পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৯৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৯০০
বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয়।

হরগৌরী-রূপ হের্‌ব বারমাস,
বৎসরান্তে আন্তে যেতে হবে না॥
জামাই আশুতোষ জানি আশুতোষ,
ধুতুরা আর বেলে পরম সন্তোষ,
ভুলে রবে ভোলা যেতে চাবে না॥

( ২ )

গিরি গৌরী আমার এসেছিল।
সে যে স্বপ্নে দেখা দিয়ে, চৈতন্য করিয়ে,
চৈতন্যরূপিণী কোথায় লুকাল॥
দেখা দিয়ে কেন এত দয়া তার,
মায়ের প্রতি মায়া নাহি মহামায়ার,
আবার ভাবি গিরি কি দোষ অভয়ার,
পাষাণের মেয়ে পাষাণী হোল॥

( ৩ )

যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী,
উমা কেমন রয়েছে।
আমি শুনেছি শ্রবণে, নারদ-বচনে,
মা মা বলে উমা কেন্দেছে॥
ভাঙ্গেতে ভাঙ্গড় পীরিতি বড়,
ত্রিভুবনের ভাঙ্গ্‌ করেছে জড়,
ভাঙ্গ খেয়ে ভোলা হয়ে দিগম্বর,
উমারে কত কি কয়েছে॥
উমার বসন ভূষণ, যত আভরণ,
তাও বেচে ভাঙ্গ্‌ খেয়েছে॥

( ৪ )

শরৎকালে রাণী বলে বিনয় বচন।
আর শুনেছ গিরিরাজ নিশির স্বপন॥
মায়া করি গৌরী মোর আঙ্গিনায় আসি।
মা বলিয়া কাঁদলো কত মোর নিকটে বসি॥
রাণী কেঁদে কন বিবাহ দেন পাগল পতির ঠাঞি।
রাত্রি দিনে শ্মশান বিনে আর জানে নাই॥
সে কথা বল্‌তে রাগ করে মার্‌তে আসে ধেয়ে।
অন্ন বিনে প্রাণ বাঁচে না বঞ্চিব কি খেয়ে॥