পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কায়স্থ কাণ্ড, প্রথমাংশ, রাজন্য কাণ্ড).djvu/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

8e - বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস [ ১ম মধ্যায়। পৌরাণিক মত প্রচলিত হইলেও পূৰ্ব্ব ও দক্ষিণবঙ্গ ৰহুকাল জৈননিগ্ৰস্থ ও বৌদ্ধশ্রমণগণের লীলাস্থলী বলিয়াই পরিচিত ছিল । জৈন ও বৌদ্ধগ্রন্থে ব্ৰহ্মদত্ত নৃপতির নাম পাওয়া যায়। আবুল ফজলের কথা বিশ্বাস করিলে র্তাহাকে কায়স্থ নৃপতি বলিয়া গ্রহণ করিতে হয়। তিনি শ্রেণিকরাজের নিকট অঙ্গ ও পশ্চিম বঙ্গ হারাইয়া দক্ষিণরাঢ় বা পূৰ্ব্ববঙ্গ আশ্রয় করিয়াছিলেন। বলা বাহুল্য, সেই সুপ্রাচীনকাল হইতে গুপ্তশাসনের পূর্ব পর্য্যন্ত এখানকার কায়স্থ-সন্তানগণ হয় জৈন,নয় বৌদ্ধধৰ্ম্মের পক্ষপাতী ছিলেন। বহুশত বর্ষ ধরিয়া যে ধর্মের প্রভাব যে সমাজের উপর আধিপত্য বিস্তার করিয়াছিল, সেই মুলধৰ্ম্ম বিলুপ্ত হইলেও সমাজের স্তরে স্তরে প্রস্তররেখাবৎ ७iझांज्ञ छिंश्रु पञवश्ॐ থাকিয়া যাইবে। এ কারণ এখানকার সেই পুৰ্ব্বতন কায়স্থ-সমাজের অনন্তর-জাত বর্তমান সমাজেও তাহার ক্ষীণ স্মৃতির অত্যন্তাভাব ঘটে নাই। 尊 গুপ্তাধিকারে যেমন পশ্চিম ভারতে কায়স্থগণ ধীরে ধীরে ব্রাহ্মণভক্ত ও উচ্চ রাজকীয় পদে অধিষ্ঠিত হইয়াছিলেন, এখানকার কায়স্থসমাজকে সেরূপ নীতি অবলম্বন করিতে হয় নাই । প্তাহারা পুৰ্ব্বতন মৌর্য্য ও শকাধিকারে বরাবর স্ব স্ব প্রতিপত্তি অক্ষুণ্ণ রাখিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। গুঙ্গ, কাঞ্চ ও গুপ্তাধিকারে তাহারা বাধ্য হইয়াকতকটা রাজনীতির অনুবর্তী হইলেও পূৰ্ব্ব এবং দক্ষিণ-বঙ্গের তখনকার কায়স্থ-সমাজ অনেকটা পূর্ব রীতিনীতি রক্ষা করিয়া চলিতেছিলেন , তবে গুপ্তাধিকারে তাহদের দায়াদ উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গের কায়স্থগণের প্রভাব ধীরে ধীরে প্তাহীদের মধ্যে সংক্রামিত হইতেছিল। গুপ্ত-প্রভাব যখন খৰ্ব্ব হইয়া আসিতেছিল, তৎকালে রাঢ় ও বরেন্দ্রের কায়স্থ-অধিপ বা মহামাগুলিকগণ স্বাধীনতা অবলম্বনের সহিত পূৰ্ব্ব ও দক্ষিণবঙ্গে আধিপত্য বিস্তার করিতেছিলেন এবং অধিকারভুক্ত স্থানসমূহে কায়স্থগণ নবনীতির অনুবৰ্ত্তন করিতেছিলেন। মালবপতি যশোধৰ্ম্মার শিলালেখ হইতে জানা যায় যে, তিনি লৌহিত্য বা কামরূপ পৰ্য্যস্ত সমস্ত প্রাচ্যভারত জয় করিয়াছিলেন এবং তাহার সময়ে গুপ্তবংশের পূর্বপ্রভাব লুপ্তপ্রায় হইয়ছিল। পূৰ্ব্ব অধ্যায়ে লিখিয়াছি যে, তাহার রাজত্বকালে কায়স্থগণ নানা উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হইয়াছিলেন। এমন কি, নিগমকায়স্থ ষষ্ঠদত্তের বংশধর অভয়দত্ত বিন্ধ্য ও পরিযাত্রের মধ্যবর্তী প্রদেশে ‘রাজস্থানীয় বা রাজপ্রতিনিধি-পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। ঐ সময়ের শিলালেখসমূহে নন্দী, কুণ্ড,ಗ”, পালিত প্রভৃতি উপাধিধারী কায়স্থ-কৰ্ম্মচারিগণের পরিচয় আছে। সম্ভবতঃ মালবপতি যশোধৰ্ম্মার বঙ্গাক্রমণ-কালে ঐরূপ কায়স্থ-কৰ্ম্মচারী তাহার সহিত এদেশেও আসিয়া থাকিবেন। তাহার সম-সময়ে বা অত্যন্ত্রকাল পরেই ‘বারক-মণ্ডল’ বা বরেন্দ্র অঞ্চলে ধৰ্ম্মাদিত্য নামে এক নৃপতির অভু্যদয় ঘটে। সমুদ্রতীর পর্য্যন্ত ভূভাগ তাহার শাসনাধীন ছিল। অধিক সম্ভব, যশোধৰ্ম্মার বঙ্গবিজয়ের পর ধৰ্ম্মাদিত্য প্রথমতঃ র্তাহার অধীন মহারাজ বা রাজস্থানীয় রূপেই রাজত্ব করিতেন। যশোধৰ্ম্মার মৃত্যু ও গুপ্তসম্রাট্রগণের প্রভাব হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা অবলম্বন ও সমস্ত প্রাচ্যভারত অধিকার করিয়া ‘মহারাজাধিরাজ’ ‘পরমভট্টারক’