পাতা:বড়দিদি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
২৫
বড়দিদি
 


বিধবা ননদিনী, একমাত্র পুত্র লইয়া বাস করেন; তাঁহাকে একবার দেখিতে হইবে।

 কাশী যাইবার দিন, সে প্রত্যেককে ডাকিয়া, সংসারের ভার দিয়া গেল। বুড়ী দাসীকে ডাকিয়া, পিতা, দাদা ও প্রমীলাকে বিশেষরূপে দেখিবার জন্য অনুরোধ ও উপদেশ দিয়া দিল; কিন্তু মাষ্টারের কথা কাহাকেও কহিল না! ভুলিয়া যায় নাই— ইচ্ছা করিয়াই বলিল না। সম্প্রতি তাহার উপর একটু রাগ হইয়াছিল। মাধবী তাহার জন্য অনেক করিয়াছে, কিন্তু এখন সে একটা মুখের কথাতেও কৃতজ্ঞতা জানায় নাই। তাই মাধবী বিদেশে গিয়া এই অকর্ম্মণ্য সংসারানভিজ্ঞ উদাসীনটিকে জানাইতে চাহে যে, সে একজন ছিল। একটা কৌতুক করিতে দোষ কি? সে-না থাকিলে ইহার কেমনভাবে দিন কাটে, দেখিতে হানি কি? তাই সে সুরেন্দ্রের সম্বন্ধে, কাহাকেও কিছু বলিয়া গেল না।

 সুরেন্দ্রনাথ প্রব্‌লেম্‌ সল্‌ভ্‌ করিতেছিল। প্রমীলা কহিল, “কাল রাত্রে দিদি কাশী গিয়াছেন।” কথাটা তাহার কানে গেল না। কিন্তু দিন-দুই-তিন পরে যখন সে দেখিতে পাইল, দশটার সময় আহারের জন্য আর পীড়াপীড়ি হয় না,— কোন দিন বা একটা দুইটা বাজিয়া যায়; স্নানান্তে কাপড় ছাড়িতে গিয়া, বোধ হয়, সেগুলি আর তেমন পরিষ্কার নাই, জলখাবারের থালাটা তেমন সযত্ন সজ্জিত নহে। রাত্রে গ্যাসের চাবি কেহ বন্ধ করিতে আসে না, পড়ার ঝোঁকে দুইটা তিনটা বাজিয়া যায়। প্রাতঃকালে নিদ্রাভঙ্গ হয় না, উঠিতে বেলা হয়, সমস্ত দিন চোখের পাতা ছাড়িয়া ঘুম কিছুতেই যাইতে চাহে না! শরীর যেন বড় ক্লান্ত হইয়া পড়িতেছে,