পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কায়স্থ কাণ্ড, প্রথমাংশ, রাজন্য কাণ্ড).djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

আদি কায়স্থ-সমাজ । ] রাজন্য-কাণ্ড ২৫ রাজত্ব করিতে পারেন নাই। পূর্বেই লিখিয়াছি যে, পুঝমিত্রের আধিপত্যকালেই দাক্ষিণাত্যে সাতকণি নামক এক আন্ধরাজ প্রবল হইয়া উঠিয়াছিলেন। সিমুক নামক তাহারই কোন বংশধর প্রায় ৭৮ খৃঃ পূৰ্ব্বাদে বলপূর্বক শেষ কাথরাজ স্বশৰ্ম্মার নিকট হইতে পাটলিপুত্রের সিংহাসন অধিকার করেন। সেই আন্ধরাজই ঐতিহাসিকগণের নিকট সাতবাহন নামে পরিচিত ২৮ . . * ১৫৭ বর্ষকাল অর্থাৎ প্রায় ২৩৫ খৃঃ পূৰ্ব্বাঙ্গ হইতে ৭৮ খৃঃ পূৰ্ব্বাৰ পৰ্য্যন্ত আধ্যাবর্তে শুঙ্গ ও কাণ্ডুবংশের অধিকারে ব্রাহ্মণপ্রাধান্ত অপ্রতিহত ছিল। তৎপূৰ্ব্বে বৌদ্ধ ও জৈনাধিকারে র্যাহারা প্রবলcছিলেন, এ সময়ে তাহাদের পূর্বপ্রতিপত্তি অনেকটা হ্রাস হইয়াছিল। সেই সঙ্গে মনে হয়, রাজুকগণও পূৰ্ব্বসন্মানচ্যুত ও ব্রাহ্মণরাজপুরুষগণের বিদ্বেষভাজন হইয়া পড়িয়াছিলেন। তাহদের জাতীয় লেখ্যকৃত্তি অব্যাহত থাকিলেও ব্রাহ্মণরাজগণ আর র্তাহাদিগকে পূর্বের স্থায় রাজ্যরক্ষা ও রাজ্যশাসনকার্য্যে উচ্চ রাজকীয় পদে নিযুক্ত না করিয়া বরং তাহাদিগকে উচ্চ রাজকীয় কৰ্ম্ম হইতে অপসারিত করিতে লাগিলেন। এই কারণেই শুদ ও কাবায়ন ব্রাহ্মণগণের আধিপত্যকালে রাজুক বা উচ্চপদস্থ কায়স্ক কৰ্ম্মচারীর কোন সন্ধানই পাওয়া যায় না । যে সময়ে কাথরাজগণের মধ্যে গৃহবিবাদ চলিতেছিল এবং আন্ধরাজের লোলুপদৃষ্টি পাটলিপুত্রের উপর নিপতিত হইতেছিল, ঠিক সেই সময়েই পশ্চিম সীমাস্তবাসী শকবংশ ধীরে ধীরে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া মথুরী পৰ্য্যন্ত অস্ট্রিার করিয়া বসিয়াছিলেন। কাংরাজকে বিনাশ করিয়া আন্ধরাজ পাটলিপুত্র অধিকার করেন, সেই বিপ্লব ও বিগ্রহের অবসরে শকরাজ বারাণসী পৰ্য্যন্ত অধিকার করিয়া বসিয়াছিলেন। বৌদ্ধ-বারাণসী সারনাথ হইতে সেই শকাধিপ কনিক্ষের ক্ষত্রপ বনস্পরের শিলালেখ আবিষ্কৃত হইয়াছে। উত্তরপশ্চিম প্রদেশের তখনকার প্রাচীন জনপদসমূহ হইতে যে সকল স্বপ্রাচীন লেখমালা ও পুরাকীৰ্ত্তির ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হইয়াছে, তাহা হইতে আমরা জানিতে পারি যে, এ সময়ে সমস্ত আৰ্য্যাবর্তে আবার বৌদ্ধ ও জৈনধৰ্ম্ম প্রভাব বিস্তার করিতেছিল। শকাধিপগণের মধ্যে যিনি শক্তিসামর্থ্যে, আধিপত্যে ও সন্মানে শীর্ষস্থান অধিকার করিয়ছিলেন, তাহারই নাম কনিষ্ক। উত্তরে খেতিন খসম্বর, দক্ষিণে বিন্ধ্যাচল, পশ্চিমে আফগানস্থান পারস্তসীমা এবং পূৰ্ব্বে মগধ পৰ্য্যন্ত র্তাহার অধিকারভুক্ত হইয়াছিল। সেই শকসম্রাটুই পাটলিপুত্র হইতে বৌদ্ধাচাৰ্য্য অশ্বঘোষকে নিজ রাজধানী পুরুষপুর (বর্তমান পেশাবরে ) লইয়া আসেন। পূৰ্ব্বভারতেও যে তাহার আধিপত্য প্রসারিত হইয়াছিল, সারনাথ হইতে আবিষ্কৃত তাহার সমসাময়িক শিলালিপি হইতেই তাহ প্রমাণিত হইয়াছে। সম্রাটু অশোকের স্তায় তিনিও বৌদ্ধ মহাধৰ্ম্মসঙ্গীতি আহবান করেন । এই মহাধৰ্ম্মসঙ্গে যশোমিত্র, অশ্বঘোষপ্রমুখ ৫•• শত বৌদ্ধাচাৰ্য্য মিলিত হইয়া স্বপ্রাচীন বৌদ্ধশাস্ত্রগুলি উদ্ধার ও (**) Vincent A. Smith's Early of India, 2nded, p. 193, o