পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* >8 বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী রাজপুরুষ বলিলেন, “অথবা রাজার অপ্রিয় ংবাদ বুদ্ধিমান লোকে প্রকাশ করে না। যাহাই হউক, আপনি যেমন বলিলেন, আমি সেইরূপ রাজসমীপে নিবেদন করিব।” চন্দ্রশেখর বিদায় হইলেন । রাজকৰ্ম্মচারী তাহার পাথেয় দিতে সাহস করিলেন না । চন্দ্রশেখর ব্রাহ্মণ এবং পণ্ডিত, কিন্তু ব্রাহ্মণ পণ্ডিত মহেন—ভিক্ষা করেন ন।---কাহারও কাছে দান গ্ৰহণ করেন ন! । গৃহে ফিরিয়া আসিতে দূর হইতে, চন্দ্রশেখর নিজ গৃহ দেখিতে পাইলেন । দেখিবামাত্র তাহার মনে BBBBB BBBB BBB S 0LYSKBB BBBS BB জিজ্ঞাসু, আপন! আপনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেন, বিদেশ হইতে আগমনকালে স্বগৃহ দেখিয়৷ হৃদয়ে আহলাদের সঞ্চার হয় কেন ? আমি কি এত দিন আহার-নিদ্রার কষ্ট পাইয়াছি ? গৃহে গেলে বিদেশ অপেক্ষ। কি সুখে সুখী হইব ? এ বয়সে আমাকে গুরুতর মোহবন্ধে পড়িতে হইয়াছে সন্দেহ নাই । ঐ গৃহমধ্যে আমার প্রেয়সী ভাৰ্য্য! বাস করেন, এই জন্য আমার এ অঙ্গলদৈ ? এ বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ড সকলই বহ্ম ৷ যদি তাই, তবে কাহারও প্রতি প্রেমাধিক্য, কাহার ও প্রতি অশ্রদ্ধা জন্মে কেন ? সকলই ত সেই সচ্চিদানন্দ । আমার যে তল্পী লইয়। আসিতেছে, তাহার প্রতি একবার ও ফিরিয়! চাহিতে ইচ্ছা হইতেছে না কেন ? আর সেই উৎফুল্লকমল৷ ননার মুখপদ্ম দেখিবার জন্য এত কাতর হইয়াছি কেন ? ভগবদ্বাক্যে অশ্রদ্ধা করি না, কিন্তু আমি দারুণ মোহজালে জড়িত হইতেছি । এ মোহজাল কাটিতেও ইচ্ছা করে ন!—বদি অনন্তকাল পঁচি, তবে অনস্তকাল এই মোহে অচ্ছন্ন থাকিতে বাসন করিব । কতক্ষণে আবার শৈবলিনকে দেখিব ?" অকস্মাৎ চন্দ্রশেখরের মনে তা ত্যন্ত গুয়সঞ্চার হইল । যদি বাড়া গিয় শৈবলিনাকে ন। দেখিতে পাই ? কেন পাইব না ? যদি পীড়া হইয়া থাকে ? পীড়া ত সকলেরই হয় –আরাম কষ্টবে । চন্দ্রশেখর ভাবিলেন, পীড়ার কথ। মনে হওয়াতে এত অসুখ হইতেছে কেন ? কহি1র ন| পীড়া হয় ? তবে যদি কোন কঠিন পীড়। ইষ্টয় থাকে ? চন্দ্রশেখর দ্রুত চলিলেন। ‘যদি পীড়া হইয় থাকে, ঈশ্বর শৈবলিনীকে আরাম করিবেন, স্বস্ত্যয়ন করিব । যদি পীড়া ভাল না হয় ? চন্দ্রশেখরের চক্ষে জল আসিল । ভাবিলেন, ‘ভগবান আমায় এ বয়সে এ রত্ন দিয়৷ আবার কি বঞ্চিত করিলেন ? তাহারই বা বিচিত্র কি —আমি কি তাহার এতই অতুগৃহীত যে, তিনি আমার কপালে সুখ বৈ দুঃখবিধান করিবেন না ? হয় ত ঘোরতর দুঃখ আমার কপালে আছে । যদি গিয়া দেখি, শৈবলিনী নাই ?—যদি গিয়া শুনি ষে, শৈবলিনী উৎকট রোগে প্রাণত্যাগ করিয়াছে ? তাহা হইলে আমি বাচিব না । চন্দ্রশেখর অতি দ্রুতপদে চলিলেন । পল্লীমধ্যে পৌঁছিয়া দেখিলেন, প্রতিবাগীরা তাহার মুখ-প্রতি অতি গম্ভীর ভাবে চাহিয়া দেখিতেছে । চন্দ্রশেখর সে চাহনীর অর্থ বুঝিতে পারিলেন ন। বালকের। তাছাকে দেখিয়া চুপি চুপি হাসিল । কেহ কেহ দূরে থাকিয় তাহার পশ্চাদ্বত্তী হইল । প্রাচীনের তাহকে দেখিয়া পশ্চাৎ ফিরিয় দাড়াইল । চন্দ্রশেখর বিস্মিত হইলেন—ভীত হইলেন-অন্যমন হইলেন –কোন দিকে ন চাহিয়া আপন গৃহদ্বারে উপস্থিত হইলেন । দ্বার রুদ্ধ । বাহির হইতে দ্বার ঠেলিলে ভৃত্যু বহিপাটার দ্বার পুলিয়া দিল । চন্দ্রশেখরকে দেখিয়া ভূত। কাদিয়া উঠিল । চন্দ্রশেখর জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি হইয়াছে ?” ভূত কিছু উত্তর না করিয়া, কাদিতে কঁাদিতে ঢলিয়া গেল । চন্দ্রশেখর মনে মনে ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করিলেন । দেখিলেন, উঠানে ঝ tট পড়ে নাই –চণ্ডিমণ্ডপে ধূল । স্থানে স্থানে পোড়া মশাল, স্থানে স্থানে কবাট ভাঙ্গ । চন্দ্রশেখর অন্তঃপুরমপে প্রবেশ করিলেন । দেখিলেন, সকল ঘরেরই দ্বার বাহির হইতে বন্ধ । দেখিলেন, পরিচারিক। তাহাকে দেখিয় সরিয়৷ গেল । শুনিতে পাষ্টলেন, সে বাটার বাহিরে গিয়া চীৎকার করিয়া কঁদিতে লাগিল । তখন চন্দ্রশেখর প্রাঙ্গণমধ্যে দাড়াইয়। উচ্চৈঃস্বরে বিকৃতকণ্ঠে ডাকিলেন, “শৈবলিনি " কেহ উত্তর দিল না ; চন্দ্রশেখরের বিরত কণ্ঠ শুনিয়া রোরুদ্যমান। পরিচারিকাও নিস্তব্ধ হইল । চন্দ্রশেখর আবার ডাকিলেন । গৃহমধ্যে ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হইতে লাগিল । কেহ উত্তর দিল না । ততক্ষণ শৈবলিনীর চিত্রিত তরণীর উপর গঙ্গামু সঞ্চারিত মৃত্যুপবন হিংল্লালে ইংরেজের লাল নিশান উড়িতেছিল—মাঝিরা সারি গায়িতেছিল । 球 發 矛 激 菇 চন্দ্রশেখর সকল শুনিলেন । তখন চন্দ্রশেখর সযত্নে গৃহপ্রতিষ্ঠিত শালগ্রামশীলা সুন্দরীর পিতৃগৃহে রাখিয়া আসিলেন । তৈজস, বস্ত্র প্রভৃতি গার্হস্থ্য দ্রব্যজাত দরিদ্র প্রতিবাসীদিগকে ডাকিয়া বিতরণ করিলেন। সায়াহুকাল পর্য্যস্ত এই