পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২২ রূপসী বলিল, “দিদি, তুই বড় কুঁজলী!" সুন্দরী উত্তর করিল, “সেই ত আমায় কুঁজুলী করেছে ? পঞ্চম পরিচ্ছেদ গঙ্গাতীরে কলিকাতার কেন্সিল স্থির করিয়াছিলেন, নবাবের সঙ্গে যুদ্ধ করিব । সম্প্রতি আজিমাবাদের কুঠিতে কিছু অস্ত্র পাঠান আবখ্যক । সেই জন্ত এক নৌক৷ অস্ত্র বোঝাই দিলেন । আজিমাবাদের অধ্যক্ষ ইলিস সাহেবকে কিছু গুপ্ত উপদেশ প্রেরণ অবিশ্বক হইল - অামিয়ট সাহেব নবাবের সঙ্গে গোলযোগ মিটাইবার জন্য মুঙ্গেরে আছেন—সেখানে তিনি কি কপ্লিতেছেন, কি বুঝিলেন, তাহা না জানিয়া ও ইলিসকে কোন প্রকার অবধারিত উপদেশ দেওয়া যায় না ; অতএব এক জন চতুর কৰ্ম্ম চারীকে তথায় পাঠান আবখ্যক হঠল । সে অামিয়টর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়া তাহার উপদেশ লইয়। ইলিসের নিকট যাইবে এবং কলিকা তার কেন্সিলের অভিপ্রায় ও অামিয়টের অভিপ্রায় তাহাকে সুঝাইয় দিবে। এই সকল কার্যের জন্য গবর্ণর বান্সটার্ট ফক্টরকে পুৰ্ব্বন্দরপুর হইতে আনিলেন । তিনি অস্ত্রের নৌক৷ রক্ষণাবেক্ষণ করিয়া লইয়। যাইবেন এবং অমিয়টের সহিত সাক্ষাৎ করিয়৷ পাটনা যাইবেন , সুতরাং ফষ্টরকে কলিকাতায় আসিয়াই পশ্চিমমাত্রা করিতে হুইল । তিনি এ সকল রক্তান্তের সংবাদ পূৰ্ব্বেষ্ট পাইয়াছিলেন, এ জন্য শৈবলিনাকে অগ্ৰেই মুঙ্গেরে পাঠাইয়াছিলেন । ফষ্টর পথিমধ্যে শৈবলিনাকে ধরিলেন । ফষ্টর অস্ত্রের নৌকা এবং শৈবলিনীর সহিত মুঙ্গেরে আসিয়া তীরে নৌক বাপিলেন । অমিয়টের সহিত সাক্ষাৎ করিয়৷ বিদায় হইলেন, কিন্তু এমন সময়ে গুরুগম্‌ ৰ্থ। নৌকা আটক করিলেন। তখন আমিয়টের সঙ্গে নবাবের বাদানুবাদ উপস্থিত হইল । অদ্য আমিরটের সঙ্গে ফক্টরের এই কথা স্থির হইল যে, যদি নবাব নৌকা ছাড়িয়া দেন, ভালই, নচেৎ কাল প্রাতে ফষ্টর অস্ত্রের নৌকা ফেলিয়। পাটনায় চলিয়া যাইবেন । ফক্টরের দুইখানি নৌক মুঙ্গেরের ঘাটে বাধা । একখানি দেশী ভড়-আকারে বড় বৃহৎ—আর একখানি বজরা । ভড়ের উপর কয়েক জন নবাবের সিপাহী পাহার দিতেছে । তীরেও কয়েক জন সিপাহী ; এইখানিতেই অস্ত্র বোঝাই—এইখানিই গুরুগম্‌ ৰ্থ আটক করিতে চাহেন। বজরখানিতে অস্ত্র বোঝাই নহে। সেখানি ভড় হইতে হাত পঞ্চাশ দুরে আছে। সেখানে কেহ নবাবের পাহার মাষ্ট । ছাদের উপর এক জন “ভেলিঙ্গ” নামক ইংরেঞ্জদিগের সিপাহী বসিয়া নৌক বুক্ষণ করিতেছিল । রাত্ৰি সাৰ্দ্ধ-দ্বিপ্রহর । অন্ধকার রাত্রি, কিন্তু পরিষ্কার । বজরার পাহার গুয়াল একবার উঠিতেছে, একবার বসিতেছে, একবার দৃলিতেছে । তীরে একটা কসাড়বন ছিল । তাহার অন্তরালে থাকিয় এক ব্যক্তি কাহীকে নিরীক্ষণ করিতেছে । নিরীক্ষণকারী স্বয়ং প্র গুপি রাসু । প্রভাপ রায় দেখিলেন, প্রহরা ঢুলিতেছে । তখন KKK KD BBBS BB BB BB BS BBBBS প্রহরী জলের শব্দ পঠিয় লিতে চলিতে জিজ্ঞাসা করিল, “হুকুমদার ?” প্রতীপ রায় উত্তর করিলেন BS Kgg BBBB SBBB S BBBB BBB সক্টর সম্ভক কৰ্কশ গধু ছিলেন । তিনিও প্রহরীর বাক; শুনি । ব মরার মধ্য ইণ্ডে লেন । দেখিলেন, এক দল মেলে নমিয়াড়ে । এমন সময় কসাল্লুবন হইতে, অকস্মাৎ বন্দুকের শব্দ হ’ল । ব জরার প্রহর গুলীর দ্বার আহত হইয়া জলে পড়িঃ গেল। প্রস্তাপ তখন যেখানে নৌকার অন্ধকার ছুiা পড়িয়াছিল, সেইখানে আসিয়া ওষ্ঠ পর্যন্ত ডুবাইর রহিলেন । বন্দুকের শুণ্য হইব:মাল্ল ভড়ের সিপাহীর “কিয়া হৈ রে ? বলির গোলদোগ করিয়া উঠিল । নৌকার অপরাপর লোকে জাগরি ত চল । ফষ্টর বন্দুক হাতে করি: বাহির হষ্টলেন । - লরেন্স ফষ্টর বাহিরে অসিম চারিদিক ইতস্ততঃ নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন । দেখিলেন, তাহার তেলিঙ্গ প্রহরী অস্তহিত হইয়াছে—নক্ষত্রালোকে দেখিলেন, তাহার মুতদেহ ভাসিতেছে, প্রথমে মনে করিলেন, নবাবের সিপাহার। মারিয়াছে ? কিন্তু তখনই কসাড়বনের দিকে অল্প ধূমরেখা দেখিলেন। আরও দেখিলেন, তাহার সঙ্গে দ্বিতীয় নৌকার লোক সকল বৃত্তাস্ত কি জানিবার জষ্ঠ দৌড়িয়া আসিতেছে । আকাশে নক্ষত্র জ্বলিতেছে—গঙ্গাকুলে শত বৃহত্তরণীশ্রেণী অন্ধকারে নিদ্রিত রাক্ষসীর মত নিশ্চেষ্ট