পাতা:বঙ্গদর্শন-প্রথম খন্ড.djvu/৫৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


@@8 বঙ্গদর্শনে অন্য লেখক কর্তৃক সে কথার প্রতিবাদ হইয়াছে । কিন্তু জ্ঞানিক উন্নতি যে সভ্যতার কারণ, এ কথা অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে । জ্ঞানের উন্নতি না হইলে সভ্যতার - উন্নতি হইবে না। জ্ঞান আপনি জন্মে না ; অতিশয় শ্রমলভ্য। কেহ যদি বিদ্যালোচনায় রত না হয়, তবে সমাজ মধ্যে জ্ঞানের প্রকাশ হইবে না । বঙ্গদেশের কৃষক । (वत्रनलनि, भां६, ४२१* १) বিদ্যানুশীলন করিতে পারেন। তখন জ্ঞানের উদয় সম্ভব। উৎপাদকের খাষ্টয়া পরিয়া যাহা রহিল, তাহাকে সঞ্চয় বলা । যাইতে পারে। অতএব সভ্যতার উদয়ের পূর্বে প্রথমে আবশ্যক-সামাজিক ধনসঞ্চয় । কোন দেশে সামাজিক ধনসঞ্চয় হয়, কোন দেশে হয় না । যেখানে হয়, সে কিন্তু বিদ্যালোচনার পক্ষে অবকাশ দেশ সভ্য হয় । যে দেশে হয় না, সে আবখক। বিদ্যালোচনার পূৰ্ব্বে উদর | দেশ অসভ্য থাকে। কি কি কারণে দেশ পোষণ চাই ; অনাহারে কেহ জ্ঞানালোচনা করিবে না । যদি সকলকেই আহারান্বেষণে ব্যতিব্যস্ত থাকিতে হয়, তবে কাহারও জ্ঞানালোচনার অবকাশ হয় না । অতএব সভ্যতার স্বষ্টির পক্ষে প্রথমে আবশ্যক যে, সমাজ মধ্যে একটি সম্প্রদায় শারিরীক .শ্রম ব্যতীত আত্ম ভরণপোষণে সক্ষম হইবেন । অন্যে পরিশ্রম করিবে, তাহার বসিয়া বিদ্যালোচনা করিবেন। যদি শ্রমজীবীরা সমলেই কেবল আহ্বাভরণপোষণের যোগ্য খাদ্যোৎপন্ন করে, তাহা হইলে এরূপ ঘটিবে না, কেননা যাহা জন্মিবে, তাহা শ্রমোপজীবীদের সেবায় যাইবে, আর কাহারও জন্য থাকিবে না। কিন্তু যদি তাহারা আত্মভরণ পোষণের প্রয়োজনীয় পরিমাণের অপেক্ষা অধিক উৎপাদন করে, তবে তাহাদিগের ভরণ পোষণ বাদে কিছু সঞ্চিত হইবে। তদ্বারা শ্রমব্রিরক ব্যক্তিরা প্রতিপালিত হইয়া বিশেষে আদিম ধসসঞ্চয় হইয়া থাকে ? দুষ্টট কারণ সংক্ষেপে নির্দিষ্ট করা যাইতে পারে। প্রথম কারণ, ভূমির উর্বরতা। যে দেশের ভূমি উর্বর, সে দেশে সহজে অধিক শস্য উৎপন্ন হইতে পারে। সুতরাং শ্রমোপগীবিদিগের ভরণপোষণের পর আরও কিছু অবশিষ্ট থাকিয়া সঞ্চি গু হইবে । দ্বিতায় কারণ, দেশের উষ্ণতা ও শীতলভা । শীতোষ্ণহার ফল দ্বিবিধ । প্রথমতঃ, যে দেশ উষ্ণ, সে দেশের লোকের অল্পাহার তা বশ্যক, শীতল দেশে অধিক তাঙ্কার আবশ্যক এই কথা কতক গুলিন স্বাভাবিক নিয়মের উপর নির্ভর করে, তাহা এই ক্ষুদ্রপ্রবন্ধে লিখিবার স্থান নাই , আমরা এতদংশ বক্লের গ্রন্থের অনুবর্তী হইয় লিখিতেছি ; কৌতুহলবিশিষ্ট পাঠক সেই গ্রন্থ দেখিবেন, যে দেশের লোকের সাধারণতঃ অল্প খাদ্যের প্রয়োজন, সে