পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


6 برS \t: শাশুড়ীর স্নেহ । বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । বলা বাহুল্য। তখন কেবল কান্নাটাই আমার সম্বল হইল। দিবারাত্র কান্নাতেই কালযাপন হইত। আহা জগদীশ্বর তোমার কি আশ্চৰ্য্য ঘটনা । তোমার নিয়মের শত শত ধন্যবাদ দিই। আত্মাধিক জননী এবং স্নেহপূর্ণ পরিবারগণ এ সকলকে ত্যাগ করাইয়া কোথা হইতে কোথায় আনিয়াছ। সেই দিবস রাত্রে নৌকা হইতে ঐ বাটীতে গিয়া দেখিতে লাগিলাম কত প্রকার আমোদ আহলাদ হইতেছে। কত প্রকার লোক দেখিতে লাগিলাম তাহার সংখ্যা নাই। তাহার মধ্যে একজন লোকও আমাদের দেশের নয় কাহাকেও আমি চিনি না এ জন্ত আমি কান্দিতে লাগিলাম। আমার হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া যাইতে লাগিল। আমার এমন হইল যে এক চক্ষে শত ধারে জল পড়িতে লাগিল। সকলে আমাকে সাস্তুনা করিতে লাগিলেন। কান্দিও না এই ঘর এই সংসার এই সকল লোকজন যা কিছু আছে সকলি তোমার। এখন এই বাটীতেই থাকিতে হইবে এই সংসারই করিতে হইবে কি জন্ত কঁাদ আর র্কাদিও না। সে সময় সেই সাস্তুনা বাক্যে প্রাণাধিক প্রিয়তম পিতৃগৃহের পরিবারদিগের আশায় নিরাশ হইয়া আমার মন এককালে শোকানলে দগ্ধীভূত হইয়া গেল। যাহারা এ সকল বিষয়ে ভুক্তভোগী তাহারা বোধ হয় এ প্রকার বাক্য বলিয়া সাস্তুনা করেন না যেমন একজনের সন্তান বিয়োগ হইলে যদি কোন ব্যক্তি তাহাকে সাস্তুনা করেন যে ছি ছি তুমি কাহার জন্ত কঁাদ ও যে তোমার কত জন্মের শত্রু ছিল সে তোমার ছেলে ছিল না তাহা হইলে এমন করিয়া যাইত না এমন ডাকাতের নাম কি আর মুখে আনিতে আছে। এইরূপ বলিয়া সাস্তুনা করিলে কি সাস্তুনা হয় কখনই নহে। এরূপ ব্যাকুলতার সময়ে এ প্রকার সাস্তুনাতে মন কদাপিও শান্ত হইতে পারে না। যেমন জলন্ত অগ্নির উপরে তৃণরাশি দিলে আরো জলিয়া উঠে সেইরূপ ঐ সকল সাস্তুনা বাক্যে শোক সাগর উথলিয়া উঠে। ঐ সকল সাস্তুনা বাক্য শুনিয়া অামার প্রাণ আতঙ্কে উড়িয়া গেল। তখন আমার কোনই সাধ্য নাই কোনও উপায় নাই। কেবল মনে মনে পরমেশ্বরকে ডাকিতেছি আর দুই চক্ষে বারিধারা ঝরিতেছে। তখন আমার শাশুড়ী ঠাকুরাণী আমাকে কোলে লইয়া মধুর বাক্যে সান্থনা করিতে লাগিলেন। আহা পরমেশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। এ কি অপুৰ্ব্ব ঘটনা কৌশলের বালাই লইয়া মরি। কোন গাছের বাকল কোন গাছে লাগিল। র্তাহার সেই কোল যেন আমার মায়ের কোলের মত বোধ হইতে লাগিল। তিনি যেরূপ স্নেহের সহিত কথা কহিতে লাগিলেন তাহাতে