পাতা:বঙ্গদর্শন-প্রথম খন্ড.djvu/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| | क्नेषलन, ६थ३, १९१० ) সঙ্গে লইয়া আদিও, তুমি আসিলেই বিবাহ

  • ommon

বিষবৃক্ষ । ३ॐ আমাকে ভুলিলে অনেক জিনিসের কাচারই আদর। কাচ পেয়ার, কাচ শশী লোকে ভাল বাসে নারিকেলের ডাবই শীতল। এ অধম খ্ৰীজাতিরও বুকি কেবল - কাচা | মিঠে ? নছিলে বালিকাটা পাইয়া স্বামার | জুলিবে র্কৈন ? e তামাস যাউক, তুমি কি মেয়েটকে একবারে স্বত্বত্যাগ করিয়া বিলাইয়া দিয়াছ ? | নহিলে আমি সেটা তোমার কাছে ভিক্ষ করিয়া লইতাম । আছে। তুমি কোন সামগ্ৰী পাইলে তাহাতে মেয়েটিতে আমার কাজ জামার অধিকার হওয়াই উচিত, কিন্তু আজি কালি দেখিতেছি, তোমার ভগিনীরই পুৱা অধিকার । কমল যদি আমায় বেদখল করে, আমি বড় হুঃখিত হইব না । মেয়েটিতে আমার কি কাজ ? আমি তারাচরণের সঙ্গে তাহার বিৰাহ দিব। তারা চরণের জন্ত একটা ভাল মেয়ে আমি কত খুজিতেছি,তাত জান। যদি একটা ভাল মেয়ে বিধাতা মিলাইয়াছেন, তবে আমাকে নিরাশ করিও না । কমল যদি ছাড়িয়া দেয় তবে কুন্দনন্দিনীকে আসিবার সময়ে সঙ্গে করিয়া লইয়া অভ্যালিও। আমি কমলকেও অনুরোধ করিয়া লিখিলাম। ও বিবাহের আর আর উদ্যোগ করিতে প্রবৃত্ত । | হুইলাম। আমি গহনা গড়াইতে কলিকাতায় বিলম্ব করিও না, কলিকাতায় নাকি ছয় মাস থাকিলে মানুষ | ভেড়া হয়। আর যদি কুন্দকে স্বয়ং বিবাহ করিবার অভিপ্রায় না করিয়া থাক, তবে দিব। যদি নিজে বিবাহ করিবার অভিপ্রায় করিয়া থাক, তবে বল, আমি বরণ ডালা সাজাইতে বসি ।” তাবাচরণ কে, তাহ পরে প্রকাশ করিব। কিন্তু সে যেই হউক, সূৰ্য্যমুখীর প্রস্তাবে নগেন্দ্র এবং কমলমণি উভয়ে সম্মত হইলেন। মুতরাং স্থির হইল যে, নগেন্দ্র যখন বাড়ী যাইবেন, তখন কুন্দকে সঙ্গে কবিয়া লইয়া যাইবেন। সকলে আহলাদ পূর্বক সন্মত হইয়াছিলেন, কমলও কুলোর জন্ত কিছু গহনা গড়াইতে দিলেন । কিন্তু মনুষ্য ত চিরান্ধ ! কয়েক বৎসর পরে এমত এক দিন আইল, ৰখন কমলমণি ও নগেন্দ্র খুল্যবলুষ্ঠিত হইয়া কপালে করাঘাত করিয়া ভাবিলেন যে, কি" কুক্ষণে কুন্দনন্দিনীকে পাইয়াছিলাম ? কি কুক্ষণে স্বৰ্য্যমুখীর পত্রে সম্মত হইয়াছিলাম। এখন কমলমণি, স্বৰ্য্যমুখী, নগেন্দ্র, তিন জনে মিলিত হইয়া বিষবীজ রোপণ করিলেন । পরে তিন জনেই হাহাকার করিবেন। এখন বজরা সাজাইরা নগেন্দ্র কুন্দক লইয়া গোবিন্দপুরে যাত্রা করিলেন। • কুন্দ স্বপ্ন প্রায় ভুলিয়া গিয়াছিল। নগেজের সঙ্গে যাত্রা কালে এক বার তাহ স্মরণপথে আসিল । কিন্তু নগেন্দ্রের কারুণ্যপূর্ণ মুখকান্তি এবং লোকবৎসল চরিত্র মনে করিয়া কুন্দ কিছুতেই বিশ্বাস করিল না যে, ইহঁ হইতে তাহার অনিষ্ট হইবে। অখুব কেহ কেহ এমন পতঙ্গ-বৃত্ত যে, জলস্ত, বহ্নিৱাশি দেখিয়াও তন্মধ্যে প্রবিষ্ট হয়।