পাতা:বড়দিদি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৫৩
বড়দিদি
 


উঠে। সামান্য স্ত্রীলোকের মত ঝগড়া-কলহে তাহার যে কত ঘৃণা তাহা শুধু সে-ই জানে!

 একদিন সে শিবচন্দ্রকে ডাকিয়া বলিল, “দাদা, আমি শ্বশুর-বাড়ী যাব।” শিবচন্দ্র বিস্মিত হইল। “সে কি মাধবী, সেখানে ত কেউ নেই!” মাধবী মৃত স্বামীকে উদ্দেশ করিয়া বলিল, “ছোটভাগ্নে কাশীতে ঠাকুরঝির কাছে আছে, তাকে নিয়ে আমি গোলাগাঁয় বেশ থাক্‌ব।”

 পাবনা জেলার গোলাগাঁয়ে মাধবীর শ্বশুর-বাড়ী। শিবচন্দ্র অল্প হাসিয়া বলিল, “তা কি হয়, সেখানে যে তোর বড় কষ্ট হবে।” “কেন কষ্ট হবে দাদা? বাড়িটা এখনো প’ড়ে যায়নি। দু’বিঘা দশ বিঘা জমি-জিরাতও আছে, একটি বিধবার কি তাতে চলে না?” “চলার কথা নয়। টাকার ভাবনা নেই, কিন্তু তোর যে বড় কষ্ট হবে, মাধবি!” “কষ্ট কিছুই নয়।” শিবচন্দ্র কিছু ভাবিয়া বলিল, “কেন যাবি বোন্‌? আমাকে সব খুলে বল্‌ দেখি, আমি সব মিটিয়ে দিচ্ছি।” ইতিপূর্ব্বে শিবচন্দ্র, বোধ হয়, স্ত্রীর নিকট ভগিনীর বিরুদ্ধে কিছু শুনিয়া থাকিবে। সম্ভবতঃ তাহাই মনে হইয়াছিল! লজ্জায় মাধবীর সমস্ত মুখ রাঙা হইয়া উঠিল। সে বলিল, “দাদা, তুমি কি মনে কর, আমি ঝগড়া ক’রে তোমার বাড়ি থেকে যাব?” শিবচন্দ্র নিজেও লজ্জিত হইল। তাড়াতাড়ি কহিল, “না, না, তা নয়। আমি ও-কথা বলিনে,– কিন্তু এ বাড়ী চিরদিনই তোমার, আজ কেন তবে চ’লে যেতে চাও?” যুগপৎ দুই জনেরই সেই স্নেহময় পিতার কথা মনে পড়িল। দুই জনের চক্ষেই জল দেখা দিল। চোখ মুছিয়া