পাতা:বত্রিশ সিংহাসন - নীলমণি বসাক.pdf/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দ্বাবিংশ পুত্তলিকা।

১৫৯

জন্মে। ইহা বলিয়া, মন্ত্রীর প্রতি সন্তোষের চিহ্রস্বরূপ তাহাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব প্রদান করিয়া, সকল রাজকার্যের ভারার্পণ করিলেন। পরে, যে চারি বালককে অরণ্য গৃহে রাখিয়াছিলেন তাহাদের বিবাহ দেওয়াইলেন, এবং তাহাদিগের সংসারযাত্রা নির্বাহ জন্য অনেক বিত্ত সম্পত্তি প্রদান করিলেন।

 এতাবৎ বর্ণন করিয়া পুত্তলিকা কহিল, হে ভোজরাজ, কলিযুগে এমত ধর্মাত্মা সত্যপ্রিয় জিতেন্দ্রিয় মনুষ্য কোথায়। যে ব্যক্তি এমত পণ্ডিত, জ্ঞানবান, ও ঐশ্বর্যশালী হইয়া আপনার বিদ্যা বা পরাক্রমের গৌরবে গতি না হন, এবং আপন বাক্যের দৃঢ়তা না করিয়া, কেহ কোন কথা বলিলে তাহার পরীক্ষা এবং বিচার করেন, তাহাকে অবশ্যই সদগুণান্বিত বলিয়া ব্যাখ্যা করা যাইতে পারে। হে ভোজরাজ তুমি এমত গুণশালী নহ, অতএব কি প্রকারে সিংহাসনারোহণ করিতে চাহ, এ দুরাশ পরিত্যাগ কর।

 রাজা এই কথায় বিমর্শযুক্ত হইয়া তথা হইতে গাত্রোত্থান পূর্ব্বক অন্তঃপুরে প্রস্থান করিলেন। রাত্রে শয়ন করিয়া ভাবিতে লাগিলেন আমার কুগ্রহে এই সকল ক্লেশ দিতেছে, আমার অদৃষ্টের দোষ কবে খণ্ডিবে এবং সিংহাসনারোহণ করিয়া আমি কবে চরিতার্থ এই প্রকার চিন্তাতে নিশাবসান হইল। প্রত্যুষে রাজা সভায় আসিয়া পুনর্বার সিংহাসনারোহণে উদ্যত হইলে,