পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


` जनिम्मक्षं 속 ফেলে না। অতি রমণীয় বপু উটালিকামধ্যে আপন৷ আপনি পচে । যে গৃহে একবার বসস্ত প্রবেশ করে, সে গৃহবাসীরা রোগী ফেলিয়া ভয়ে পলায় । মহেন্দ্র সিংহ পদচিহ্ন গ্রামে বড় ধনবান্‌—কিন্তু আজ ধনী নিধনের এক দর। এই দুঃখপূর্ণ কালে ব্যাধিগ্রস্ত হইয়া তাহার আত্মীয়-স্বজন, দাস-দাসী সকলেই গিয়াছে। কেহ মরিয়াছে, কেহ পলাইয়াছে । সেই বহুপরিবারমধ্যে এখন তাহার ভার্য্যা ও তিনি স্বয়ং আর এক শিশুকন্ঠ । তাহাদেরই কথা বলিতেছিলাম | র্তাহার ভার্য্যা কল্যাণী চিন্তা ত্যাগ করিয়৷ গোশালে গিয়া স্বয়ং গোদোহন করিলেন । পরে দুগ্ধ তপ্ত করিয়া কন্যাকে খাওয়াইয়। গোরুকে ঘাসজল দিতে গেলেন । ফিরিয়া আসিলে মহেন্দ্র বলিলেন, “এরূপে ক'দিন চলিবে ?" কল্যাণী বলিলেন, “বড় অধিক দিন নয় । যত দিন চলে, আমি যত দিন পারি, ঢালাই, তার পর তুমি মেয়েটি লইয়া সহরে যাইও " মহেন্দ্র। সহরে যদি যাইতে হয় ত তোমায় বা কেন এত দুঃখ দিই? চল না, এখনই ঘাই । পরে দুই জনে অনেক তর্ক-বিতর্ক হইল । ক । সহরে গেলে কিছু বিশেষ উপকার হইবে কি ? ম। সে স্থান হয় ত এমনি জনশূন্ত, প্রাণরক্ষার উপায়শূন্ত হইয়াছে। ক। মুরশিদাবাদ, কাশিমবাজার ব৷ কলিকাতা গেলে প্রাণরক্ষ হইতে পারিবে । এ স্থান ত্যাগ কর। সকল প্রকারে কৰ্ত্তব্য । মহেন্দ্র বলিলেন,—“এই বাড়ী বহুকাল হইতে পুরুষানুক্রমে সঞ্চিত ধনে পরিপূর্ণ, ইহা যে সব চোরে লুঠিয়া লইবে ।” ক । লুঠিতে আসিলে আমরা কি দুই জনে রাখিতে পারিব ? প্রাণে না বাচিলে ধন ভোগ করিবে কে ? চল, এখনও বন্ধসন্ধ করিয়া ষাই । যদি প্রাণে বাচি, ফিরিয়া আসিয়া ভোগ করিব । মহেন্দ্র জিজ্ঞাস করিলেন, “তুমি পথ স্থাটিতে পরিবে কি ? বেহার। ত সব মরিয়া গিয়াছে, গোরু ত গাড়োয়ান নাই, গাড়োয়ান আছে ত গোরু নাই ।” ক । আমি পথ হাটিব, তুমি চিন্তা করিও ন৷ ” কল্যাণী মনে মনে স্থির করিলেন যে, না হয় পথে মরিয়া পড়িয়া থাকিব, তবু ত ইহার দুই জন বঁাচিবে । পরদিন প্রভাতে দুই জনে কিছু অর্থ সঙ্গে লইয়া, ঘরদ্বারে চাবি বন্ধ করিয়া, গোরুগুলি ছাড়িয়া দিয়া, কন্যাটিকে কোলে লইয়া রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করিলেন । ষাত্রাকালে মহেন্দ্র বলিলেন, “পথ অতি দুর্গম। পায়ে পায়ে ডাকাত লুঠেরা ফিরিতেছে, শুধু হাতে যাওয়া উচিত নয় ।" এই বলিয়া মহেন্দ্র গৃহে ফিরিয়া বন্দুক, গুলী, বারুদ লইয়া গেলেন । দেখিয়া কল্যাণী বলিলেন, “যদি অস্ত্রের কথা মনে করিলে, তবে তুমি একবার সুকুমারীকে ধর । আমিও হাতিয়ার লইয়া আসিব ।” এই বলিয়া কল্যাণী কন্যাকে মহেন্দ্রের কোলে দিয়। গুহমধ্যে প্রবেশ করিলেন । মহেন্দ্র বলিলেন, “তুমি আবার কি হাতিয়ার লষ্টবে ?” কল্যাণী আসিয়া একটি বিষের ক্ষুদ্র কোঁটা বস্ত্রমধে। লুকাইল । দুঃখের দিনে কপালে কি হয় বলিয়া কল্যাণী পূৰ্ব্বেই বিষ সংগ্ৰহ করির রাখিয়াছিলেন । জ্যৈষ্ঠ মাস দারুণ রৌদ্রে পৃথিবী অগ্নিময়, বায়ুতে আগুন ছড়াইতেছে, আকাশ তপ্ত তামার চাদোয়ার মত, পথের ধূলি সকল অগ্নিস্ফুলিঙ্গবৎ । কল্যাণী ঘামিতে লাগিলেন, কখনও বাবলাগাছের ছায়ায়, কখনও খেজুরগাছের ছায়ায় বসিয়া বসিয়া, শুষ্ক পুষ্করিণীর কর্দমময় জল পান করিয়া কত কষ্টে পথ চলিতে লাগিলেন । মেয়েটি মহেঞ্জের কোলেএক একবার মহেন্দ্র মেয়েকে বাতাস দেয় । একবার নিবিড় শু্যামল পত্ররঞ্জিত সুগন্ধ কুসুমসংযুক্তd লতাবেষ্টিত বৃক্ষের ছায়ায় বসিয়া দুই জনে বিশ্রাম করিলেন । মহেন্দ্র কল্যাণীর শ্রমসহিষ্ণুতা দেখিয়া বিস্মিত হইলেন । বস্ত্র ভিজাইয়া মহেন্দ্র নিকটস্থ; পহুল হইতে জল আনিয়া আপনার ও কল্যাণীর মুখে, হাতে, পায়ে, কপালে সিঞ্চন করিলেন । - কল্যাণী কিঞ্চিৎ স্নিগ্ধ হইলেন বটে, কিন্তু দুই জনে ক্ষুধায় বড় আকুল হইলেন । তাও সহ্য হয়— ; মেয়েটির ক্ষুধাতৃষ্ণ সহ হয় না । অতএব আবার র্তাহারা পথ বাহিয়৷ চলিলেন । সেই অগ্নিতরঙ্গ সস্তরণ করিয়৷ সন্ধ্যার পূর্বে এক চটতে পৌছিলেন : মহেন্দ্রের মনে মনে বড় আশা ছিল, চটীতে গিয়া । স্ত্রী-কন্যার মুখে শীতল জল দিতে পরিবেন ; প্রাণরক্ষার জন্য মুখে আহার দিতে পারিবেন । কিন্তু কৈ ? : চটীতে ত মনুষ্য নাই। বড় বড় ঘর পড়িয়া আছে, মানুষ সকল পলাইয়াছে । মহেন্দ্র ইতস্ততঃ নিরীক্ষণ । করিয়া স্ত্রী-কন্যাকে একটি ঘরের ভিতর শোয়াইলেন।. বাহির হইয়া উচ্চৈঃস্বরে ডাকহঁাক করিতে লাগিলেন । কাহারও উত্তর পাইলেন না । তখন মহেন্দ্র কল্যাণীকে