পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন গদ্য-সাহিত্য—রাসমৃন্দরী—১৯শ শতাব্দীর মধ্যভাগ । তখন আমি প্রতিবাসিনী বালিকাদিগের সঙ্গে ধূলাখেলা করিতাম। ঐ সকল বালিকা বিনা অপরাধেই আমাকে মারিত। আমার মনে এত ভয় ছিল যে আমি মারি খাইয়াও বড় করিয়া কান্দিতাম না কেবল দুই চক্ষের জল পড়িয়া ভাসিয়া যাইত। আমার যদি অতিশয় বেদনা হইত সে জন্তও কতক কান্দিতাম কিন্তু আমার কাদার বিশেষ কারণ এই যে আমাকে মারিয়াছে আমাদের বাটীতে সকলে শুনিলে উহাকে গালি দিবেন। আর একটা কথা মনে পড়ায় আমি কাদিতাম। এক দিবস আমার মা আমাকে বলিয়াছিলেন তুমি কোন খানে যাইও না। তখন আমি মাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম মা যাবনা কেন। তখন আমার মা বলিলেন আজ বড় ছেলেধরা আসিয়াছে সে ছেলে পাইলে ছালার মধ্যে পূরিয়া লইয়া যায়। মার ঐ কথা শুনিয়া আমার মনে এত ভয় হইল যে আমার এক কালে মুখ শুকাইয়া গেল। আমার ঐ সকল ভয়ের লক্ষণ দেখিয়া আমার মা তাড়াতাড়ি আসিয়া আমাকে কোলে লইয়া এই বলিয়া সাস্থনা করিতে লাগিলেন যাই তোমার ভয় নাই। যে সকল ছেলে দুষ্টামি করে এবং ছেলেপিলেকে মারে ঐ সকল ছেলেকে ছেলেধরায় লইয়া যায়। তোমার ভয় কি তোমাকে লইয়া যাইবে না। মার ঐ কথা আমার মনে মনেই থাকিল। যখন কোন ছেলে আমাকে মারিত তখন মার ঐ কথা আমার মনে পড়িত। মা বলিয়াছেন যে ছেলে ছেলেপিলেকে মারে তাহাকে ছেলেধরায় ধরিয়া লইয়া যায়। অতএব যখন কোন ছেলে আমাকে মারিত তখন ভয়ে আমি বড় করিয়া কাদিতাম না। উহাকে ছেলেধরায় ধরিয়া লইয়া যাইবে কেবল এই ভয়ে দুই চক্ষু দিয়া জল পড়িত। আমাকে মারিয়াছে এই কথাও কাহার নিকট বলিতাম না। আমি কঁদিলে কেহ শুনিবে এই ভয়ে মরিতাম। সকলে জানিত আমাকে মারিলে আমি কাহারও নিকট বলিব না। আমি সকল বালিকাকে ভয় করিতাম এ জন্ত গোপনে গোপনে সকলেই বিনা অপরাধে আমাকে মারিত। এক দিবস আমার সঙ্গিনী একটী বালিকা আমাকে গোপনে বলিল তোমার মায়ের কাছে গিয়া জলপান চাহিয়া আন আমরা দুই জনে গঙ্গাস্নানে যাই। শুনিয়া আমি ভারী আহলাদিত হইয়া মায়ের নিকট গিয়া বলিলাম মা আমি গঙ্গাস্নানে যাইব । মা হাসিয়া বলিলেন গঙ্গাস্নানে যাইবে কি চাও। আমি বলিলাম একটা বোছক চাই। গঙ্গাস্নানের অর্থ আমি বিশেষ কিছুই জানি না এই মাত্র জানি পথে বসিয়া জলপান খায় আর কাপড়ে একটা বোচক বাধিয়া মাথায় করিয়া পথে হাটিয়া যায়। আমার মা আমার ঐ সকল অভিপ্রায় ছেলে-ধরা । ১৭৬৫