পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (বৈশ্য কাণ্ড, প্রথমাংশ).djvu/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১ম অংশ । ] বৈশ্বাসমাজের অভু্যদয় ১২৭ ২, কলিঙ্গের দুইখানি অমুশাসনলিপি চতুর্দশ শিলালিপির ক্রোড়পত্র স্বরূপ । ইহাতে নবলব্ধ রাজ্য কি ভাবে শাসন, এবং ইহার প্রাপ্তদেশবাসী অসভ্য জাতিসমূহের সঙ্গে কিরূপ ব্যবহার করা হইবে, তৎসম্বন্ধে উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। চতুর্দশ লিপির মধ্যে একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ সংখ্যক লিপির পরিবর্তে এই দুইটি প্রচার করা হইয়াছিল। ৩,আজীবক নামক দিগম্বর (নিগ্ৰস্থ) উগ্রতপস্বী সম্প্রদায়ের বাসের জন্য গুহানিৰ্ম্মণ করাইয়। এই লিপিদ্বারা অশোক সেই গুহাগুলি তাহাদিগের নামে উৎসগ করেন । ইহা হইতে বুঝা যায় যে, তিনি নিজে বৌদ্ধধৰ্ম্মাবলম্বী হইলেও প্রাচীন জৈন ধৰ্ম্মের প্রতিও শ্রদ্ধাবান ছিলেন । ৪, তরাইয়ের স্তস্তলিপি দুই খানাতে যদিও রাজনৈতিক কিছু লেখা নাই, তথাপি অশোকের তীর্থযাত্রীর সংবাদ সম্বন্ধে সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে বলিয়া ইহাদের একটু বিশেষ মূল্য আছে। যে লুম্বিনী উদ্যানে গৌতম বুদ্ধ ভূমিষ্ঠ হইয়াছিলেন বলিয়। প্রবাদ আছে, সেই লুম্বিনীর সংস্থানসম্বন্ধে রুম্মিন্দেই বা পদরিয়া লিপি . হইতে যাহা অবগত হওয়া যায়, তাহাতে বুদ্ধজন্মস্থানসম্বন্ধে আর কোন সন্দেহ থাকে না । নিগ লীবের দ্বিতীয় লিপি হইতে জানা যায় যে, অশোক যে কেবল গৌতমবুদ্ধের উপাসক ছিলেন,তাহ নহে,তিনি তৎপূর্ববৰ্ত্তী বুদ্ধদিগেরও উপাসনা করিতেন। ৫, সাতখানি স্তস্তলিপি চতুর্দশ শিলালিপির কতকটা পরিশিষ্টের মত । তাহদের সঙ্গে মিলাইয়া ন পড়িলে ইহাদিগের অর্থ বোধগম্য হয় না। প্রথম উপদেশে যে সকল মূলসূত্রের অবতারণ করা হইয়াছিল, এই গুলিতে সেই সকল বিশেষ করিয়া পুনর্বার আলোচিত হইয়াছে। কোন জীবের প্রতি যাহাতে হিংসা করা না হয়, তাহার জন্য বিধিবদ্ধ ও বিশদরূপে বিবৃত রাজশাসন প্রচার করা হইয়াছে । প্রকৃতিপুঞ্জের নৈতিক উন্নতিসাধনের জন্ত তিনি যে সকল উপায় অবলম্বন করিয়াছেন, সপ্তম স্তন্ত-লিপিতে সেই সকল বিবৃত হইয়াছে । ৬, অতিরিক্ত স্তস্তলিপিগুলি তেমন ভাল ভাবে রক্ষিত হয় নাই, এজন্য ইহাদের সকলের পাঠ উদ্ধার করা যায় না । ৭, ক্ষুদ্র শিলামুশাসনগুলি আকৃতিতে অপ্রধান হইলেও কোন কোন বিষয়ে অন্য সকল লিপি অপেক্ষ ইহাদের অাদর অধিক । ইহাদের অর্থ সম্বন্ধে কতক গুলি গুরুতর সমস্যার উদ্ভব হইয়াছে । নানা পণ্ডিত নানা ভাবে সেই গুলি ব্যাখ্যা করিবার চেষ্টা করিতেছেন, কিন্তু এখন পর্য্যন্ত কেহ কোন স্থির সিদ্ধান্তে