বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস [ বৈশ্য-কাও ৷ শুল্কবংশ কৃষিজীবী সাহা হইয়াছে। এই সৌলুকোদ্ভব সাহাগণ স্ব স্ব সাধুত্ব বা কুসীদজীবিকার দ্বারাও ধর্ম্মনিষ্ঠা ও শ্রেষ্ঠ মার্গ আশ্রয় করিয়াছিলেন, পূর্ব্বে আর্য্য-ধর্ম্মে থাকায় বারেন্দ্র সাহাগ নিঃসন্দেহে বৈশ্য বলিয়াই গণ্য ছিলেন।' যে সেনরাজগুরু কর্তৃক সৌলুক-সমাজ নিগৃহীত হইয়াছিলেন, তিনিই সম্ভবতঃ পূর্ব্ববঙ্গের সমাজপতি সেনকুলতিলক মহারাজ দনুজমাধবের গুরুদেব। পূর্ব্বেই দনুজমাধবের প্রভাবের পরিচয় দিয়াছি। সেই ব্রাহ্মণ-শাসনকালে তাঁহার গুরুদেবের কিরূপ অসামান্য প্রভাব ছিল, তাহা বলাই বাহুল্য। বঙ্গজ কায়স্থগণের প্রাচীন কুলগ্রন্থসমূহ হইতেও আমরা জানিতে পারি যে মহারাজ দনুজমাধব গুরুদেবের পরামর্শেই নানা প্রকার সমাজ-সংস্কারে হস্তক্ষেপ করিয়াছিলেন । সুতরাং অসামান্য শক্তিশালী গুরুদেবের অপ্রিয়ভাজন হইয়া সৌলুক অগ্রবাল-বংশীয় সাহাগণ পূৰ্ব্ববঙ্গীয় হিন্দুসমাজে জাতীয় সম্মান হারাইবেন, ভাল কিছু বিচিত্র নহে ! তাঁহারা প্রকৃত বৈশ্য ও নিষ্ঠাবান্ আর্য্যসন্তান বলিয়া পরিচিত হইলেও রাজগুরুর অভিশাপে তাঁহাদের অধো- গতি ঘটিয়াছিল। ‘সাহা' উপাধিধারী অপরাপর জাতি হইতে তাঁহাদের পার্থক্যজ্ঞাপনার্থ উক্ত শ্লোকে তাঁহাদের পরিচয়জ্ঞাপক ‘শুল্ক' ‘সুলুকোদ্ভব' ‘সৌলুক্য' ‘রাষ্ট্রিক' ও সাধু এই কয়টা শব্দই ডাযুক্ত হইয়াছে ৷ ঐ শ্লোকটী সেনরাজের উক্তি বা অনুশাসনবাক্য বলিয়াই কুলপরিচয়ে পরি - গৃহীত। ইহাতে মনে হয় যে, গুরুর অভিশাপ কার্য্যে পরিণত করিবার অভিপ্রায়ে সেনরাজের আদেশবাক্যও প্রচারিত হইয়াছিল। মহারাজ দনৌজামাধব ১৯৫২ হইতে প্রায় ১৩০০ খৃষ্টাব্দ পৰ্য্যস্ত পূৰ্ব্ববঙ্গে আধিপত্য করিয়া গিয়াছেন । এই সময় মধ্যেই সাহা-বণিগণের অধঃপতনের সূত্রপাত। যদিও ১৩. . খৃষ্টাব্দের পূর্ব্বেই চন্দ্রদ্বীপ ব্যতীত সমস্ত পূর্ব্ববঙ্গে মুসলমান শাসন বিস্তৃত হইয়াছিল, তথাপি তখনও খাটী মুসলমানগণ বাঙ্গালীদিগকে ঘোর শত্রু বলিয়াই মনে করিতেন। উচ্চ শ্রেণির মুসলমান- রাজপুরুষগণ বাঙ্গালীর সহিত মিশিতে ভাল বাসিতেন না, বরং বাঙ্গালীকে ঘৃণার চক্ষেই দেখিতেন। সুতরাং পূর্ব্ববঙ্গে মুসলমানশাসন বিস্তৃত হইলেও রাঢ় ও গৌড়ের ন্যায় এখানকার পল্লীস্থ হিন্দুসমাজে ব্রাহ্মণপণ্ডিতের কঠোর অনুশাসন উত্তরো- ত্তর বৃদ্ধি পাইতেছিল । ১৩৩৮ খৃষ্টাব্দে হিন্দুমুসলমানের মিলন হইয়াছিল। এই বর্ষে ফথর্-উদ্দীন-মুৰারক শাহ দিল্লী- শ্বরকে অমান্য করিয়া সুবর্ণগ্রাম অধিকার পূর্ব্বক স্বাধীনতা ঘোষণা করিলেন। এই সময় পূৰ্ব্ব- বঙ্গের প্রধান প্রধান জমিদারগণ তাঁহার সহায় হইয়াছিলেন। তৎপরে কি রাঢ় কি বঙ্গ সৰ্ব্বত্রই হিন্দু ও মুসলমান মধ্যে ঘনিষ্ঠতা-বৃদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায় । এ সময়ে অনেক শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ- সস্তানও মুসলমান নৃপতিগণের সভায় সম্মানিত ও নানা উপাধিতে বিভূষিত, আবার অনেকে উচ্চ রাজকীয়পদে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিলেন, রাঢ়ীয় ও বারেন্দ্র ব্রাহ্মণদিগের প্রাচীন কুলগ্রস্থ হই- তেই তাহার পরিচয় পাওয়া গিয়াছে । মুসলমান-নৃপতিগণ সাধারণ ফৌজদারী বিভাগে মুসল-
- বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, ব্রাহ্মণ কাণ্ড, ১ মাংশ, ১৯২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
+ বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, ব্রাহ্মণকাণ্ড, ৬ষ্ঠ অংশ দ্রষ্টব্য ।