পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৫৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৪৯২ স্বীয় অপরাধ-কল্পনা। বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । কি দোষে তেজিলা মনে ভাবিয়া না পাই । নহে এথা এ যে ব্যথা কহিয়া পাঠাই ॥ ভাবি ভাবি পড়ে মাত্র এই দোষ মনে। শুয়েছিলাম পুষ্পশয্যা-নিশিতে যখনে ॥ করিলা যতন যত রস মনে করি। না মানিয়াছিল তখন অভাগিনী নারী ॥ পতি-ধন কেমন কেমন কোন রস। নাহি ছিল জ্ঞান মাত্র নিদ্রায় অলস ॥ তাথে কৈয়াছিল অতি কোপ করি মনে। দিবা তার প্রতিফল বিদেশ-গমনে ॥ বিচ্ছেদে ছাড়িয়া যাবা বিরহিণী করি। ছাড়িব ভূষণ বেশ শোকে তোমা স্মরি। পাণ্ডুরিত হবে গণ্ড রুক্ষ হবে কেশ। প্রোষিতভৰ্ত্তকা হৈয়া করিব আবেশ ॥ বুঝি প্রাণনাথ মোরে তেমতি করিলা । কৈশোরের অপরাধে অবলা ছলিলা ॥ পাই সে সাজাই আসি দেখহ নয়নে। (১) হীনতনু স্থনেত্রীর হইছে ভূষণে (২) । হইছে পাণ্ডুর গণ্ড রুক্ষ কেশ অতি। ঘরে আসি দেখ মোর এ সব দুৰ্গতি ॥ রহিয়াছি চিরবিরহিণী দীন মনে । অর্পণ করিয়া আখি তোমা পথ-পানে ॥ নয়নে সতত নীর অন্তর কাতর। এবে রোষ তেজি ঘরে অগসহ সত্বর ॥ সকল ফলিছে নাথ বলিছ যেমন । ঘরে আসি দেখ নারী হইছে কেমন ॥ বস্ত্র বুকে না রাখিছ বিচ্ছেদ লাগিয়া । এখনে কেমনে আছ মনে পাসরিয়া ॥ (১) সেই শাস্তিই পাইতেছি, আসিয়া চক্ষে দেখিয়া যাও। (২) তনু ভূষণহীন হইয়াছে।