পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন গদ্য-সাহিত্য-রাজ রামমোহন রায়—১৭৭৪-১৮৩৩ খৃঃ। ১৭৬৩ স্বরূপে কহেন। ২০ । বেদেতে ব্ৰহ্মকে অদৃশু বিশেষণেতে কহেন আর বেদে কহেন যে পণ্ডিত সকল বিশ্বের কারণকে দেখেন অতএব অদৃশু ব্ৰহ্ম বিশ্বের কারণ না হইয় প্রধান অর্থাৎ স্বভাব বিশ্বের কারণ হয় এমন নহে। অদৃশুত্বাদিগুণকে ধৰ্ম্মোক্তে। ২১ অদৃষ্ঠাদি গুণবিশিষ্ট হইয়া জগৎকারণ ব্ৰহ্ম হয়েন যেহেতু সেই প্রকরণের শ্রুতিতে সৰ্ব্বজ্ঞাদি ব্ৰহ্ম ধৰ্ম্মের কথন আছে। যদি কহ পণ্ডিতেরা অদৃশুকে কিমতে দেখেন তাহার উত্তর এই জ্ঞানের দ্বারা দেখিতেছেন। ২১ ৷ বিশেষণভেদব্যপদেশাভ্যাঞ্চ নেতরে। ২২ বেদে ব্ৰহ্মকে অমূৰ্ত্ত পুরুষ বিশেষণের দ্বারা কহিয়াছেন আর প্রকৃতির এবং জীব হইতে শ্রেষ্ঠ করিয়া ব্ৰহ্মকে কহিয়াছেন অতএব এই বিশেষণ আর জীব ও প্রকৃতি হইতে ব্ৰহ্ম পৃথক এমত দৃষ্টির দ্বারা জীব এবং প্রকৃতি বিশ্বের কারণ না হয়েন। ২২ ॥ রূপোপন্যাসাচ্চ। ২৩। বেদে কহেন বিশ্বের কারণের মস্তক অগ্নি দুই চক্ষু চন্দ্র স্বৰ্য্য এই মত রূপের আরোপ সৰ্ব্বগত ব্ৰহ্ম ব্যতিরেকে জীবে কিম্বা স্বভাবে হইতে পারে নাই অতএব ব্ৰহ্মই জগৎকারণ। ২৩ ৷ বেদে কহেন বৈশ্বানরের উপাসনা করিলে সৰ্ব্বফল প্রাপ্তি হয় অতএব বৈশ্বানর শব্দের দ্বারা জঠরাগ্নি প্রতিপাদ্য হয় এমত নহে। বৈশ্বানরঃ সাধারণশব্দবিশেষাৎ । ২৪। যদ্যপি আত্মা শব্দ সাধারণেতে জীবকে এবং ব্রহ্মকে বলে এবং বৈশ্বানর শব্দ জঠরাগ্নিকে এবং সামান্ত অগ্নিকে বলে কিন্তু ব্ৰহ্ম ধৰ্ম্ম বিশেষণের দ্বারা এখানে বৈশ্বানর শব্দ হইতে ব্ৰহ্ম তাৎপৰ্য্য হয়েন যেহেতু ঐ শ্রুতিতে স্বৰ্গকে বৈশ্বানরের মস্তকরূপে বর্ণন করিয়াছেন এ ধৰ্ম্ম ব্ৰহ্ম বিনা অপরের হইতে পারে নাই। ২৪ ॥ স্মৰ্য্যমানানুমানং স্তাদিতি । ২৫ মৃতিতে উক্ত যে অনুমান তাহার দ্বারা এখানে বৈশ্বানর শব্দ পরমাত্মা বাচক হয় যেহেতু স্মৃতিতেও কহিয়াছেন যে অগ্নি ব্রহ্মের মুখ আর স্বর্গ ব্রহ্মের মস্তক হয়। ২৫ ৷ শব্দাদিভ্যোহন্তঃপ্রতিষ্ঠানন্নেতি চেন্ন তথা দৃষ্ট পদেশাদসম্ভবাৎপুরুষমপি চৈনমখীয়তে। ২৬ পৃথক পৃথক্ শ্রীতি শব্দের দ্বারা এবং পুরুষে অন্তঃপ্রতিষ্ঠিতং এ শ্রুতির দ্বারা বৈশ্বানর এখানে প্রতিপাদ্য হয় পরমাত্মা প্রতিপাদ্য নহেন এমত নহে যেহেতু উপাসনা নিমিত্ত এ সকল কাল্পনিক উপদেশ হয় আর স্বর্গ এই সামান্ত বৈশ্বানরের মস্তক হয় এমত বিশেষণ অসম্ভব এবং বাজসনেয়ীরা আত্ম পুরুষকে বৈশ্বানর বলিয়া গান করেন। অতএব বৈশ্বানর শব্দে এখানে ব্ৰহ্ম তাৎপৰ্য্য হয়েন। ২৬ ৷ অতএব ন দেবতা ভূতঞ্চ । ২৭ পূৰ্ব্বোক্ত কারণ সকলের দ্বারা বৈশ্বানর শব্দ হইতে অগ্নির অধিষ্ঠাত্রী দেবতা অর্থাৎ পঞ্চভূতের তৃতীয় ভূত তাৎপৰ্য্য নহে পরমাত্মাকে উপাসনার নিমিত্ত বৈশ্বানরাদি শব্দ দ্বারা বর্ণন করিয়াছেন। ২৭ ॥ সাক্ষাদপ্যবিরোধং