পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>b"oミ জ্ঞান-লাভের উপায় ৰুি ? বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । নিকট মহাভারত পড়িতে আরম্ভ করিলাম। এই গ্রন্থ খুলিবামাত্র একটা শ্লোক আমার চক্ষে ঠেকিল। তাহা এই,—“ধৰ্ম্মে মতির্ভবতু বঃ সততোথিতানাং স হোক এব পরলোকগতস্ত বন্ধুঃ। অর্থাঃ স্ক্রিয়শচ নিপুণৈরপি সেব্যমান নৈবাস্তভাবমুপযান্তি ন চ স্থিরত্বং ॥” তোমাদের ধৰ্ম্মে মতি হউক, তোমরা সতত ধৰ্ম্মে অনুরক্ত হও, সেই এক ধৰ্ম্মই পরলোকগত ব্যক্তির বন্ধু। অর্থ ও স্ত্রীদিগকে নিপুণরূপে সেবা করিলেও তাহাদিগকে আয়ত্ত করা যায় না এবং তাহদের স্থিরতাও নাই। মহাভারতের এই শ্লোকটী পাঠ করিয়া আমার বড়ই উৎসাহ জন্মিল। আমার সংস্কার ছিল যে, সকল ভাষাতেই বাঙ্গলা ও ইংরেজী ভাষার স্তায় বিশেষ্যের অগ্ৰে বিশেষণগুলি থাকে, কিন্তু সংস্কৃতে দেখিলাম যে, বিশেষ্য এখানে, বিশেষণ সেই সেখানে। এইট আয়ত্ত করিতে আমার কিছু দিন লাগিয়াছিল। আমি এই মহাভারতের অনেক অংশ পাঠ করি। ধৌম্য ঋষির উপাখ্যানে উপমনু্যর গুরুভক্তির কথা আমার বেশ মনে পড়ে। এখন তো ঐ বৃহৎ গ্রন্থ অনুবাদিত হইয়া অনেকের পাঠ্য হইয়াছে, কিন্তু তখনকার কালে ঐ মূল গ্রন্থ অল্প লোকেই পাঠ করিত। আমি ধৰ্ম্ম-পিপাসায় উহার অনেকাংশ পাঠ করি। এক দিকে যেমন তত্ত্বান্বেষণের জন্ত সংস্কৃত, তেমনি অপরদিকে ইংরাজী। আমি যুরোপীয় দর্শনশাস্ত্র বিস্তর পড়িয়াছিলাম কিন্তু এত করিয়াও মনের যে অভাব সেই অভাব, তাহা কিছুতেই ঘুচাইতে পারিলাম না। সেই বিষাদের অন্ধকার, সেই অশান্তি, হৃদয়কে অতিমাত্র ব্যথিত করিতেছিল। ভাবিলাম প্রকৃতির অধীনতাই কি মনুষ্যের সৰ্ব্বস্ব ? তবে তো গিয়াছি। এই পিশাচীর পরাক্রম দুর্নিবাৰ্য্য। অগ্নি স্পর্শমাত্র সমস্তই ভস্মসাৎ করিয়া ফেলে। যানযোগে সমুদ্রে যাও, ঘুর্ণবৰ্ত্ত তোমাকে রসাতলে দিবে, বায়ু বিষম বিপাকে ফেলিবে। এই পিশাচী প্রকৃতির হস্তে কাহারও নিস্তার নাই। ইহার নিকট নতশিরে থাকাই যদি চরম কথা হয়, তবে তো গিয়াছি। আমাদের আশা কই, ভরসা কই ? আবার ভাবিলাম যেমন ফটোগ্রাফের কাচ-পাত্রে সূৰ্য্য-কিরণের দ্বারা বস্তু প্রতিবিম্বিত হয়, সেইরূপ, বাহ-ইন্দ্রিয় দ্বারা মনের মধ্যে বাহ-বস্তুর একটা অবভাস হয় ইহাই তো জ্ঞান। এই পথ ছাড়া জ্ঞানলাভের আর কি উপায় আছে ? য়ুরোপের দর্শনশাস্ত্র আমার মনে এইরূপ আভাস আনিয়াছিল। কিন্তু একজন নাস্তিকের নিকট এইটুকুই যথেষ্ট। সে প্রকৃতি ছাড়া আর কিছু চায় না। কিন্তু আমি ইহাতে কিরূপে তৃপ্ত হইব ? আমার চেষ্টা ঈশ্বরকে পাইবার জন্ত,—অন্ধ বিশ্বাসে নয়, জ্ঞানের আলোকে । তাহা না পাইয়া আমার ব্যাকুলত দিন দিন আরও বাড়িতে লাগিল, এক এক বার ভাবিতাম, আমি আর বাচিব না।