পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(8 বারমুখীর অনুতাপ । বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । সে পাষণ্ড এই কথা কহিলা যখন। প্রহার করিতে তারে চাহে গ্ৰাম্য জন ॥ প্রভু বলে ভাই সব মারিবে কাহারে। হরি-নাম-সুধা পান করাও উহারে ॥ পিপাসায় শুষ্ক কণ্ঠ হয়েছে উহার। উহার বদনে সুধা দেহ একধার ॥ ভক্তি বিনা শুকায়েছে উহার হৃদয় । নাম দিয়া নাশহ উহার যম-ভয় ॥ মরুভূমি-সম হয় পাষণ্ডের মন । , উৎপাদিক-শক্তি তাহে করছ অৰ্পণ ॥ এস সাধু মোর কাছে হরিনাম দিব। তোমার পাপের ভার উতারিয়া নিব ৷ সব তাপ দূর হবে এই মন্ত্র-বলে। হরি-নাম-মন্ত্র-পাঠে সদ্য ফল ফলে ॥ এই মহামন্ত্র পাঠ করে যেই জন । সে পাপী নরকে কভু না করে গমন ॥ এমন সুলভ মন্ত্র থাকিতে জগতে । পাপী কেন অনর্থক ফিরে মন্দ পথে ॥ এত বলি মহাপ্রভু তার কাছে গিয়া । হরি-নাম-সুধা কর্ণে দিলেন ঢালিয়া ॥ দয়াল চৈতন্ত্য জীবে করিতে নিস্তার । ভ্ৰমিছেন ইতিউতি হয়ে নিৰ্ব্বিকার। জানালা হইতে দেখি এ সব ব্যাপার। বারমুখী মনে মনে করয়ে বিচার। আশ্চৰ্য্য প্রভুর দয়া দেখিয়া নয়নে। আপনারে ধিক্ দেয় বসিয়া নির্জনে ॥ ক্ষণকাল পরে বেশু নামিয়া আসিল । মীরা নামে তার দাসী পিছনে চলিল ॥ বারমুখী বলে তবে বিনয়ে মীরারে। আজি হৈতে সৰ্ব্ব ধন দিলাম তোমারে ॥ বহু অর্থ আছে মোর সব তুচ্ছ করি। আজি হৈতে হইলাম পথের ভিখারী ॥