পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৭৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


›ፃ »: বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । আমার সঙ্গে তোকে মোয়া দিব এইরূপে ভুলাইয়৷ সঙ্গে লইয়া বাজারে গিয়া এক মুদির দোকানে ঐ বালককে বন্ধক রাখিয়া তৈল লবণ লৈয় ঘরে আইল । তৎপিতা জিজ্ঞাসিল কিরূপে তৈল লবণ আনিলি । ঠক কহিল এক ছোড়াকে ভুলাইয়া বন্ধক দিয়া মুদি শালাকে ঠকিয়া আইলাম। ইছা শুনিয়া তৎপিত কহিল ইঁ। মোর বাছা এই তো বটে না হবে কেন আমার পুত্র ভাল অন্ন করিয়া খাইতে পরিবে। এইরূপে পুত্রের ধন্যবাদ করিয়া ভাৰ্য্যাকে কহিল ওলো মাগি যা যা শীঘ্র পিট করি গ ক্ষুধাতে বাচি না। অনন্তর তৎপত্নী পিষ্টক করিতে আরম্ভমাত্র করিয়া ভৰ্ত্তার নিকটে আসিয়া একপাশে মুখে কাপড় দিয়া চুপ করিয়া দাড়াইল ও কহিল তোমার ত পিটা করা হইল না তুমি গিয়া কর।... . . - - - ইহা কহিয়া কিঞ্চিৎকাল থাকিয়া কহিল না খাইলে ত নয় যাই আমিই করি গিয়া। এইরূপ কহিয়া আপনি পিষ্টক পাক করিয়া থালেতে পরিবেশন করিয়া কৃপা হইতে গুড় ঢালিতে প্রথম খানিক গুড় পড়িয়৷ তদুপরি এক কালে কতকগুলা পঙ্ক কর্দম পড়িল। ইহা দেখিয়া গতিক্রিয়া কহিল খাও এখন পিট খাও যেমন মতি তেমন গতি । অনন্তর তৎপতি গালে হাত দিয়া অধোমুখ হইয়া কিঞ্চিৎকাল থাকিয়া কহিল যা যা তুই আর পোড়াস্ নে যার যেমন কপাল তার তেমনি সকলি মিলে। কিন্তু যা হউক বেটা ভাল বটে আমি বিশ্ববঞ্চক আমাকেও বঞ্চনা করিল বাপের বেটা বটে এ ব্যক্তি যেখানে থাকুক সেখানে গিয়া তাহাকে খুজিয়া তাহার সঙ্গে বন্ধুয়ালি করিতে হইল। ইহা কহিয়া । যথাকথঞ্চিদ্রপে কিঞ্চিভোজন করিয়া তদন্বেষণে চলিল। পরে কিছুদিনের পর এক দিবস ঐ বিশ্বভণ্ডকে দেখিতে পাইয়া দূর হৈতে ডাকিতে লাগিল ওহে বন্ধু থাক থাক তোমাকে কোল দিয়া আমি তোমার সহিত বন্ধুত করিব। এতদ্রুপ শব্দ শ্রবণ করিয়া আপাততঃ তটস্থ হইয়া ইতস্ততঃ অবলোকন করিয়া বিশ্ববঞ্চককে দেখিতে পাইয়া কহিল আইস আইস তোমাকেও আমি মনে মনে তত্ত্ব করিতেছি ভাল হইল তোমার সঙ্গে দেখা হইল কহ গুড় কেমন খাইলা । বিশ্ববঞ্চক কহিল তুমি যেমন স্কৃত খাইলা কিন্তু ভাই তুমি আমাকে জিতিয়াছ আমি গুড় কিছুই পাই নাই তুমি ঘ্নত কিঞ্চিৎ পাইয়া থাকিব। সে যা হউক আইস তোমার সঙ্গে কোলাকুলি করি। ইহা কহিয়া দোহে পরস্পর আলিঙ্গন করিয়া অন্তোন্ত মুখাবলোকন পূর্বক হাস্ত করিয়া বৃক্ষচ্ছায়াতে বসিল। অনন্তর বিশ্ববঞ্চক কহিল ভাই তোমার নাম কি। সে কহিল আমার নাম বিশ্বভণ্ড । ইহা শ্রবণমাত্রে হি হি করিয়া হাসিয়া বিশ্ববঞ্চক কহিল তবে তো তুমি আমার মিতা হইলে । ইহা শুনিয়া বিশ্বভও