পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৯৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৮৭
পরিশিষ্ট—রাধামাধব ঘোষ—১৮শ শতাব্দীর মধ্যভাগ।

কহিতে অভিমন্যুকে সব বিবরণ।
চিরঘাটে যে সকল দেখিল লক্ষণ॥
কুটিলারে জটিলা বলেন ততক্ষণে।
পুত্ত্রকে এ সব আমি বলিব কেমনে॥
তুমি কহ বধূর সকল বিবরণ।
তামাসার তত্ত্বজ্ঞান হইবে এখন॥
আয়ানের নিদ্রা-ভঙ্গ।অভিমন্যু সঙ্গে করি যাহ তথাকারে।
নিজ চক্ষে বল তার রঙ্গ হেরিবারে॥
এত শুনি কুটিলা ভ্রাতৃ কাছে গেল।
নিদ্রায় আছিল তার নিদ্রা ভঙ্গ কৈল॥
কহিল সকল কথা বিশেষ করিয়া।
চিরঘাটে অপরূপ আইনু হেরিয়া॥
নন্দের নন্দন সেই গোপালে লইয়া।
বিহার করিছে বধু তথাকারে গিয়া॥
কাত্যায়নী-পূজাতার সব ভণ্ড পণ।
নিত্য বিহরয়ে তথা নন্দের নন্দন॥

ব্রত পূজা যত তার সকলি কানাই।
দেখিবে যদ্যপি তথাকারে চল ভাই॥
এত শুনি অভিমন্যু করিলা গমন।
হস্তে খড়্গ করি ধায় ঘূর্ণিত নয়ন॥
খড়্গহস্ত অভিমন্যু।হেন অনাচার যদি দেখিব নয়নে।
তবেত তখনি তারে করিব ছেদনে॥
এত বলি মহাক্রোধে যায় গোপমণি।
ক্রোধে অঙ্গ জ্বলে যেন জ্বলন্ত আগুনি॥
প্রভাতের ভানু যেন দুই চক্ষু জ্বলে।
মদমত্ত হস্তী যেন অতি দ্রুত চলে॥
অভিমন্যু-মূর্ত্তি দেখি কাঁপে সর্ব্বজন।
ঘন ঘন শব্দ করে মেঘের গর্জ্জন॥

এই মত অভিমন্যু চলে ব্রজপথে।
কৃতাঞ্জলি করি রাধা কন রাধানাথে॥
শুন শুন প্রাণনাথ অনর্থ ঘটিল।
হের অতি রোধে অভিমন্যু যে আইল॥