পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কায়স্থ কাণ্ড, ষষ্ঠাংশ, দক্ষিণরাঢ়ীয় কায়স্থ কাণ্ড, প্রথম খণ্ড).djvu/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন কুলস্থান ] দক্ষিণরাষ্ট্রীয় কণয়স্থকাগু 8Cz এইস্থান রাঢ়ের বগড়ী ভূভাগের মধ্যে পড়িয়াছে। এই দেবগ্রামের নিকটে ৩ মাইল দক্ষিণে বিক্রমপুরের সীমা। রামচরিতবর্ণিত "দেবগ্রাম প্রতিবদ্ধ-বালবলভী-তরঙ্গ-বহুল গলহস্ত-প্রহস্তহস্ত বিক্ৰম” নামধেয় ষে বিক্রমরাজের উল্লেখ আছে, এই বিক্রমপুর তাহারই রাজধানী ছিল। উক্ত দেবগ্রামের পূর্বভাগে দম্ম নামক স্থানে একটা উচ্চ স্তুপ ব। টিপি আছে। স্থানীয় হিন্দু মুসলমান প্রভৃতি সাবেক অধিবাসী মাত্রেই ঐ চিপিকে “বল্লালের ভিটা” বা “বল্লালের বাড়ী” বলিয়া থাকে। পূৰ্ব্বে এখানে ভীষণ জঙ্গল ছিল। অনেকেই এখানে বাঘশীকার করিতে আসিতেন। অল্পদিন হুইল জঙ্গল সাফ হইয়াছে। ইহারই পার্থে সাওতার দীর্ঘী। ইহার উপর ডিষ্ট্রক্টবোর্ডের যত্নে বহরমপুর রোড হইবার পূৰ্ব্বে বল্লালের ভিটা ও সাঁওতার দীর্ঘ পাশাপাশি ছিল, এইজন্স প্রাচীন লোকের ঐ দীঘী বল্লালের অন্তঃপুরস্থ দীঘী বলিয়া মনে করেন। দেবগ্রাম ও বিক্রমপুরের অনেক বনিয়াদী লোকের মুখে এই দীঘীর অপর নাম “বল্লালদীবী” শুনা গিয়াছে। দেবগ্রামের রকব। প্রায় সাড়ে চৌদহাজার বিঘা। এই সীমার উত্তরে পাণিঘাট ও গোবিন্দপুর, দক্ষিণে সাতবেগে, ভাগ, চাদপুর ও বমপলাশী। ভাগ দেবগ্রাম হইতে বিক্রমপুরকে পৃথক করিয়াছে। উত্তর সীমার মধ্যে গঙ্গার শাখা পাগলাই চওঁীর দহ। দেবগ্রামের উত্তর পশ্চিম সীমায় একটী প্রাচীন গড়ের ধ্বংশাবশেষ পড়িয়া আছে এই গড়ের এবং গোবিন্দপুরের পশ্চিম পাশ্ব দিয়া গঙ্গা প্রবাহিত ছিল । গোবিন্দপুরের উত্তর গঙ্গার প্রাচীন গর্ভে মীরে গ্রাম । এই গ্রামের উত্তরে পলাশীর রণক্ষেত্র । গঙ্গার গর্ভে যেখানে যেখানে অদ্যপি জল আছে, সেই সেই স্থান দহ অথবা বিল নামে পরিচিত। বর্তমান দেবগ্রামের মধ্যে পূৰ্ব্বভাগে দমদমার ঢিপি, বল্লালসেনের ভিটা। এই ভিট। ব৷ স্তণ পূৰ্ব্বে বরাবর সাওতার দীর্ঘীর পাড় পর্যন্ত ছিল। ঐ দীঘী রাজবাড়ীর অন্তঃপুরের মধ্যে ছিল বলিয়া প্রবাদ । টিপির পূৰ্ব্ব দিয়া রাজার জাঙ্গাল বা রাজপথ ছিল। এখান হইতে ৬ মাইল ধুনী চণ্ডীপুর পর্য্যন্ত উক্ত রাজপথের নিদর্শন আছে। উক্ত দমদমার স্তুপ হইলে ২ং মাইল দূরে এবং বর্তমান বিক্রমপুরের ১২ মাইল উত্তর-পশ্চিমে একটী প্রাচীন হাট আছে, তাহার নাম বিক্রমপুরের হাট । হাটের নিকট অতি প্রাচীন একটা বড় পুষ্করণী আছে। বিক্রমপুর মাঠেই সোণাডাঙ্গ। ষ্টেশন । সোণাডাঙ্গা ষ্টেশন হইতে বিক্রমপুর গ্রাম ১২ মাইল। এখানকার পুর্বতন অধিবাসীর প্রায় সকলেই মুসলমান হইয়। গিয়াছে। এখন যে ৫/৬ ঘর মাত্র ব্রাহ্মণ আছেন তাহার ৫০৬১ বৎসরের মধ্যে এখানে আসিয়া বাস করিয়াছেন। প্রায় ৬০ বৎসর পূৰ্ব্বে স্থানীয় জমিদারদিগের সাহায্যে কাটোয়ার ডেপুটী ঈশ্বরচন্দ্র মিত্র মহাশয় বল্লালের ঢিপি খনন করাইয়াছিলেন । তাহতে ৫৬ হাত লম্বী বহু পাথরের চৌকা, মকরমুখ নৰ্দ্দাম ও বহু শিল্পযুক্ত প্রস্তরখণ্ড ও কয়েকট প্রাচীন দেবীমূৰ্ত্তি বাহির হইয়াছিল। মিত্র মহাশয় কয়েকট সুন্দর দেবীমূৰ্ত্তি কলিকাতা মিউলিয়মে পাঠাইয়া দেন এবং পাথরগুলি স্থানীয় জমিদারের ব্যবহার করেন। গ্রামবাসী