পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কায়স্থ কাণ্ড, প্রথমাংশ, রাজন্য কাণ্ড).djvu/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

[ e ] বলিয়া পরিগণিত ছিল। খৃষ্টীয় ৮ম শতবে কাশ্মীরপতি জয়াদিত্য প্রাচ্য-ভারতে যখন পঞ্চগৌড়ের নৃপতিগণকে পরাজয় করিয়া শ্বশুরকে তাহাদের অধীশ্বর করিয়াছিলেন, বোধ হয় সেই সময়েই সিংহপুরের যাদব-সামন্তগণ র্তাহার সহিত আসিয়া প্রথমে পেও বৰ্দ্ধন-প্রদেশেরই একাংশে সমস্তন্‌পতিরূপে প্রতিষ্ঠিত হন। পালবংশের প্রথম লুধিপত্য-কালেও তথায় যে বৰ্ম্মবংশ বিদ্যমান ছিল, ভাহা ধৰ্ম্মপালের খালিমপুর-তাম্রলেথ-বণিত মহাসামন্তাধিপতি শ্ৰীনারায়ণবৰ্ম্মার পরিচয় হইতে জানা গিয়াছে। এই মহাসামন্তবংশেই সম্ভবতঃ জাতধৰ্ম্মার পিতা বজ্ৰবৰ্ম্ম জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনিই প্রথমতঃ হুগলী জেলায় সিংহপুরে আসিয়া অধিষ্ঠিত হন। এই কারণে আমরা জাতবৰ্ম্মা ও হরিবর্মকে রাঢ় ও বঙ্গের রাজা বলিয়া গ্রহণ করিতে পারি। হুগলী জেলায় যে বহুকাল ক্ষত্রিয় বৰ্ম্ম-বংশের প্রতিপত্তি ছিল, এখনও সিংহ উপাধিধারী স্থানীয় জমিদারদিগের পরিচয় হইতে জানা যাইঙেছে । ৩১৮ পৃষ্ঠায় বিশ্বক্সেনের পরিচয়-প্রসঙ্গে যে এড় মিশ্রের কারিক উদ্ধৃত হইয়াছে, তাহ পণ্ডিত লালমোহন বিষ্ঠানিধি মহাশয় তাগর ‘সম্বন্ধনির্ণয়’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করিয়াছেন। আমাদের সংগৃহীত এড়,মিশ্রের ভাষার সহিত সম্বন্ধনির্ণয়স্কৃত শ্লোকাবলীর ভাষার যথেষ্ট পার্থক্য রছিয়াছে, এই কারণে শ্লোকগুলির মৌলিকতা সম্বন্ধে সন্দেহ করিতেছি । & পাল ও সেনবংশ-প্রসঙ্গে দেখাইয়াছি যে, তৎকালে গোঁড়বঙ্গের সহিত বিশেষভাবে দক্ষিণাত্য-সংস্রব ঘটিয়াছিল এবং অনেক সময় দক্ষিণাত্যগণ গৌড়বঙ্গ শাসন করিয়া গিয়াঁছেন । সেই সকল দক্ষিণাত্যগণের আবার পূর্বপুরুষগণের পরিচয় সম্বন্ধে আলোচনা করিলে বুঝিতে পারা যায় যে, তাহাদের পূৰ্ব্বপুরুষগণ আৰ্য্যাবৰ্ত্তবাসী আৰ্য্যসন্তান এবং আর্য্যবৰ্ত্ত হইতেই অতিপূৰ্ব্বকালে তাহারা দাক্ষিণাত্যে গিয়া উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিলেন । বহু কাল দক্ষিণাত্যে বাস ও তত্ৰত্য কুমারিল, শঙ্করাচার্য্য প্রভৃতি ধৰ্ম্মাচাৰ্য্যগণের প্রভাবে তাহারা দাক্ষিণাত্য রীতিনীতি, আচার-ব্যবহার ও ধৰ্ম্মানুষ্ঠান নিজস্ব করিয়া লইয়াছিলেন । তাহদের বংশধরগণ গৌড়ৰঙ্গে আসিয়া যখন আধিপত্য-বিস্তার করেন, তখন তাহদের সহিত দাক্ষিণাত্যরীতিনীতি যে এদেশে প্রচলিত হইয়াছিল, তাহাতে সন্দেহ নাই। বলা বাহুল্য, কর্ণাট হইতে আগত সেন প্রভৃতি রাজবংশ দাক্ষিণাত্য-রীতিনীতিরই অনেকটা অনুসরণ করিতেন । র্তাহারা দাক্ষিণাত্য হইতে যেরূপ ধৰ্ম্মবিশ্বাস লইয়া এদেশে আসিয়াছিলেন, তাহার অনেকটা রক্ষা করিতে চেষ্টা করিয়াছেন ও র্তাহীদের শাসনাধীন প্রজীবৃন্দ যে রাজাদশের কতকটা অনুবৰ্ত্তী হইবেন, তাহা যেন গৌড় বঙ্গের প্রকৃতিরই অনুগত। কর্ণাটক প্রদেশে খৃষ্টীয় ৯ম, •ম ও ১১শ শতাদে যে সকল ব্রহ্মক্ষত্রিয়বংশ রাজত্ব করিয়া.গিয়াছেন, তাহারা স্ব স্ব শিলালিপিতে অনেকেই চালুক্য-সম্রাটগণের অধীন মহাসামস্তাধিপতি বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন এবং চালুক্যবংশের শাসন ও ধৰ্ম্মনীতির অনুসরণ করিয়া গিয়াছেন। চালুক্য-সম্রাট্রগণের বহুসংখ্যক শিলালিপি-পাঠে জানা যায় যে, তাহারা জিন, রুদ্র, বুদ্ধ ও বিষ্ণু প্রভৃতি দেবতাকে সমভাবে দেখিতেন ও র্তাহাদিগকে স্বর্ণ ও মণিমাণিক্যমণ্ডিত করিয়া গিয়াছেন।