে, ব্ৰহ্মচারী একা ভূমে প্রণত হইয়া, মাটীতে মস্তকস্থাপন করিয়া, মনে মনে জগদীশ্বরের ধ্যান করিতে লাগিলেন । রাত্রি প্রভাত হইয়। তাসিল । এমন সময়ে কে আসিয়া তাহার মস্তক স্পর্শ করিয়। বলিল, “আমি ত্যাসিয়াছি।” ব্ৰহ্মচারী উঠিয়া চমকিত হইয়া অতি ব্যগ্রভাবে বলিলেন, “আপনি আসিয়াছেন ? কেন ?" যে আসিয়াছিল, সে বলিল, “দিন পূর্ণ হইয়াছে।” ব্ৰহ্মচারী বলিলেন, “হে প্ৰভু ! আজি ক্ষমা করুন । আগামী মাঘীপূর্ণিমার আমি আপনার আজ্ঞা পালন করিব ।”